Category Archives: ক্রীড়া

ক্রীড়া

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন মেসির আর্জেন্টিনা

শেষ পর্যন্ত ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা নিয়েই বাড়ি ফিরছেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন মেসির আর্জেন্টিনা। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে অধিনায়ক মেসিকে হতাশ করেনি আর্জেন্টাইন সতীর্থরা। কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালে লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে ফাইনালের মঞ্চ যেন সাজানো ছিল শুধুমাত্র এ সময়ের বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির জন্যই।

 

 

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন মেসির আর্জেন্টিনাঃ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে ৪-২ গোলে পরাজিত করে তৃতীয়বারের মত বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলেছে আর্জেন্টিনা। এটি ৩৫ বছর বয়সী লিওনেল মেসির শেষ বিশ^কাপ ও প্রথম শিরোপা।

বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে আট বছর আগে ফাইনালে গিয়েও লিওনেল মেসির হাতে বিশ্বকাপের শিরোপা উঠেনি। সেই স্বপ্ন আজ পূরণ হলো।

নির্ধারিত সময়ের ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে উভয় দল একটি করে গোল করে । এতেই ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় টাই ব্রেকারে। এমবাপ্পের হ্যাটট্রিকেও ফ্রান্সের শেষ রক্ষা হলোনা। মেসির পেনাল্টি ও ডি মারিয়ার গোলে প্রথমার্ধেই ২-০ ব্যবধানে লিড নেয় আর্জেন্টিনা। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শেষভাগে কিলিয়ান ৯৭ সেকেন্ডের ব্যবধানে জোড়া গোলে ফ্রান্স দারুনভাবে লড়াইয়ে ফিরে আসে।

এরপর অতিরিক্ত সময়ে ১০৮ মিনিটে আবরো মেসি আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। ১১৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে হ্যাটট্রিক পূরনের পাশাপাশি দলকে আবারো সমতায় ফেরান দুর্দান্ত এমবাপ্পে।

টাইব্রেকারে প্রথম দুই শটেই এমবাপ্পে ও মেসি নিজ দলকে এগিয়ে রাখেন। কিন্তু পরের শটটি কিংসলে কোম্যানকে রুখে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক মার্টিনেজ। কিন্তু বদলী খেলোয়াড় পাওলো দিবালা ভুল করেন। ফ্রান্সের তৃতীয় শটটি বাইরে পাঠান অরিলিয়েন টিচুয়ামেনি।

পরের শটে লিনদ্রো পারেডেস গোল করে আর্জেন্টিনাকে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে দেন। চতুর্থ শটে কোলো মুয়ানি ফ্রান্সের আশা বাঁচিয়ে রাখলেও মন্টিয়েলের শট আটকাতে পারেননি লোরিস। এতেই আর্জেন্টিনার স্বপ্নের শিরোপা নিশ্চিত হয়।

 

 

এনিয়ে আর্জেন্টিনা ষষ্টবার ও ফ্রান্স চতুর্থবারের মত ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এনিয়ে ১১ বারের মত বিশ্বকাপের ফাইনালে দক্ষিণ আমেরিকান ও ইউরোপীয়ান দল একে অপরের মোকাবেলা করছে। এর মধ্যে দক্ষিণ আমেরিকান দল সাতবার ও ইউরোপীয়ান দল নিয়েছে তিনটি শিরোপা। তিনটি পরাজয়ের মধ্যে আর্জেন্টিনাই হেরেছে দুটিতে (জার্মানীর বিপক্ষে ১৯৯০ ও ২০১৪)। আরেকবার ১৯৯৮ সালে ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল ফ্রান্স।

লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছিল ফ্রান্স। অসুস্থতা কাটিয়ে দলে ফিরেছেন মিডফিল্ডার আদ্রিয়েল রাবিয়ত। এছাড়া দলে আরো ফিরেছেন সেন্টার-ব্যাক ডায়ট উপামেকানো। এই দুজনই ঠান্ডাজনিত অসুস্থতায় মরক্কোর বিপক্ষে সেমিফাইনালের মূল দলে ছিলেন না। এই অসুস্থতায় ফ্রান্স দলে আরো কয়েকজন আক্রান্ত হয়েছে।

তাদের জায়গা করে দিতে দিদিয়ের দেশ্যম ইউসুফ ফোফানা ও ইব্রাহিমা কোনাটেকে বদলী বেঞ্চে নিয়ে গেছেন। এছাড়া পুরো ফ্রেঞ্চ দল অপরিবর্তিত রয়েছে। শুক্রবার একই উপস্বর্গ নিয়ে অনুশীলন করতে না পারা অভিজ্ঞ সেন্টার-ব্যাক রাফায়েল ভারানেও খেলার জন্য নিজেকে ফিট প্রমান করেছেন। আক্রনমণাকে কিলিয়ান এমবাপ্পের সাথে অভিজ্ঞ অলিভার গিরুদ তার জায়গা ধরে রেখেছেন। আজ সকাল থেকেই গুঞ্জন ছিল এমবাপ্পে বদলী হিসেবে নামবেন এবং তার পরিবর্তে মার্কোস থুরাম শুরুতে খেলতে নামবেন।

এদিকে ফিট হয়ে আর্জেন্টাইন দলে ফিরেছেন এ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালে ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচটি থেকে এই একটি পরিবর্তন নিয়ে আজ খেলতে নেমেছে লিওনেল স্কালোনির দল। মিডফিল্ডার লিনড্রো পারেডেসের স্থানে মূল একাদশে ফিরেছেন জুভেন্টাসের এই উইঙ্গার।

তিনজনের এ্যাটাক তার সাথে দলে আরো রয়েছেন লিওনেল মেসি ও জুলিয়ান আলভারেজ। ২০১৪ ফাইনালে মূল দলে খেলা দলটি থেকে একমাত্র লিওনেল মেসি এবারের দলে টিকে রয়েছেন। ডি মারিয়াও ঐ দলে ছিলেন, কিন্তু ইনজুরির কারনে ফাইনালে খেলতে পারেননি।

ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা দুই দলই নিয়মিত ৪-৩-৩ ফর্মেশনেই আজ ম্যাচ শুরু করেছে। এই প্রথমবারের মত পোলিশ কোন রেফারি ফাইনালের খেলা পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন। রেফারি সিজিমন মারসিনিয়াকের সাথে দুজন সহকারীও ছিলেন পোলিশ।

 

 

