প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সব সময় জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে।তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আওয়ামী লীগ যা বলে, আওয়ামী লীগ তার কথা রাখে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু জনগণকে বলেছেন, তিনি একটি স্বাধীন বাংলাদেশ দেবেন, একটি স্বাধীন দেশ দিয়েছেন, মানুষের জন্য রেখে গেছেন স্বল্পোন্নত বাংলাদেশ।’
‘এছাড়া, আমরা ২০২১ এর লক্ষ্য অর্জন করেছি,’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমাদের ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ নির্বাচনের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করা প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছি।’
আওয়ামী লীগ সব সময় প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেঃ প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা আজ রাতে জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ বিধির আওতায় আনীত প্রস্তাব (সাধারণ) এর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান (দিনাজপুর-৫) কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ ধারায় প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। প্রস্তাবটির ওপর আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়।
বাংলাদেশ এখন একটি উন্নয়নশীল দেশ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ২০২৬ সালের মধ্যে স্নাতক হওয়ার প্রক্রিয়া শেষ করবো।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রক্তের ঋণ শোধ করার লক্ষ্যে ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় পূনর্ব্যক্ত করেন।
সেই সময়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশের প্রবৃদ্ধি ৯ ভাগের ওপরে তুলেছিলেন। জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে পারেনি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে প্রবৃদ্ধি ৮ ভাগ পর্যন্ত পৌঁছেছিল।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পরে এই দেশের মানুষের কিছুটা হলেও অর্থনৈতিক সাশ্রয় এসেছে। মানুষ অন্তত দুইবেলা পেট ভরে খেতে পারছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে নিষেধাজ্ঞা-পাল্টা নিষেধাজ্ঞা না থাকলে দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যেত বলে মনে করেন সরকার প্রধান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ ও কারোনাভাইরাসের কারণে আমাদের খুব কঠিন অবস্থার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। যেখানে উন্নত দেশ নিজেদের অর্থনৈতিক মন্দার দেশ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। আমরা সেখানে অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে সক্ষম হচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা রক্ত দিয়ে তাঁর প্রতি মানুষের ভালোবাসার ঋণ শোধ করেছেন। এবার তার রক্তের ঋণ শোধ করার পালা এবং আমরা রক্তের ঋণ শোধ করতে সক্ষম হব যখন প্রতিটি গৃহহীন মানুষ ঘর পাবে এবং বাংলাদেশের জনগণের জন্য অন্ন, বস্ত্র, বাড়ি, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করে দেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী করতে পারব।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে হাতে অস্ত্র নিয়ে রক্ত দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছে।
জাতির পিতা ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফেরার পর রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দি উদ্যান) প্রদত্ত ঐতিহাসিক ভাষণে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তাঁর প্রতি এই বাঙালি জাতির ভালোবাসার ঋণ যেভাবেই হোক রক্ত দিয়ে শোধ করবেন।
‘জাতির পিতা বলেছিলেন- রক্ত দিয়ে হলেও আমি বাঙালি জাতির এই ভালোবাসার ঋণ শোধ করবো,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।
পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার বাবা দেশে ফিরে এসে কিন্তু আমাদের কথা ভাবেননি, ভেবেছেন তার জনতার কথা। তিনি ছুটে গিয়েছিলেন তার জনতার কাছে, রেসকোর্স ময়দানে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার রূপকল্প-২০২১ সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে এবং ২০২১ সালে দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে দেশকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করেছে।
