যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে ‘অংশগ্রহনমূলক নির্বাচনের’ বিষয়ে মন্তব্য করবে না: যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তা

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের সফররত একজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, বাংলাদেশের অংশগ্রহনমূলক নির্বাচনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র চায় অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

 

 

মার্কিন উপ-সহকারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরিন আখতার শনিবার রাজধানীতে বাসসের কূটনৈতিক প্রতিবেদক তানজিম আনোয়ারকে বলেন, ‘অংশগ্রহনমূলক নির্বাচন হবে কি না সে বিষয়ে আমরা কোন মন্তব্য করছিনা। আমরা (বাংলাদেশে)নির্বাচনের পরিবেশের ওপরই গুরুত্ব দিচ্ছি।’

তিনি বলেন,‘ নির্বাচনে তারা অংশ নেবে কি নেবেনা রাজনৈতিক দলগুলো নিজেরাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে এবং নির্বাচন অংশগ্রহনমূলক হতে হবে কিনা আমরা এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করছিনা।’

পদস্থ এই মার্কিন কূটনীতিক আরো বলেন, ‘তার দেশ কোন বিশেষ দল বা প্রার্থীর ব্যাপারে হস্তক্ষেপ বা মূল্যায়ন করছিনা। তবে আমরা এখানে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে সহায়তায় কাজ করছি।’

 

 

বিএনপি অথবা অন্য কোন দলের নির্বাচনে অংশগ্রহনের বিষয়ে ওয়াশিংটন উদ্বগ্ন কিনা প্রশ্ন করা হলে আখতার এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আমি আরো বলতে চাই যে, যুক্তরাষ্ট্র কোন রাজনৈতিক দল, কোন প্রার্থী, কোন ব্যক্তিকে সমর্থন করেনা। আখতার বলেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচনে আমরা মধ্যস্থতা করতে চাইনা।’

আখতার বর্তমানে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের নেপাল, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, ভুটান ও মালদ্বীপ সংক্রান্ত দক্ষিণ ও মধ্যএশিয়া ব্যুরোর দায়িত্বে আছেন।

 

আমাদেরকে গুগল নিউজে ফলো করুন

 

মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রকে সমর্থন করে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে যে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থাই সর্বোত্তম এবং এই নীতিতেই তার দেশ বিশ্বব্যাপী সুশীল সমাজ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে সমর্থন করে।

তিনি বলেন, “আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে, সুশীল সমাজের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করার সুযোগ রয়েছে, বিরোধী রাজনৈতিকদলগুলোর স্বাধীনভাবে নিজেদের মত প্রকাশ করার সুযোগ রয়েছে এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ দেয় এমন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তা বলেন, ওয়াশিংটন আগামী মাসগুলোতে বাংলাদেশে প্রাক নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে মিশনের সফরের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করা হয়নি।

আখতার বলেন, “আগামী কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র একটি প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনে (বাংলাদেশে) সমর্থন দিতে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের স্বাগত জানিয়েছেন।”

 

 

তিনি বলেন, “আমরা সম্প্রতি বাংলাদেশর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকেও সেই বার্তা শুনেছি।”
মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, মার্কিন প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর ওয়াশিংটন একটি মূল্যায়ন করবে এবং আসন্ন নির্বাচনের সময় বাংলাদেশে একটি পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

গত মাসে, ওয়াশিংটনে তার মার্কিন সমকক্ষ অ্যান্টনি জে ব্লিঙ্কেনের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছিলেন যে, বাংলাদেশ মার্কিন পর্যবেক্ষকদের স্বাগত জানাবে।

আখতার ১২ থেকে ১৩ মে ঢাকায় আয়োজিত ৬ষ্ঠ ভারত মহাসাগর সম্মেলনে (আইওসি) মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন ।

আরও দেখুনঃ

বিএনপির কূটকৌশল সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ করা হবে: ওবায়দুল কাদের