২১ মিনিটে বামদিক থেকে আলভারেজ বল বাড়ালে বাইলাইনের সামনে থেকে ডি মারিয়া বলটি টেনে বক্সের ভিতর দৌঁড়ে এলে তাকে বাঁধা দেন ওসমানে ডেম্বেলে। রেফারি মারসিনিয়াক পেনাল্টির নির্দেশ দিতে কোন ভুল করেননি। স্পট কিক থেকে লিওনেল মেসি ঠান্ডা মাথায় লোরিসকে উল্টো দিকে পাঠিয়ে বল জালে জড়ান (১-০)।

এর চার মিনিট আগে ডানদিক থকে লিওনেল মেসির সাথে রডরিগো ডি পল বল আদান প্রদান করে ডি মারিয়ার দিকে বল বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ডি মারিয়ার শট বারের উপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। এর আগে বামদিক থেকে আঁতোয়ান গ্রীজম্যানের ফ্রি-কিক থেকে গিরুদের ডাইভিং হেড বারের উপর দিয়ে চলে যায়।

২৭ মিনিটে গ্রীজম্যানের ফ্রি-কিক লাইনের উপর থেকে ক্লিয়ার করেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। দুই মিনিট পর মেসির একটি বিপদজনক কর্ণার থেকে এ্যালেক্সিস ম্যাক এ্যালিস্টারের হেড গিরুদকে আঘাত করলে রেফারি গোলকিকের নির্দেশ দেয়।

৩৫ মিনিটে ফ্রান্স তাদের আক্রনমভাগকে কিছুটা সচল করার চেষ্টা করে। কিন্তু ফরোয়ার্ড লাইনের তিন খেলোয়াড় কোনভাবেই সুবিধা করতে পারছিলেন না। টিচুয়ামেনির একটি থ্রু বল এমবাপ্পে ধরতে গিয়ে ব্যর্থ হন। পরের মিনিটে মধ্যমাঠে উপামেকানো একটি লুজ বল থেকে আর্জেন্টিান কাউন্টার এ্যাটাক চালায়।

মেসির দুর্দান্ত ফ্লিকে ম্যাক এ্যালিস্টার ডান দিক থেকে বক্সের ভিতর ডি মারিয়াকে বাড়িয়ে দেন। এগিয়ে আসা লোরিসকে পরাস্ত করতে কোন ভুল করেননি অভিজ্ঞ উইঙ্গার ডি মারিয়া (২-০)। ম্যাক এ্যালিস্টার নিজেও গোলের সুযোগ নিতে পারতেন।

কিন্তু পুরোপুরি নিশ্চিত হবার জন্যই তিনি ডি মারিয়াকে নিঁখুত এক পাসে বলের যোগান দিয়েছেন। ডি মারিয়া এনিয়ে শেষ তিনটি বিশ^কাপেই (২০২২, ২০১৮, ২০১৪) গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন। আর তিনটি গোলই এসেছে নক আউট পর্বে। এর মধ্যে আজকেরটি নিয়ে ফ্রান্সের বিপক্ষে গোল করেছেন দুটি।

৪১ মিনিটে অনেকটাই হতাশ দেশ্যম ম্যাচে ফিরে আসার লক্ষ্যে একসাথে দুটি পরিবর্তন করেন। ডেম্বেলের জায়গায় রানডাল কোলো মুয়ানি ও গিরুদের জায়গায় মার্কোস থুরামকে মাঠে নামান ফরাসি কোচ।

প্রথমার্ধে ফ্রান্স ৫৬ শতাংশ বলের পজিশন নিজের কাছে রাখলেও আর্জেন্টিনাই সবদিক থেকে এগিয়ে ছিল। মূলত ডি মারিয়ার দলে ফেরা পুরো আর্জেন্টাইন শিবিরকে উজ্জীবিত করে তুলেছে। প্রথম পেনাল্টি আদায় করে এরপর কাউন্টার এ্যাটাক থেকে দুর্দান্ত গোল করে ডি মারিয়া আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দিয়েছেন। বিপরীতে ফ্রান্স একটি শটও আর্জেন্টিনার পোস্টে নিতে পারেনি। প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা দুটি কর্ণার আদায় করে নিলেও ফ্রান্স একটিও পায়নি।

ঠিক যেখানে আর্জেন্টিনা প্রথমার্ধ শেষ করেছিল সেখান থেকেই আবার ম্যাচ শুরু করে। ডানদিক থেকে মেসির ক্রস আলভারেজ পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হলে লোরিসের হাতে বল জমা পড়ে। ৫০ মিনিটে ডি মারিয়ার থ্রু বলে অনেকটাই ফাঁকায় দাঁড়ানো ডি পল বলে পেয়ে শট নিলেও তা সরাসরি লোরিসের হাতে যায়।

মুয়ানিকে পাস কাটিয়ে টাগলিয়াফিকো কাট করে আলভারেজের দিকে বল বাড়িয়ে দেন। কিন্তু আলভারেজের লো শট দুর্দান্ত ভাবে রুখে দেন লোরিস। ৬১ মিনিটে দারুন এক সুযোগ হাতছাড়া করেন মেসি। দারুন ফুটওয়ার্কে ডি মারিয়া আলভারেজের দিকে বল দেন। আলভারেজ তিনজন ডিফেন্ডারকে পাশ দিয়ে তা পাস করে দেন মেসির দিকে। কিন্তু মেসির শট পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।

৬৪ মিনিটে প্রথম পরিবর্তন করে আর্জেন্টিনা। ডি মারিয়ার স্থানে এ সময় মাঠে নামেন মার্কোস এ্যাকুনা। ৭১ মিনিটে আবারো দুই পরিবর্তন করে ম্যাচে ফিরে আসার চেষ্টা করেন দেশ্যম। এবার থিও হার্নান্দেজের জায়গায় এডুয়ার্ডো কামভিনগা ও গ্রীজম্যানের জায়গায় মাঠে নামেন কিংসলে কোম্যান। আর এই পরিবর্তনেই যেন প্রাণ ফিরে পায় ফ্রান্সের আক্রমনভাগ।

 

 

৯৭ সেকেন্ডের মধ্যে এমবাপ্পে দুই গোল করে ফ্রান্সকে অকল্পনীয় ভাবে লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনেন। বদলী খেলোয়াড় কোলো মুয়ানিকে ডি বক্সের ভিতর ফাউল করার অপরাধে ওটামেন্ডির বিরুদ্ধে পেনাল্টির নিদের্শ দেন রেফারি। ৮০ মিনিটে জোড়ালো শটে মার্টিনেকজে পরাস্ত করতে ভুল করেননি এমবাপ্পে (১-২)। পরের মিনিটেই মধ্যমাঠে মেসির কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে কোম্যান বাম দিক থেকে আক্রমন চালান।