তাঁর সরকার দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলব, যা হবে আধুনিক প্রযুক্তিগত জ্ঞানসহ জনসংখ্যায় সজ্জিত স্মার্ট বাংলাদেশ। তাহলে জাতির পিতার রক্তের ঋণ শোধ হবে।’
শেখ হাসিনা স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য জাতির পিতার আজীবন সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ এখন বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ যেখানে জয় বাংলা শ্লোগান যেটি একসময় হারিয়ে গিয়েছিল তা আবার ফিরে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের এই অগ্রগতি কেউ ঠেকাতে পারবে না। জয় বাংলা উচ্চারণ করেই আমরা এগিয়ে যাব। ঐতিহাসিক ১০ জানুয়ারি এই আমাদের প্রতিশ্রুতি।
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও নুরুল ইসলাম নাহিদ, জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, আবু হোসেন বাবলা ও রওশন আরা মান্নান, জাসদের হাসানুল হক ইনু এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন আলোচনায় অংশ নেন।
বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তবে, সংরক্ষিত নথিপত্র থেকে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু দেশে ফেরার আগেই তিনি সদ্য স্বাধীন দেশের জন্যে কয়েকটি দেশের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পররাষ্ট্র নীতি ঠিক করে ফেলেন।
বন্দীদশা থেকে মুক্তির পর পাকিস্তান কতৃপক্ষ বঙ্গবন্ধুকে লন্ডনে পাঠায় এবং পরে ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সের একটি জেট বিমানে করে ঢাকার পথে সাইপ্রাস ও ওমান হয়ে তিনি নয়াদিল্লী যান।
বঙ্গবন্ধু দেশে ফেরার আগেই বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ নীতি ঠিক করেছিলেনঃ নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্য থেকে জানা যায়, রাওয়াল পিন্ডি থেকে ঢাকায় ফেরার সময়ে তিনি ভারত, ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানকে সম্পৃক্ত করে তাঁর নীতিমালার চাহিদারগুলো স্পষ্ট করেছিলেন।
ভারতীয় সেনা প্রত্যাহার
লন্ডনে ১৯৭১-৭২ সালে দায়িত্বরত ভারতের সাবেক কূটনীতিক শশাঙ্ক ব্যানার্জী ১৯৬০ এর দশকের প্রথম দিক থেকে বঙ্গবন্ধুকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন, নয়া দিল্লীগামী ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সের বিমানে তিনিও বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ছিলেন।
বর্তমানে লন্ডন প্রবাসী ব্যানার্জীর সঙ্গে টেলিফোনে বাসসের সাংবাদিকের সংক্ষেপে এ বিষয়ে কথা বলার পর তিনি তার স্মৃতিকথায় এই ব্যাপারে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে বলে জানান।
তিনি বলেন, আরএএফ কমেট জেটে মুুজিবের সঙ্গে ১৩ ঘন্টার ওড়ার সুযোগ …আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় হয়ে উঠেছে।’
শশাঙ্ক ব্যানার্জী বলেন, তিনি বঙ্গবন্ধুর পাশের আসনে বসার সুযোগ পেয়েছিলেন, ভিআইপি ফ্লাইটের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী তাদের জোড়া আসনের সামনে একটি টেবিল ছিল যেখানে বাংলাদেশের স্থপতি তাঁর ধূমপানের পাইপ ও প্রিয় এরিনমোর তামাক বক্স রেখেছিলেন।
এই কূটনীতিক স্মরণ করে বলেন, প্রাথমিক কিছু কথাবার্তা ও কমলার জুস পান করার পর বঙ্গবন্ধু কছুটা নিশ্চুপ ও চিন্তামগ্ন হয়ে পড়েন এবং বলেন ব্যানার্জী যদি তার জন্যে একটি ‘বড়ো উপকার’ করতেন যাকে তিনি ‘আগাম ভিত্তিমূলক কাজ’ বলে বর্ণনা করেন।
শশাঙ্ক ব্যানার্জী স্মরণ করে বলেন, তাঁর আচরণে কোন দ্বিধা ছিল না এবং তিনি বঙ্গবন্ধুকে ইতিবাচক জবাব দেয়ায় তিনি তাকে দিল্লীতে পৌঁছানোর সাথে সাথে তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত বার্তা মিসেস ইন্দিরা গান্ধীকে দেয়ার কথা বলেন যাকে তিনি ‘আগাম ভিত্তিমূলক কাজ’ বলে উল্লেখ করেন।
শশাঙ্ক ব্যানার্জী লিখেছেন, তিনি চাচ্ছিলেন দিল্লী বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর আমি প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সাথে যোগাযোগ করি এবং আগামী তিনমাস অর্থাৎ, ৩১ মার্চ ১৯৭২-এর মধ্যে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনার জন্য তাঁর বার্তাটি মিসেস গান্ধীকে জানাই।