বিএনপির কূটকৌশল সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘তারা হুমকি দিচ্ছে নির্বাচন হতে দেবে না। নির্বাচনে আসবে না এটা তাদের ইচ্ছা। তবে নির্বাচন হতে দেবে না এটা সম্ভব নয়। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র রুখে দেয়া হবে। আওয়ামী লীগ কচু পাতার ওপর ভোরের শিশির বিন্দু নয়।’

 

 

বিএনপির কূটকৌশল সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ করা হবে: ওবায়দুল কাদের আজ রোববার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমন্ডলীর সভায় এ কথা বলেন।

বিএনপির আন্দোলন নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি ও তাদের দোসররা নাকি আন্দোলনের ঝড় সৃষ্টি করবে, আর সেই ঝড়ে নাকি সরকারের পতন হবে। বাস্তবতা হচ্ছে বিএনপির ঝড় তোলার কোনো সামর্থ্য নেই, তাই গলাবাজি দিয়ে নিজেদের অক্ষমতা ঢাকতে চাচ্ছে।

তিনি বলেন, পৃথিবীর কোথাও গণআন্দোলনে জনগণের সম্পৃক্ততা না থাকলে কখনও তা সফল হয়নি। বিদেশি দূতাবাসগুলোতে নালিশ করে দেশকে ছোট করছে।

 

 

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমার একটা কথা বারবার বলেছি, পরিষ্কার বলছি, তাদের (বিএনপির) কর্মসূচির পাল্টাপাল্টিতে আমরা নেই। আমরা একটা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে চাই। সে কারণে আমরা শান্তির সমাবেশ করছি।

তিনি বলেন, তারা হুমকি দিচ্ছে নির্বাচন করতে দেবে না। নির্বাচনে তারা আসবে না এটা তাদের ইচ্ছা, নির্বাচন হতে দেবে না এমন ধরনের যে সংকল্প ব্যক্ত করে তারা রুখে দাঁড়াবে, আমরাও দেখব, কে কাকে রুখে দাঁড়ায়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকে দেশ দুটি ধারায় বিভক্ত।  একদিকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারা, অপরদিকে সাম্প্রদায়িক ধারা যার নেতৃত্ব দিচ্ছে বিএনপি।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির রাষ্ট্র মেরামতের কর্মসূচিতে মানুষ বিভ্রান্ত হয়নি। আজকে তাদের নেতাকর্মীরা বুঝে গেছে মুখের গলাবাজি বাস্তবে মরিচিকা। আন্দোলনের পথরেখা থেকে নিজেরা সরে গেছে। তাদের জোটে অনৈক্য। উইকেটের পতন ঘটছে। এখন ১৪/১৫ টা দল আছে মনে হয়। তাদের নেতা নেই। নেতা ছাড়া আন্দোলন দুঃস্বপ্ন।

 

 

জিয়াউর রহমানের নামে হত্যা মামলা দায়ের সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এই মামলা দল বা সরকার দায়ের করেনি। একজন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি মামলা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘূর্ণিঝড়ের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’র বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রশাসনকে বিভিন্ন নির্দেশনাও দিচ্ছেন তিনি।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সরকারি ও বেসরকারিভাবে প্রস্তুতি ছিল। ঘূর্ণিঝড়ে কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হোক আমরা সেটাই চাই। দলের পক্ষ থেকেও সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় সাংগঠনিক নেতৃবৃন্দকে করণীয় সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে।

 

আমাদেরকে গুগল নিউজে ফলো করুন

 

বৈঠকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, এসএম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ও সুজিত রায় নন্দী, প্রচার সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাপা, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, উপপ্রচার সৈয়দ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল শামীম এবং উপদপ্তর বিষয়ক সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরও দেখুনঃ

দেশের উন্নয়নের ধারা সমুন্নত রাখতে প্রকৌশলীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকৌশলীদের দেশের উন্নয়নের মূল শক্তি হিসেবে অভিহিত করে তাদের বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাকে সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

 

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে এবং আপনাদের (প্রকৌশলী) কাছে এটাই আমার একমাত্র চাওয়া। ইনশাআল্লাহ, বাংলাদেশের উন্নয়নের যাত্রা কেউ ঠেকাতে পারবে না।’