এমবাপ্পে থুরামের কাছে বল বাড়িয়ে দিয়ে আবারো বল ফেরত পান। দুর্দান্ত ভলিতে মাটিনেজকে কোন সুযোগ না দিয়েই বল জালে জড়ান এমবাপ্পে (২-২)। বিশ্বকাপে এটি এমবাপ্পের সপ্তম গোল। ইনজুরি টাইমের চতুর্থ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে কোম্যানকে ফাউল করা হলে রেফারি খেলা চালিয়ে যাবার নির্দেশ দেন।

কামভিনগা বল পেয়ে তা কোলো মুয়ানির দিকে বাড়িয়ে দেন। কিন্তু কোরো মুয়ানির শট কোনমতে আটকে দিয়ে আর্জেন্টিনাকে রক্ষা করেন মার্টিনেজ। ম্যাচের একেবারে শেষ মিনিটে এ্যাকুনার পাস থেকে মেসি বক্সের বাইরে থেকে জোড়ালো শট নিলেও হুগো দুর্দান্ত ভাবে তা কর্ণারের মাধ্যমে রক্ষা করেন। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

১০৮ মিনিটে আবারো সেই মেসি ঝলক। অতিরিক্ত সময়ে আলভারেজের বদলী হিসেবে মাঠে নামা লটারো মার্টিনেজ শট নিলে লোরিস তা আটকে দেন। কিন্তু ফিরতি বলে মেসি শট নিলে তা গোললাইনের পিছনে থেকে ক্লিয়ার করেন উপামেকানো। ফ্রান্স অফসাইডের আবেদন করলেও তা গোল হিসেবেই উপহার দেয় ভিএআর (৩-২)।

বিশ^কাপে সব মিলিয়ে ১৪ গোল ও ৮ এ্যাসিস্টে মেসি ইতোমধ্যেই আর্জেন্টিনার ২২টি গোলের পিছনে অবদান রেখে রেকর্ড গড়েছেন। এছাড়া প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এক বিশ^কাপে গ্রুপ পর্ব, শেষ ষোল, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনালে গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন মেসি।

১১৬ মিনিটে এমবাপ্পের শট রুখতে গিয়ে মনটিয়েল বক্সের ভিতর হ্যান্ডবল করে বসেন। এই ঘটনায় প্রাপ্ত পেনাল্টি থেকে এমবাপ্পে বিশ^কাপের ফাইনালে প্রথম হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি দলকে আবারো সমতায় ফেরান (৩-৩)। শেষ মিনিটে কোলো মুয়ানি মার্টিনেজকে একা পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি। টাইব্রেকারের গোলসহ এবারের আসরে মেসি সাতটি ও এমবাপ্পে সর্বোচ্চ আটটি গোল করেছেন।

কি ছিলনা আজকের ফাইনালে, বিশে^র সেরা দুই দলের লড়াই। প্রথমবারের মত বিশ^কাপের ফাইনালে এমবাপ্পের হ্যাটট্রিক, লিওনেল মেসির দুই গোল, দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও মাত্র ৯৭ সেকেন্ডে এমবাপ্পের দুই গোলে ফ্রান্সের সমতায় ফিরে আসা। এরপর বিশ্বকাপের গোল্ডের বুটের জন্য লড়াইয়ে থাকা দুই ক্লাব সতীর্থ মেসি ও এমবাপ্পের অতিরিক্ত সময়ের দুই গোলে টাই ব্রেকারের ভাগ্য নির্ধারন।

আর স্নায়ুর চাপ কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত মেসির হাতে দেখা গেল স্বপ্নের বিশ^কাপ। আর্জেন্টিনার এই শিরোপা নিশ্চিতভাবেই দেশটির সর্বকালের সেরা ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনার জন্যই তোলা থাকবে, আকাশের ওপার থেকে এই একটি মানুষ সবসময়ই লিওনেল মেসিদের পাশে ছিলেন, যার দ্বারা অনুপ্রানীত পুরো দল আজ বিশ্ব সেরার আসনে।

আরও দেখুনঃ

খেলাধুলার মান উন্নত করার জন্য সরকার অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে ক্রীড়াক্ষেত্রের সম্প্রসারণ এবং খেলাধুলার মান উন্নত করার জন্য অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘খেলাধুলার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারেন, সেই লক্ষ্যে আমরা সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমরা বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মেলে ধরতে সক্ষম হয়েছি।’

খেলাধুলার মান উন্নত করার জন্য সরকার অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল ‘বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২২’ উপলক্ষে আজ দেয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন,যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে দেশের সকল পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মিলিত অংশগ্রহণে ‘বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২২ এর তৃতীয় আসর’ সফলভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জেনে তিনি আনন্দিত। এ উপলক্ষে ক্রীড়ার সঙ্গে সংশি¬ষ্ট সবাইকে আন্তরক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সারাবছর বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করছি। তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় গড়ে তোলার পাশাপাশি ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন করছি। আমরা স্টেডিয়ামগুলোকে উন্মুক্ত করে দিয়েছি। প্রথম পর্যায়ে ১২৫টি উপজেলায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করেছি।

দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৮৬টি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজ শুাং হয়েছে। তৃতীয় পর্যায়ে দেশের অবশিষ্ট ১৭৩টি উপজেলায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ চলমান রয়েছে। প্রায় ১০০ কোটি টাকায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের উন্নয়ন কাজ চলমান।’

ইতোমধ্যে কাবাডি ও ভলিবল স্টেডিয়ামের উন্নয়ন, ১৩টি উপজেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণ, সারাদেশে ৫৬টি স্টেডিয়াম, ৮টি সুইমিংপুল, ৬টি শুটিং রেঞ্জ, ৭টি ক্রীড়া কমপে¬ক্স নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,  ২৫টি জেলায় টেনিস কমপে¬ক্স আধুনিকায়ন সমাপ্ত হয়েছে। প্রতি জেলায় ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে। বিকেএসপির উন্নয়নেও বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে বিকেএসপি নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান খেলাধুলার জন্য ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। তিনি ফুটবল খেলতে ভালবাসতেন এবং স্কুল ফুটবল টিমের ক্যাপ্টেন ছিলেন। পরবর্তীতে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতির পিতা অন্যান্য ক্ষেত্রে উন্নয়নের পাশাপাশি  দেশের ক্রীড়াঙ্গনেও সমান গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