এই কূটনীতিক স্বীকার করেন দিল্লীতে পৌঁছানোর পর উদযাপনের এমন পরিবেশে তিনি শীগগিরই এই বার্তা ইন্দিরার কানে তুলতে পারবেন কিনা এই ভেবে প্রথমে ভীত হয়ে পড়েছিলেন, কিন্তু প্রথমেই এ কথা জানানোর জন্যে তিনি টারমাকে ইন্দিরা গান্ধীর অন্যতম একজন শীর্ষ উপদেষ্টা ডিপি ধরকে দেখতে পান।
শশাঙ্ক ব্যানার্জী তাকে জানান, বঙ্গবন্ধু গান্ধীর সঙ্গে তাদের শীর্ষ বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করবেন এবং আমি দৃঢ়তার সাথে ধরকে জানাই মুজিব বিষয়টিকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করবে এবং এমনকি তিনি বিষয়টি লিটমাস টেস্ট হিসেবেও বিবেচনা করতে পারেন।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ঠিক কি বলেছিলেন তা জানানোর জন্যে ধর তাকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন।
শশাঙ্ক ব্যানার্জী বলেন, মুজিব বস্তুত বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। মিসেস গান্ধী তাকে তার চুক্তির কথা জানিয়েছিলেন যে শেখ সাহেবের অনুরোধ অনুযায়ী ৩১ মার্চ ১৯৭২ সালের মধ্যে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী বাংলাদেশের মাটি থেকে প্রত্যাহার করা হবে।
স্বীকৃতি ইস্যু
এশিয়ান অ্যাফেয়ার্স সম্পাদক এবং বিবিসির সাবেক সাংবাদিক ডানকান বার্টলেটের প্রকাশিত নিবন্ধ অনুযায়ী ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু লন্ডনে পৌঁছালে ব্রিটিশ কতৃপক্ষ অবাক হয়ে যায়।
বার্টলেট লেখেন, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ তখন ছুটিতে ছিলেন। তবে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে অপ্রত্যাশিত এই ভিজিটর এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে তিনি তার ছুটি বাতিল করেন এবং ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটে দ্রুতই আলোচনার আয়োজন করেন। সে সন্ধ্যাতেই আলোচনাটি অনুষ্ঠিত হয়।
বার্টলেট বলেছেন, হিথের সাথে বঙ্গবন্ধুর বৈঠকটি বিশেষভাবে দীর্ঘ ছিল না তবে আমরা জানি কিছু বিশদ আলোচনা হয়েছিল।
ব্রিটিশ সাংবাদিক উল্লেখ করেন, ওই সকল সূত্র থেকে আমরা জানতে পেরেছি মুজিব কিছু গুরুত্বপূর্ণ অনুরোধ করেছিলেন, যার অধিকাংশ দ্রুতই গ্রহণ করা হয়েছিল।
বার্টলেট বলেন, তাঁর প্রথম অনুরোধ ছিল, স্বাধীনতা যুদ্ধে সাফল্যের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে ব্রিটেনের স্বীকৃতি।
বার্টলেট উল্লেখ করেন, বৈঠকের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বিট্রেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। আর বিট্রেনের এ উদ্যোগ অন্যান্য কমনওয়েলথ ও পশ্চিমা দেশগুলোকে এ কাজে উৎসাহিত করেছিল।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের রেকর্ড অনুসারে, হিথ নিজেই পরে হাউস অব কমেন্সে ভাষণ দেয়ার সময়ে বঙ্গবন্ধুর সাথে তার বৈঠকের বিস্তারিত জানিয়েছিলেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটে শেখ মুজিব আমার সঙ্গে দেখা করতে এলে আমি তাকে বুঝিয়েছিলাম আমাদের নীতি হল ভারতীয় উপমহাদেশের তিনটি দেশের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করা।
হিথ আরো বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতার চেষ্টা করবো।
যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্ত করার দাবি
বার্টলেট বলেন, ব্রিটেনের কাছে বাংলাদেশী নেতার অপর উল্লেখযোগ্য দাবি ছিল যে আমেরিকানদের বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্যকে চাপ দিতে হবে।
ব্রিটিশ ওই সাংবাদিক আরো উল্লেখ করেন, যদিও এখনকার মতো তখনও যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল, তবু, এটি খুব কঠিন দাবি ছিল। কারণ, মার্কিন প্রশাসন মুক্তিযুদ্ধকালে পশ্চিম পাকিস্তানের পাশে আন্তরিকভাবেই ছিল।
কিন্তু তিনি বলেন, বাংলাদেশের নেতার অনুরোধের প্রেক্ষিতে হিথ মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনকে চিঠি লিখেছিলেন, যা কেবলমাত্র বাংলাদেশকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আমেরিকার স্বীকৃতিই নয় ‘একই কাজ করতে পাকিস্তানের নতুন নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টোকেও রাজি করাতে সাহায্য করেছিল।’