প্রধানমন্ত্রী আজ আইইবি প্রাঙ্গণে ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর ৬০তম কনভেনশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ আহবান জানান।

দেশের জনগণের উন্নয়নে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা (প্রকৌশলী) দেশের উন্নয়নের মূল শক্তি।’

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের দায়িত্বে থাকায় বাংলাদেশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবাই আন্তরিক থাকবেন ‘যাতে আমরা উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে পারি।’

 

 

‘আমাদের লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’  হিসেবে গড়ে তোলা’ এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা ‘ডেল্টা প্লান-২১০০’ বাস্তবায়ন করবে যাতে দেশের কেউ আর ভোগান্তির শিকার না হয় এবং এতে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম একটি সম্মানজনক ও উন্নত জীবন পাবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি আশা করি, আপনারা (প্রকৌশলীগণ) বিষয়টি মনে রেখে কাজ করবেন।’

তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, তাঁর সরকার কখনোই কোনো অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রকল্প গ্রহণ করে না। তিনি বলেন, ‘আমরা অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রকল্প গ্রহণ করি না।’

সরকার প্রধান বলেন, যে বিষয়টির উপর তিনি সর্বদা জোর দেন তা হল কোন পরিকল্পনা দেশের জনগণের জন্য সর্বোত্তম সুবিধা বয়ে আনবে এবং সরকার তা থেকে আয় করতে সক্ষম হবে।তিনি আরও বলেন, ‘মেগা প্রকল্প নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেছেন। কিন্তু প্রকল্পগুলো শেষ

হলেই এর সুফল সাধারণ মানুষ ভোগ করছে।’

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, যারা এসব মেগা প্রকল্পের সমালোচনা করেন, তারা কী বলতে চান।

তিনি বলেন, ‘আমরা যে প্রকল্পই নিই না কেন, প্রথমেই আমরা ভাবি দেশের মানুষ কতটা উপকৃত হবে। আর সেই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে কী রিটার্ন হবে এবং কত দ্রুত সেটা আসবে।’

 

 

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি কখনোই কোনো দেশ বা কোনো সংস্থার দেওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থের কোনো প্রকল্প গ্রহণ করেন না যা দেশ ও জনগণের জন্য কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না।

তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের (প্রকৌশলীদের) অবহিত করতে চাই এবং আমি এটা কখনই মেনে নেব না। কারণ, আমি সেটাই করবো, যা আমাদের দেশের জন্য প্রযোজ্য হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার যে উন্নয়ন করেছে তা রাজধানী কেন্দ্রিক নয়। আমরা গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত উন্নয়ন করেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকার বিদুৎ সরবরাহ, যোগাযোগ ব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হওয়ায় গ্রামাঞ্চল থেকে শহরে অভিবাসনের প্রবণতা কমেছে।

সারাদেশে শতাধিক অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, নির্বিচারে কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, ‘আমরা শিল্পায়নের জন্য বিশেষ অঞ্চল সৃষ্টি করেছি- যেখানে সব ধরনের সেবা পাওয়া যাবে। খাদ্য উৎবাদন অব্যহত রাখতে আমাদেরকে আবাদী জমিকে রক্ষা করতে হবে।’

 

আমাদেরকে গুগল নিউজে ফলো করুন

 

তিনি দেশে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও কৃষিখাতে দীর্ঘ সময় ধরে ভর্তুকি দেওয়া অব্যাহত না রাখার বিষয়ে তাঁর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমাদের এই ভর্তুকির পরিমাণ কমাতে হবে। এটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে।’

আইইবি’র সভাপতি প্রকৌশলী মো. নজরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন আইইবি’র সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. শাহাদাত হোসেন (শিবলু)।

আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোল্লা মো. আব্দুল হোসেন স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অনারারি সেক্রেটারি প্রকৌশলী কাজী খাইরুল বাশার অনুষ্টানে যোগদানকারী সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের ওপর গানসহ একটি ভিডিও প্রদর্শিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্তরের প্রকৌশলী, কেন্দ্র, উপ-কেন্দ্র, প্রকৌশল বিভাগ ও এএমআরই বিভাগের স্নাতকদের হাতে পুরস্কার (স্বর্ণপদক) ও সনদপত্র তুলে দেন।