তিনি ১৯৭২ সালেই জাতীয় ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ সংস্থা গঠন করেন এবং ১৬টি জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশন অনুমোদন করেন। ১৯৭৪ সালে আরো ১৮টি জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশন এবং বিভিন্ন জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে অনুমোদন দেন। ১৯৭৪ সালে ‘বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল অ্যাক্ট’ পাস করে আজকের ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ’ গঠন করেন।

১৯৭৫ সালের ৬ আগস্ট ‘বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী ও সংস্কৃতিসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন’ অনুমোদন দেন। তিনি ক্রীড়াবিদদের তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন, পূর্ব-জার্মানি এবং ভারতে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য প্রেরণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর ক্রীড়া খাতসহ অন্য সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড থেমে যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে উৎসর্গ করে ‘বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশিপ এর তৃতীয় আসর’-এর এই আয়োজন দেশের ক্রীড়ার উন্নয়ন ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিগত আসরগুলোর ধারাবাহিকতায় আগামী বছর থেকে পাবলিক ও প্রাইভেট নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে।

নারী শিক্ষার্থীরা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে যেভাবে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রেখেছে, তা আরো বেগবান হবে। অদূর ভবিষ্যতে বৈশ্বিক পরিমন্ডলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশিপ আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পরিণত হবে- এই প্রত্যাশা করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি মনে করেন, এ ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে দেশে আগামী দিনে জাতীয়মানের খেলোয়াড় তৈরি হওয়ার ক্ষেত্র প্রস্তুত হবে। ভ্রাতৃত্ববোধ, নিষ্ঠা ও সহনশীলতা বৃদ্ধি পাবে। উপরন্তু দেশের ক্রীড়া অঙ্গনকে জাগিয়ে তুলতেও এই উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে। তিনি ‘বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২২ তৃতীয় আসর’- এর সফলতা কামনা করেন।

আরও দেখুনঃ

খেলাধুলায় সাফল্য অর্জনে আরো প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে খেলাধুলায় সাফল্য অর্জনের লক্ষে আরো প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি খেলোয়াড়দের জয়লাভের মনোভাব নিয়ে খেলার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনের জন্য আমাদের যথাযথ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আরও প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করতে হবে।’

খেলাধুলায় সাফল্য অর্জনে আরো প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে তাঁর কার্যালয়ে নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ‘সাফ উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশীপ-২০২২’ শিরোপা জয়ী বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দলকে সংবর্ধনা ও আর্থিক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে একথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা জাতির পিতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে এদেশের মানুষ অস্ত্র তুলে নিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, আমরা বিজয়ী জাতি। সব সময় এটা মাথায় রাখতে হবে। খেলার মাঠেও মাথায় রাখতে হবে যে যুদ্ধে জয় করেছি, খেলায়ও জয়ী হবো।’
‘এই চিন্তা নিয়ে সবাইকে চলতে হবে। তাহলেই সাফল্য আসবে। কারণ, মনোবল এবং আতœবিশ্বাস একান্তভাবে দরকার। আর সব সময় প্রশিক্ষণও দরকার,’ বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণ কোনমতেই শিথিল করা যাবে না। যত বেশি প্রশিক্ষণ হবে তত বেশি খেলাধুলায় উৎকর্ষতা বাড়বে।
নিজের পরিবারের সদস্যদের খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সব সময় এটা মনে করি যে, খেলাধুলা আমাদের অপরিহার্য্য। আমার আব্বা ঢাকা ওয়ান্ডার্স ক্লাবে খেলতেন, আবার আমার ভাই শেখ কামাল সে ও খেলতো, সবাই বিভিন্ন টিমের সঙ্গে জড়িত ছিল।

তিনি বলেন, কাজেই আমি এটা মনে করি যে, আমাদের ছেলে মেয়েরা যতবেশি খেলাধুলার সাথে সম্পৃক্ত হতে পারবে, সংস্কৃতি চর্চার সাথে সম্পৃক্ত হতে পারবে,সাহিত্য চর্চা করবে, লেখাপড়ার পাশাপাশি এগুলো একান্তভাবে দরকার। শারীরিক, মানসিক সব দিক থেকেই আমাদের তরুণদের একটা আলাদা মানসিকতা ও দেশপ্রেম গড়ে উঠবে।

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের ২৩ জন খেলোয়াড়ের প্রত্যেকের হাতে পাঁচ লাখ টাকার চেক এবং ১১ জন প্রশিক্ষক ও কর্মকর্তার প্রত্যেকের হাতে দুই লাখ টাকার চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

পরে খেলোয়াড়রা প্রধানমন্ত্রীর হাতে ‘সাফ উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২২’ এর ট্রফি তুলে দেন এবং ফটো সেশনে অংশগ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টারের আজ জন্মদিনে তার ওপর রচিত ‘ আহসানউল্লাহ মাস্টার জীবনালেখ্য’ নামক একটি গ্রন্থেরও মোড়ক উন্মোচন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী মো. সালাহউদ্দিন।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মেসবাহ উদ্দিন। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন তার অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে ‘সাফ উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশীপ-২০২২’-এর উপর একটি ভিডিও-ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।
সরকার প্রধান অভিভাবকদের প্রতি তাদের সন্তানদের সুস্থ মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে বাইরে খেলার জন্য সময় দেয়ার পরামর্শ দেন।

তিনি সকল বিশেষ করে যুবকদের খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সাহিত্যকর্মে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখতে বলেন যা তাদেরকে দেশের যোগ্য নাগরিক হতে সাহায্য করবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ক্রীড়া সেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন ২০১১’ প্রণয়ন করে একটা ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই ফাউন্ডেশনকে করোনাকালীন ৩০ কোটি টাকা দিয়েছিলাম। মোট ৪০ কোটি টাকার সীড মানি দেওয়া হয়েছে। আমি আরো ২০ কোটি টাকা দেব।

এ ফাউন্ডেশন থেকে সমস্যাগ্রস্ত খেলোয়াড়দের সহযোগিতা করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফাউন্ডেশন থেকে যারা আমাদের খেলাধুলার সাথে সম্পৃক্ত অনেক সময় তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে অথবা তাদের কোনরকম অসুবিধা দেখা দেয়, বয়স হয়ে গেলে বাড়িতে তাদের কোন কিছু করার থাকে না, সেখানে ফাউন্ডেশন থেকে সহযোগিতা করা যায়। আবার এই ফাউন্ডেশন তাদের আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য অনেক কাজও করতে পারে।