আরও দেখুনঃ

হজ প্যাকেজের বিমান ভাড়া ১ লাখ ৪৫ হাজার করার নির্দেশনা চেয়ে আবেদন

হজ প্যাকেজের বিমান ভাড়া ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা থেকে কমিয়ে এক লাখ ৪৫ হাজার টাকা করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে।

 

 

হজ প্যাকেজের বিমান ভাড়া ১ লাখ ৪৫ হাজার করার নির্দেশনা চেয়ে আবেদন

এ সংক্রান্ত ইতোপূর্বে দায়েরকৃত রিটে এ সম্পূরক আবেদন করেন রিটকারী আইনজীবী আশরাফ-উজ-জামান।
বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলতি মৌসুমে নির্ধারণ করা হজের খরচ ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮ টাকা থেকে কমানোর নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী আশরাফ-উজ-জামান। এর মধ্যে ২২ মার্চ ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় বর্তমান হজ প্যাকেজের মূল্য ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৫ টাকা থেকে ১১ হাজার ৭২৫ টাকা কমিয়ে ৬ লাখ ৭১ হাজার ২৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ প্যাকেজের মূল্য ৬ লাখ ৭২ হাজার ৬১৮ টাকা থেকে ১১ হাজার ৭২৫ টাকা কমিয়ে ৬ লাখ ৬০ হাজার ৮৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

 

চলতি মৌসুমে বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ করতে সৌদি আরব যেতে পারবেন। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৫ হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ১২ হাজার ১৯৮ জন হজ পালনের অনুমতি পাবেন।
পরে ২ এপ্রিল হাইকোর্ট সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলতি মৌসুমে ‘অতিরিক্ত খরচ’ নির্ধারণ করা সংবলিত প্রজ্ঞাপন জনস্বার্থ পরিপন্থী বলে কেন আইনগত কর্তৃত্ব বর্হিভূত হবে না এবং প্রতিযোগিতামূলক বিমান ভাড়ার ভিত্তিতে বাংলাদেশ থেকে হজ যাত্রী বহনে সকল আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সকে সুযোগ দিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে।

 

আমাদেরকে গুগল নিউজে ফলো করুন

 

চার সপ্তাহের মধ্যে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব,ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক এবং হজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশকে (হাব) রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
রিটকারী আইনজীবী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ-সৌদি-বাংলাদেশ রুটে প্লেন ভাড়া ৭৬ হাজার টাকা থেকে এক লাখ ১০ হাজার টাকা। প্রতি বছর দুই দেশের সরকার হজ যাত্রীদেরকে সৌদি ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকেট কিনতে বাধ্য করে। এ কারণে টিকেট কিনতে হজ যাত্রীদের স্বাধীনতা ধ্বংস হয়।

আরও দেখুনঃ

বাংলাদেশ চলতি বছরের মধ্যেই হংকং কনভেনশন অনুমোদন করবে : শিল্পমন্ত্রী

বাংলাদেশ ২০২৩ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থা (আইএমও) প্রবর্তিত দি হংকং কনভেনশন অনুমোদন করবে।

 

 

বাংলাদেশ চলতি বছরের মধ্যেই হংকং কনভেনশন অনুমোদন করবেঃ শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন আজ বুধবার রাজধানীর মতিঝিলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের (শিল্প ভবন) সম্মেলন কক্ষে নরওয়ের একটি প্রতিনিধিদলের সাথে এক দ্বি-পাক্ষিক সভায় একথা জানান।

নরওয়ের জলবায়ু ও পরিবেশ বিষয়ক উপমন্ত্রী রাগনহিল্ড সজোনার সিরস্টাড এ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।

নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শিল্পে বাংলাদেশ পরিবেশ ও পেশাগত সুরক্ষার পাশপাশি স্বাস্থ্য বিষয়ে উল্লেখ্যযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে।

 

 