খেলোয়াড়দের সহযোগিতা করতে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের যারা বিত্তশালী আছেন তাদেরকে বলবো এসব জায়গায় তারা যেন আরো সহযোগিতা করেন। তাছাড়া প্রত্যেকটা ব্যবসায়ী ইন্ডাস্ট্রির মালিক বা অন্যান্য ব্যবসায়ীদেরকে আমি আহ্বান জানাই প্রত্যেককে যেন আমাদের খেলোয়াড়দের চাকরি দেন, কাজ দেন। আমি মনে করি খেলোয়ারদের কোন একটা কাজ দিয়ে উৎসাহিত রাখা উচিত।

তিনি বলেন, যারা খেলাধুলা শেষ করে এখন ব্যবসা করে বেশ টাকা-পয়সার মালিক হচ্ছেন তাদেরতো উচিত এদিকের প্রতি আরও বেশি করে খেয়াল রাখা।

সরকার প্রধান বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পর জাতির পিতা অন্যান্য ক্ষেত্রে উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের ক্রীড়াঙ্গনকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি ১৯৭২ সালেই জাতীয় ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ সংস্থা গঠন করেন এবং ১৬টি জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশন অনুমোদন করেন।

১৯৭৪ সালে আরও ১৮টি জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশন এবং বিভিন্ন জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে অনুমোদন দেন। ১৯৭৪ সালে ‘বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল অ্যাক্ট’ পাস করে আজকের ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ’ গঠন করেন। ১৯৭৫ সালের ৬ আগস্ট ‘বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী ও সংস্কৃতিসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন’ অনুমোদন দেন।

গত ১৪ বছর ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের সফলতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, বিভিন্ন ক্রীড়া ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে মোট ৪৮৫টি স্বর্ণ, ৪৯৯টি রৌপ্য, ৫৯৫টি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছে; এবং ১১৪ বার চ্যাম্পিয়ন, ২৬ বার রানার্স আপ ও ২২ বার তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, ২০১০ সালের ডিসেম্বরে এশিয়ান গেমসে পুরুষদের ক্রিকেটে প্রথমবার স্বর্ণপদক পেয়েছে। ২০২২ সালের মার্চে ইন্দোনেশিয়ায় এশিয়ান হকি ফেডারেশন কাপ-এ বাংলাদেশ জাতীয় হকি দল ওমান, ইরান, ইন্দোনেশিয়া, কাজাখস্তান, সিঙ্গাপুরকে পরাজিত করে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু কাপ আন্তর্জাতিক কাবাডি প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ কাবাডি দল কেনিয়াকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০২১ সালের মে মাসে এক ম্যাচ হাতে রেখেই শ্রীলংকার বিপক্ষে ওয়ান-ডে সিরিজ জয় করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার তৃণমুল পর্যায়ে খেলাধুলার বিকাশে প্রতিটি বিভাগে বিকেএসপি এবং প্রতিটি জেলায় ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মান করবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় গড়ে তোলার পাশাপাশি ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন করছে। প্রথম পর্যায়ে ১২৫টি উপজেলায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করেছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৮৬টি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।

তৃতীয় পর্যায়ে দেশের অবশিষ্ট ১৭৩টি উপজেলায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের উন্নয়ন কাজ চলমান। ইতোমধ্যে কাবাডি ও ভলিবল স্টেডিয়ামের উন্নয়ন, ১৩টি উপজেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণ, সারাদেশে ৫৬টি স্টেডিয়াম, ৮টি সুইমিংপুল, ৬টি সুটিং রেঞ্জ,৭টি ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

আরও দেখুনঃ

সাকিবের একার লড়াইয়ের ম্যাচে হারলো বাংলাদেশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে একা লড়াই করেও বাংলাদেশকে জেতাতে পারলেন না অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সাকিবের একার লড়াইয়ের ম্যাচে হারলো বাংলাদেশ: দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ৩৫ রানে হারে টাইগাররা। বল হাতে ১ উইকেট নেয়ার পর ব্যাট হাতে অপরাজিত ৬৮ রান করেন সাকিব। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

 

সাকিবের একার লড়াইয়ের ম্যাচে হারলো বাংলাদেশ

বৃষ্টির কারনে ডোমিনিকার উইন্ডসর পার্কে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি পরিত্যক্ত হয়েছিলো। একই ভেন্যুতে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে সূর্যের হাসি ছিলো শুরু থেকেই। তাই টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

একাদশে দু’টি পরিবর্তন এনে মাঠে নামে  বাংলা-দেশ। মুনিম শাহরিয়ার ও নাসুম আহমেদের জায়গায় তাসকিন ও মোসাদ্দেক হোসেন সুযোগ পান।

ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলা-দেশ পেসার তাসকিনের করা প্রথম ওভারেই ১৪ রান তুলে নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ওপেনার কাইল মায়ার্স ও ব্রান্ডন কিং। যেখানে মায়ার্স ১টি করে চার-ছক্কা মারেন।

বাউন্ডারি দিয়ে দ্বিতীয় ওভার শুরু করেছিলেন মায়ার্স। তবে ঐ ওভারে স্পিনার মাহেদি হাসানের পঞ্চম বলে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন মায়ার্স। ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ৯ বলে ১৭ রান করেন টেস্ট সিরিজের সেরা খেলোয়াড় মায়ার্স।

ক্রিজে আসা নতুন ব্যাটার শামারাহ ব্রুকসকে রানের খাতাই খুলতে দেননি সা-কিব। নিজের প্রথম ওভারেই উইকেট পেয়ে যান সা-কিব। ছক্কা মারার আসায় শর্ট মিড-উইকেটে বাংলা-দেশ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে ক্যাচ দেন ব্রুকস।

২৬ রানে ২ উইকেট পতনের পর কিছুটা চাপে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে সেই চাপকে আমলে নেননি কিং ও অধিনায়ক নিকোলাস পুরান। পঞ্চম ওভারে জুটি বাঁধার পর ১১তম ওভার পর্যন্ত, প্রতি ওভারেই বাউন্ডারি বা ওভার বাউন্ডারি আদায় করে নেন কিং ও পুরান। ফলে ১১ ওভার শেষে ২ উইকেটে ৯৪ রানে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।


সা-কিবের করা ইনিংসের ১২তম ওভারে নিষ্প্রভ ছিলেন কিং-পুরান। ঐ ওভারেই বলকে সীমানা পার করতে পারেননি তারা। তবে ঐ ওভারেই ১শতে পৌঁছায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

পরের ওভারে প্রথমবারের মত আক্রমনে এসে ক্যারিবীয় অধিনায়ক পুরানকে বিদায় দেন মোসাদ্দেক। রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে লেগ বিফোর আউট হন পুরান। রিভিউ নিলে, সেটি কাজে লাগেনি পুরানের।

৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩০ বলে ৩৪ রান করেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক পুরান। তৃতীয় উইকেটে কিংয়ের সাথে ৫৬ বলে ৭৪ রান যোগ করেন পুরান। নিজের প্রথম ওভারটি উইকেট মেডেন ছিলো মোসাদ্দেকের।

পুরানের আউটে ১৩তম ওভারে উইকেটে আসেন সহ-অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েল। ১৪তম ওভারে সা-কিবের ডেলিভারি বাউন্ডারি দিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন কিং। ৩৬ বলে অর্ধশতক পুরন করেন  তিনি।

নিজের প্রথম ৩ ওভারে ১৫ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছিলেন সা-কিব। দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং ছিলো তার। ১৬তম ওভারে শেষবারের মত আক্রমনে আসেন তিনি। সা-কিবের প্রথম চার ডেলিভারি থেকে ৩টি ছক্কা ও ১টি চার মারেন পাওয়েল। ঐ ওভার থেকে ২৩ রান পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সা-কিবের ৪ ওভার থেকে ৩৮ রান পায় স্বাগতিকরা।

সা-কিবের উপর চড়াও হয়েই দমে যাননি পাওয়েল। ১৭তম ওভারের প্রথম দুই ছক্কা মারেন তিনি। বোলার ছিলেন তাসকিন। বাউন্ডারি দিয়ে ওভার শেষ করেন পাওয়েল।

এক প্রান্ত আগলে, রানের চাকা ঘুড়ানো কিংকে ১৮তম ওভারে বিদায় দেন শরিফুল। আউট হওয়ার আগে ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৩ বলে ৫৭ রান করেন কিং। কিং-পাওয়েল চতুর্থ উইকেটে ২৮ বলে ৬৩ রান যোগ করেছিলেন। ঐ ওভারেই নিজের মুখোমুখি হওয়া ২০তম বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের চতুর্থ হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন পাওয়েল।

শরিফুলের করা ইনিংসের শেষ ওভারে ১৭ রান পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তৃতীয় বলে ওডেন স্মিথ ও শেষ বলে পাওয়েল ছক্কা মারেন। ফলে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৩ রানের বড় সংগ্রহ পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ ক্যারিবীয়দের। বল হাতে বাংলা-দেশের শরিফুল ৪০ রানে ২টি উইকেট নেন। মাহেদি-সা-কিব ও মোসাদ্দেক ১টি করে উইকেট নেন।

জয়ের ১৯৪ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই ২ উইকেট হারায় বাংলা-দেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার ওবেড ম্যাককয়ের মিডল স্টাম্পে থাকা বলটি আলতো ছোঁয়ায় ফ্লিক করেন লিটন(৫)। মারে মোটেও জোর ছিলো না। ফলে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ক্যাচ নেন ব্রুকস।

পরের ডেলিভারিতেই অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বল ড্রাইভ করতে গিয়ে ইনসাইড এডজ হয়ে বোল্ড হন এনামুল হক বিজয়(৩)।

শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারানোর পর ধাক্কা সামাল দেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন সা-কিব ও অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ। তৃতীয় ওভারে স্মিথকে পরপর দুই বলে বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারি মারেন মাহমুদুল্লাহ। তবে ওভারের শেষ বলে উইকেট ছেড়ে খেলে মিড-অফে ক্যাচ দেন ১১ রান করা  টাইগার নেতা।

২৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে যখন বিপদে বাংলা-দেশ, তখন কাউন্টার অ্যাটাক করার চেষ্টা করেন সা-কিব ও পাঁচ নম্বরে নামা আফিফ হোসেন। চতুর্থ থেকে নবম ওভার পর্যন্ত ৬টি চার ও ১টি ছক্কা মারেন তারা। এরমধ্যে আফিফ ৩টি চার ও ১টি ছক্কা এবং সা-কিব ৩টি চার মারেন। এতে ৯ ওভার শেষে ৭২ রান উঠে বাংলা-দেশের স্কোর বোর্ডে।

১১তম ওভারে সা-কিব-আফিফ জুটি ভাঙ্গেন শেফার্ড। শেফার্ডের বলটি ফাইন লেগ দিয়ে খেলতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন আফিফ। ২৭ বলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩৪ রান করেন তিনি। সা-কিবের সাথে ৪৪ বলে ৫৫ রানের জুটি  গড়েন আফিফ।

এরপর উইকেটে গিয়ে সেট হতে গিয়ে ১৩ বল খেলেন নুরুল। রান তুলেন মাত্র ৭। ফলে ১৫ ওভার শেষে বাংলা-দেশের আস্কিং রেট গিয়ে পৌঁছায় ১৯এ। ঐ অবস্থায় ওয়ানডে মেজাজে ছিলেন সা-কিব। ৩৩ বলে ৩২ রান করেছিলেন তিনি। ৪৫ বলে ৯৮ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে দশম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন সা-কিব।

হাফ-সেঞ্চুরির পর জীবন পেয়ে রানের ফুলঝুড়ি ফুটিয়েছেন সা-কিব। নিজের মুখোমুখি হওয়া পরের ৭ বলে ১৮ রান নেন তিনি। তাতে হার এড়াতে পারেনি বাংলা-দেশ। হারের ব্যবধানই শুধুমাত্র কমেছে।

২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৫৮ রান তুলতে পারে বাংলা-দেশ। ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৫২ বলে অপরাজিত ৬৮ রান করেন সা-কিব। সা-কিবের সাথে তাল মিলিয়ে কোন ব্যাটার ইনিংস শেষ পর্যন্ত না খেলাতেই হার বরণ করে নিতে হয় বাংলা-দেশকে।

৬৮ রানের ইনিংস খেলার পথে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ২ হাজার রান করেন সা-কিব। এই ফরম্যাটে সর্বোচ্চ ১২০ উইকেটের মালিক সা-কিব। তাই ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এই ফরম্যাটে ২ হাজার রান এবং ১শ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়লেন সা-কিব।

সাত নম্বরে নামা মোসাদ্দেক ১১ বলে ১৫ ও আট নম্বরে নামা মাহেদি ২ বলে ৫ রান করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাককয় ও শেফার্ড ২টি করে উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হন ওয়েস্ট ইন্ডিজের পাওয়েল।

আগামী ৭ জুলাই গায়ানার প্রোভিডেন্স পার্কে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি।

স্কোর কার্ড : (টস-ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংস :

ব্রান্ডন কিং ক সাকিব ব শরিফুল ৫৭
মায়ার্স বোল্ড ব মাহেদি ১৭
ব্রুকস ক মাহমুদুল্লাহ ব সাকিব ০
পুরান এলবিডব্লু ব মোসাদ্দেক ৩৪
পাওয়েল অপরাজিত ৬১
শেফার্ড ক মাহেদি ব শরিফুল ৩
স্মিথ অপরাজিত ১১
অতিরিক্ত (লে বা-১, নো-২, ও-৭) ১০
মোট (৫ উইকেট, ২০ ওভার) ১৯৩
উইকেট পতন : ১/১৮ (মায়ার্স), ২/২৬ (ব্রুকস), ৩/১০০ (পুরান), ৪/১৬৩ (কিং), ৫/১৭৬ (শেফার্ড)।

বাংলাদেশ বোলিং :

তাসকিন : ৩-০-৪৬-০ (ও-১),
মাহেদি : ৪-০-৩১-১ (ও-১),
মুস্তাফিজ : ৪-০-৩৭-০ (ও-৩) (নো-১),
সাকিব : ৪-০-৩৮-১ (নো-১),
শরিফুল : ৪-০-৪০-২ (ও-২),
মোসাদ্দেক : ১-১-০-১।

বাংলাদেশ ইনিংস :

এনামুল বোল্ড ব ম্যাককয় ৩
লিটন ক ব্রুকস ব ম্যাককয় ৫
সাকিব অপরাজিত ৬৮
মাহমুদুল্লাহ ক ম্যাককয় ব স্মিথ ১১
আফিফ ক পুরান ব শেফার্ড ৩৪
নুরুল হাসান ক কিং ব হোসেন ৭
মোসাদ্দেক ক পুরান ব শেফার্ড ১৫
মাহেদি অপরাজিত ৫
অতিরিক্ত (লে বা-২, ও-৮) ১০
মোট (৬ উইকেট, ২০ ওভার) ১৫৮
উইকেট পতন : ১/৮ (লিটন), ২/৮ (এনামুল), ৩/২৩ (মাহমুদুল্লাহ), ৪/৭৮ (আফিফ), ৫/৯৭ (নুরুল), ৬/১৫০ (মোসাদ্দেক)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলিং :

আকিল : ৩-০-২২-১,
ম্যাককয় : ২-০-১৬-১ (নো-১),
স্মিথ : ২-০-২২-১ (নো-১),
শেফার্ড : ৩-০-২১-৩,
পল : ৩-০-২১-৩,
ওয়ালশ : ৩-০-২৪-২ (ও-২)।

ফল : ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৫ রানে জয়ী।

ম্যাচ সেরা : রোভম্যান পাওয়েল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)।

সিরিজ সেরা : তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

আরও দেখুনঃ

অ্যান্টিগা টেস্ট: ১১২ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অ্যান্টিগা টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ৮ উইকেট হাতে নিয়ে ১১২ রানে পিছিয়ে সফরকারী বাংলাদেশ।

প্রথম ইনিংসে নিজেদের করা ১০৩ রানের জবাবে  ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৬৫ রানে আটকে দেয় বাংলাদেশ বোলাররা। এরপর   ১৬২ রানে পিছিয়ে থেকে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে দিন শেষে ২ উইকেটে ৫০ রান করেছে বাংলাদেশ।

 

অ্যান্টিগা টেস্টঃ অ্যান্টিগার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে  টেস্টের প্রথম দিনই অলআউট হয় বাংলাদেশ। এরপর নিজেদের ইনিংস শুরু করে দিন শেষে ২ উইকেটে ৯৫ রান করেছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

তখনও ৮ রানে পিছিয়ে ছিলো ক্যারিবীয়রা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট ৪২ ও এনক্রুমার বোনার ১২ রানে অপরাজিত ছিলেন।

দ্বিতীয় দিনের সপ্তম ওভারের চতুর্থ বলে বাউন্ডারি দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে লিড এনে দেন ব্র্যাথওয়েট। তবে দিনের দশম ওভারে উইকেট শিকারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ।

পেসার খালেদ আহমেদের ডেলিভারি ঠিক-ঠাক খেলতে পারেননি বোনার। বল তার ব্যাট ছুঁয়ে প্রথম স্লিপে যাওয়া বল  মিস করেন   শান্ত। উইকেট শিকারের সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ।

পরের ওভারে ১৭৪তম বলে টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৬তম হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ব্র্যাথওয়েট।

অধিনায়কের ধৈর্য্যশীল হাফ-সেঞ্চুরির পর বিদায় নেন বোনার। বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের আর্ম বলের ডেলিভারিতে বোল্ড হন ২৩ রানে জীবন পাওয়া বোনার। শেষ পর্যন্ত ৩টি চারে ৩৩ রান করেন বোনার। তৃতীয় উইকেটে ব্র্যাথওয়েট-বোনার জুটি ৬২ রান যোগ করেন।

জার্মেই ব্ল্যাকউডকে সাথে নিয়ে দলের রানের চাকা সচল রাখেন ব্র্যাথওয়েট। ফলে ৩ উইকেটে ১৫৯ রান তুলে মধ্যাহ্ন-বিরতিতে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বিরতি থেকে ফিরে পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের দুই ওভারে ১টি করে বাউন্ডারি মারেন ব্র্যাথওয়েট-ব্ল্যাকউড। ৯০তম ওভারে ব্র্যাথওয়েটকে তুলে নেন খালেদ। খালেদের হালকা ইনসুইংয়ের বল সামলাতে না পেরে লেগ বিফোর আউট হন ব্র্যাথওয়েট।

তবে রিভিউ নেননি ব্র্যাথওয়েট। নাভার্স-নাইন্টিতে আউট হয়ে ৬ রানের জন্য টেস্ট ক্যারিয়ারের ১১তম সেঞ্চুরি মিস করেন ব্র্যাথওয়েট। ৪০০ মিনিট ক্রিজে থেকে ৯টি চারে ২৬৮ বল খেলে ৯৪ রান করেন তিনি। এই নিয়ে পঞ্চমবার নাভার্স-নাইন্টিতে আউট হলেন ব্ল্যাকউডের সাথে ৬৩ রান করট  ব্র্যাথওয়েট।

 

 

অধিনায়কের বিদায়ের পর বাংলাদেশ বোলারদের বিপক্ষে স্বাচ্ছেন্দ্যে খেলেছেন ব্লাকউড ও কাইল মায়ার্স। মায়ার্সকে ৭ রানে লেগ বিফোর আউট করে ইনিংসে প্রথম উইকেটের দেখা পান স্পিনার মিরাজ। রিভিউ নিয়ে মায়ার্সকে ফেরায় বাংলাদেশ।