পরিবেশ দূষণ রোধ করতে না পারা, বিভিন্ন রকম দুর্ঘটনা এবং দেশে-বিদেশে নানা নেতিবাচক প্রচারের কারণে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প-খাত বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি  বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী সিদ্ধান্তের জন্য জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শিল্প’র আরো অগ্রগতি হয়েছে। শেখ হাসিনার সরকার ২০১১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাত কার্যক্রমকে ‘শিল্প’ হিসেবে ঘোষণা করেন।

মন্ত্রী বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয় জাহাজ পুনঃপ্রক্রয়াজাতকরণ শিল্পের পরিচালনা, উন্নয়ন ও বিকাশের অংশ হিসেবে ২০১১ সালে ‘শীপ ব্রেকিং এন্ড শীপ রিসাইক্লিং রুলস্’ জারি এবং ২০১৮ সালে ‘বাংলাদেশ জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ আইন’ প্রণয়ন করে।

নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, বাংলাদেশ জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী এ সংক্রান্ত একটি প্রশিক্ষণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট স্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি নরওয়ের সহযোগিতা কামনা করেন।

নরওেয়র প্রতিনিধিদলে ছিলেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত এসপেন ইকটার-সেভেনডসেন, নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং নরওয়ের জাহাজ মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ।

এছাড়াও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা, অতিরিক্তি সচিব মো: জাফর উল্লাহ ও শেখ ফয়েজুল আমীন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

 

 

নরওয়ের উপমন্ত্রী ‘হংকং কনভেনশন’ অনুমোদনে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এ কনভেনশন অনুমোদনের ফলে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ পাবে।

নরওয়েকে জাহাজ নির্মাণকারী জাতি হিসেবে অভিহিত করে রাগনহিল্ড বলেন, মেয়াদকাল শেষ হয়ে যাওয়ায় নরওয়েতে প্রচুর জাহাজ রিসাইক্লিংয়ের  অপেক্ষায় আছে। বাংলাদেশী ইয়ার্ডগুলি এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে লাভবান হতে পারে। এজন্য পরিবেশগত ও নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘দি হংকং কনভেনশন’ ২০২৩ সালের মধ্যে অনুমোদন করা হলে বাংলাদেশ এ সংক্রান্ত শর্তগুলি প্রতিপালন করার জন্য আরও দুই বছর সময় পাবে ।

নরওয়ের উপমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের শিপ রিসাইক্লিং শিল্পের উন্নয়নে নরওয়ে বিগত এক দশক ধরে সহযোগিতা করে আসছে। ফলে ইতোমধ্যে বাংলাদেশে এ শিল্পের ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে। এ শিল্পের আধুনিকায়ন এবং সমুদ্র ও শিল্প বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নরওয়ের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান। রাগনহিল্ড সজোনার জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ কাজে সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব শিপ রিসাইক্লিং শিল্পের উন্নয়নে নরওয়ের সাথে দীর্ঘদিনের কারিগরি সহযোগিতার কথা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প ক্রমেই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করছে। ‘আমরা গত ৮ মে এ সংক্রান্ত একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করেছি’।

 

আমাদেরকে গুগল নিউজে ফলো করুন

 

জাকিয়া সুলতানা জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প-খাতে শ্রমিক ও জনবলের দক্ষতা বাড়াতে নরওয়ে থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া ও কারিগরি সহায়তা বাড়ানোর জন্য নরওয়ের উপমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

উল্লেখ্য,জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম প্রধান দেশ। বাংলাদেশে ১৬৭টি জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ ইয়ার্ড রয়েছে। এসব ইয়ার্ড বন্দরনগরী চট্রগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলাতে অবস্থিত। তবে, কার্যকর ইয়ার্ড হচ্ছে ৫০টি। বাংলাদেশের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা বছরে ১০ মিলিয়ন মেট্রিক টনেরও অধিক।

বাংলাদেশের ইয়ার্ডগুলি পৃথিবীর ৫২ দশমিক ৪ শতাংশ জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ করে থাকে।

আরও দেখুনঃ

বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন

Exit mobile version