মায়ার্স ফেরার পর বাউন্ডারি দিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৬তম হাফ-সেঞ্চুরিতে পা রাখেন ব্ল্যাকউড।

নিজের প্রথম উইকেট শিকারের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন মিরাজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের উইকেটরক্ষক জশুয়া ডা সিলভাকে ১ ও আলজারি জোসেফকে খালি হাতে বিদায় দেন মিরাজ। দু’জনই উইকেটের পেছনে নুরুলকে ক্যাচ দেন।

মিরাজের জোড়া আঘাতের পর উইকেট শিকারের আনন্দে মাতেন পেসার এবাদত। কেমার রোচকে রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় দেন এবাদত।

১৫ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে আড়াইশর নীচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আটকে দেয়ার পথ তৈরি করেন মিরাজ ও এবাদত। তবে ৩টি চারে দলের রানকে আড়াইশ পার করেন মতি।

তারপরও যত দ্রুত সম্ভব ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ ২ উইকেট তুলে নিতে মরিয়া ছিলো বাংলাদেশ। অবশেষে মিরাজের দুর্দান্ত ক্যাচে ব্ল্যাকউডকে থাকায় বাংলাদেশ।

খালেদের করা বলে মিরাজের হাতে ক্যাচ দিয়ে  আউট হওয়ার আগে ২১৩ মিনিটে ১৩৯ বল খেলে ৯টি চারে ৬৩ রান করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সহ-অধিনায়ক ব্ল্যাকউড।

ব্লাকউডকে শিকারের পরের ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের ইতি টানেন মিরাজ। শেষ ব্যাটার জেইডেন সিলেসকে ১ রানে থামান তিনি। ২৬৫ রানে অলআউট হয় ক্যারিবীয়রা। ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন মতি। মিরাজ ৫৯ রানে ৪টি, খালেদ-এবাদত ২টি করে উইকেট নেন। মুস্তাফিজুর-সাকিবের শিকার ছিলো ১টি করে।

১৬২ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে দ্বিতীয় বলেই বাউন্ডারি আদায় করেন তামিম ইকবাল। তৃতীয় ওভারের শেষ বলে বাউন্ডারি আসে মাহমুদুল হাসান জয়ের ব্যাট থেকে। আর অষ্টম ওভারে পরপর দু’বলে চার মারেন তামিম।

 

 

এতে দলের স্কোর বিনা উইকেটে ২৭ অতিক্রম করে। সর্বশেষ তিন ইনিংসে এমনটা দেখা যায়নি। শ্রীলংকার বিপক্ষে আগের টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২৪ রানে ৫ উইকেট, দ্বিতীয় ইনিংসে ২৩ রানে ৪ উইকেট ও চলমান টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়েছিলো বাংলাদেশ।

তামিম-জয়ের সাবধানী শুরু ৩৩ রানে থমকে যায়। জোসেফের আউট-সুইং ডেলিভারি উইকেটরক্ষক জশুয়া তালু বন্দী করলে  ৪টি চারে ৩১ বলে ২২ রানে থামে  তামিমের ইনিংস।

তামিমের আউটের পর নাইটওয়াচম্যান হিসেবে তিন নম্বরে নামেন মিরাজ। প্রথম ইনিংসে ২২ বলে ২ রান করা মিরাজ, এবার ৬ বলে ২ রান করেন। জোসেফের অফ-স্টাম্পের বল ব্যাকফুটে খেলে প্রথম স্লিপে মায়ার্সকে ক্যাচ দেন মিরাজ।

দলীয় ৩৫ রানে মিরাজ ফেরার পর দিনের বাকী সময়ে আরও কোন উইকেট পড়তে দেননি জয় ও শান্ত। ৫০ বল খেলে ১৫ রান যোগ করেন তারা। জয় ১৮ ও শান্ত ৮ রানে অপরাজিত আছেন। জোসেফ ২ উইকেট নেন।

স্কোর কার্ড : (টস-ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস- ১০৩/১০ (সাকিব ৫১, তামিম ২৯, জোসেফ ৩/৩৩)।

 

 

ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস :

ব্র্যাথওয়েট এলবিডব্লু ব খালেদ ৯৪
ক্যাম্পবেল বোল্ড মুস্তাফিজ ২৪
রেইফার ক নুরুল ব এবাদত ১১
বোনার বোল্ড ব সাকিব ৩৩
জার্মেই ব্লাকউড ক মিরাজ ব খালেদ ৬৩
মায়ার্স এলবিডব্লু ব মিরাজ ৭
জশুয়া ডা সিলভা ক নুরুল ব মিরাজ ১
জোসেফ ক নুরুল ব মিরাজ ০
রোচ ক লিটন ব এবাদত ০
মোতি অপরাজিত ২৩
সিলেস এলবিডব্লু ব মিরাজ ১
অতিরিক্ত (লে বা-৪, নো-২, ও-২) ৮
মোট (অলআউট, ১১২.৫ ওভার) ২৬৫

উইকেট পতন : ১/৪৪ (ক্যাম্পবেল), ২/৭২ (রেইফার), ৩/১৩৪ (বোনার), ৪/১৯৭ (ব্র্যাথওয়েট), ৫/২২৪ (মায়ার্স), ৬/২৩০ (জশুয়া), ৭/২৩৮ (জোসেফ), ৮/২৩৯ (রোচ), ৯/২৫৮ (ব্লাকউড), ১০/২৬৫ (সিলেস)।

 

বাংলাদেশ বোলিং :

মুস্তাফিজ : ১৮-৭-৩০-১ (ও-১),
খালেদ : ২২-৪-৫৯-২ (ও-১),
এবাদত : ২৮-৮-৬৫-২ (নো-২),
সাকিব : ২১-৫-৪৮-১,
মিরাজ : ২২.৫-৬-৫৯-৪,
শান্ত : ১-১-০-০।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস :

তামিম ইকবাল ক ডা সিলভা ব জোসেফ ২২
মাহমুদুল হাসান জয় অপরাজিত ১৮
মিরাজ ক মায়ার্স ব জোসেফ ২
নাজমুল হোসেন শান্ত অপরাজিত ৮
অতিরিক্ত ০
মোট (২ উইকেট, ২০ ওভার) ৫০
উইকেট পতন : ১/৩৩ (তামিম), ২/৩৫ (মিরাজ)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলিং :

রোচ : ৮-৪-১৯-০ (ও-১),
সিলেস : ৪-০-১৬-০,
জোসেফ : ৬-২-১৪-২,
মায়ার্স : ২-১-১-০।

আরও দেখুনঃ