বার্টলেট বলেন, আমেরিকা ১৯৭২ সালের বসন্তে বাংলাদেশকে যথাযথভাবে স্বীকৃতির প্রস্তাব দিয়েছিল এবং পাকিস্তান তা করেছিল ১৯৭৪ সালে।
বার্টলেট অবশ্য উল্লেখ করেন, বাংলাদেশকে পাকিস্তানের স্বীকৃতি প্রাথমিকভাবে ব্রিটিশ কিংবা আমেরিকান প্রভাবের কারণে হয়নি, মূলত এটি হয়েছে মুসলিম দেশগুলোর ব্যাপক চাপের প্রভাবে।
পূর্ব-পশ্চিমের মধ্যে যে কোন আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক বাতিল
বঙ্গবন্ধু ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে রেসকোর্স ময়দানে তার প্রথম ভাষণে বলেছিলেন, ভুট্টো তাকে পাকিস্তানের সাথে একটি শিথিল ফেডারেশনের মধ্যেও বাংলাদেশকে রাখার সুযোগ বিবেচনা করতে বলেছিলেন।
বাংলাদেশের নেতা সেই ঐতিহাসিক দিনের ভাষণে এমন সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু, নিজের দেশে পা রাখার আগেই তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন।
নিক্সনকে লেখা হিথের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আমার সাথে তার (বঙ্গবন্ধু) আলোচনায় তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে যে কোন আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক নাকচ করে দিয়েছিলেন।
হিথ উল্লেখ করেন, ভুট্টোকে বাংলাদেশের স্বীকৃতির অনিবার্যতা মেনে নিতে আপনি (নিক্সন) যা কিছু করতে পারেন তা সবচেয়ে সহায়ক হবে।
বার্টলেট স্মরণ করেন, দেশে ফেরার আগে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা লন্ডনের ক্লারিজেস হোটেলে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন এবং সুপরিচিত টিভি উপস্থাপক ডেবিড ফ্রস্টসহ বেশকিছু টিভিতে সাক্ষাতকারও দিয়েছিলেন।
তিনি লিখেছেন, স্বভাবতই তাকে বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে অনেক প্রশ্ন করা হয়েছিল। তবে, এ সম্পর্কে তাঁর ধারণা খুব সীমিত ছিল কারণ তাঁকে লন্ডন আসার আগ পর্যন্ত পাকিস্তানের নির্জন কারাগারে রাখা হয়েছিল।
বার্টলেট আরো বলেন, তা সত্ত্বেও তিনি সংবামাধ্যমকে বিমোহিত করতে পেরেছিলেন বলে মনে হয়েছিল এবং এটি আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যে এডওয়ার্ড হিথকে রাজি করানোর একটি কারণ হতে পারে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মান-অভিমান ভুলে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসীদের ঐক্যবদ্ধভাবে সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে এগিয়ে যেতে হবে।
স্বাধীনতার চেতনায় সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে এগিয়ে যেতে হবেঃ আজ রোববার দুপুরে জাতীয় পার্টি (জেপি)’র ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনটি রমনার ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাঁচাতে হবে। বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে- বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হবে। সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিজয়কে সুসংহত করতে হলে- মুক্তিযুদ্ধেরচেতনাকে বাঁচাতে হবে।
দেশের উন্নয়নকে বাঁচাতে হলে ক্ষমতার মঞ্চে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই- মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, রাজনীতিকে ভালো ও মেধাবীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে, নতুবা খারাপ লোকদের হাতে রাজনীতি থাকলে দেশ খারাপ থাকবে। ৭৫ পরবর্তী সময়ে দেশ উল্টো পথে চলেছে, বিপ্লবের বদলে প্রতিবিপ্লব হয়েছে। বার বার রাজনৈতিক সম্পর্কে দেয়াল তৈরি হয়েছে।
রাজৈনতিক দলের মধ্যে কোন ব্রিজ বা সেতু তৈরি হয়নি- জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে শক্তিশালী বিরোধীদল দরকার। কিন্তু আমাদের দেশে রাজনীতির নষ্ট দলের কাছে বারেবারে বিভিন্ন দল আত্মসমর্পণ করেছে। নষ্ট রাজনীতি নষ্ট রাজনীতিককেই জন্ম দেয়।
ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, নষ্ট রাজনীতি নষ্ট মানুষের জন্ম দেয়, নষ্ট রাজনীতিবিদের জন্ম দেয়। নষ্ট রাজনীতিকরা নষ্ট রাজনীতিকে বাঁচিয়ে রাখে, আর বাংলাদেশের অবস্থা হয়েছে ঠিক তাই। এজন্য তো আমরা মুক্তিযুদ্ধ করিনি। যে লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ, সেই বাংলাদেশ কি আমরা রাখতে পেরেছি?
আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক বলেন, খারাপ লোকদের কাছে রাজনীতি গেলে দেশটা খারাপ হয়ে যাবে। খারাপ লোকের কাছে রাজনীতি থাকলে তারা এমপি হবে, মন্ত্রী হবে, দেশ চালাবে। ভালো লোকদের রাজনীতিতে আনতে হবে। সৎ লোকদের আনতে হবে। মেধাবীদের রাজনীতিতে আনতে হবে, তা না হলে রাজনীতি মেধাশূন্য হয়ে যাবে।
চরিত্রবানদের রাজনীতিতে নিয়ে আসতে হবে, তা না হলে রাজনীতি চরিত্রহীন হয়ে যাবে।
ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, স্বাধীনতার পর তিন তিনবার কেউ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হতে পারেননি। যেটা আমার ভাগ্যে জুটেছে। আল্লাহর রহমত আর শেখ হাসিনার উছিলায়। আমার ১৭ বছরের মন্ত্রিত্ব, এটাও বিরল সৌভাগ্যের ব্যাপার। তিনবারের সাধারণ সম্পাদক সৌভাগ্যের ব্যাপার। উপরে আল্লাহ, নিচে শেখ হাসিনা- এত দূর পর্যন্ত আমাদের নিয়ে এসেছেন। এটা অস্বীকার করলে আমার অস্তিত্বকে অস্বীকার করা হবে। এটাই বাস্তবতা।
জেপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সভাপতিত্বে সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পাটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, জেপির সাধারণ সম্পাদকশেখ শহিদুল ইসলাম, গণতান্ত্রিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে জোট গঠন নিয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জোট করা ছিল জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে ততদিন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থাকতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ওয়ার্কার্স পার্টি সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, বিএনপি সংবিধান নিয়ে টানাটানি শুরু করেছে। অশুভ উদ্দেশ্যে বিএনপি দেশকে পেছনের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায়।
এ সময় বিএনপিকে নিজেদের দল মেরামত করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত কোন অপপ্রচারকে প্রশ্রয় না দেয়ার জন্য গণতন্ত্র ও আইনের শাসনে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, মানুষের অধিকার কেউ যাতে কেড়ে নিতে না পারে সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে এমন কোনো অপপ্রচারে প্রশ্রয় দিবেন না: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “গণতন্ত্র ও আইনের শাসনে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলসমূহ এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনুরোধ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এমন কোন উদ্ভট ধারনাকে প্রশ্রয় দিবেন না এবং ইন্ধন যোগাবেন না।”
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সন্ধ্যায় বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের চতুর্থ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে একথা বলেন।
বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বেসরকারি চ্যানেলে প্রচারিত এই ভাষণে আগামী নির্বাচন এই বছরের শেষে বা পরের বছরের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিন্তু এখন লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, স্বাধীনতা বিরোধী, ক্ষমতালোভী, জনগণের সম্পদ লুণ্ঠনকারী আর পরগাছা গোষ্ঠির সরব তৎপরতা শুরু হয়েছে। এদের লক্ষ্য ঘোলাটে পরিস্থিতি সৃষ্টি করে পিছনের দরজা দিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করা। গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করা। কাজেই সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, “এরা লুণ্ঠন করা অর্থ দিয়ে দেশে-বিদেশে ভাড়াটে বুদ্ধিজীবী ও বিবৃতিজীবী নিয়োগ করেছে। তারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়ে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যে ও ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এদের মিথ্যাচারে বিভ্রান্ত হবেন না।”
তিনি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং তার সরকার এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশা করছি। নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য বাংলাদেশে এই প্রথম একটি আইন পাশ করা হয়েছে। সেই আইনের আওতায় সার্চ কমিটি করে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে আর্থিক স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। সরকার সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহায়তা দিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের দল, জনগণের শান্তিতে বিশ্বাসী, জনগণের শক্তিতে বিশ্বাসী। জনগণ ভোট দিয়ে বিজয়ী করলে আওয়ামী লীগ দেশ গড়ার জাতীয় দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে। যদি বিজয়ী না করে, তাহলে আমরা জনগণের কাতারে চলে যাব। তবে, যেখানেই থাকি, আমরা জনগণের সেবা করে যাব।
কিন্তু ষড়যন্ত্র করে কেউ যাতে জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, সেদিকে সকলের সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একইসঙ্গে, কেউ যাতে আন্দোলনের নামে অরাজকতা সৃষ্টি করে মানুষের জানমালের এবং জীবিকার ক্ষতিসাধন করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, গত ১৪ বছরে বহির্বিশে^ বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হয়েছে। বাংলাদেশকে আজ আর কেউ বন্যা, খরা, দুর্যোগের দেশ হিসেবে দেখে না। বাংলাদেশ এখন উদীয়মান অর্থনীতির দেশ। উন্নয়নের রোল মডেল।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে, উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতিসংঘসহ দুই ডজনেরও বেশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং সংগঠনে বাংলাদেশ সক্রিয় সদস্য। গত অক্টোবরে ৫ম বারের মত বিপুল ভোটে বাংলাদেশ জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছে এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে স্থলসীমানা চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিটমহলবাসীর ৬৮ বছরের বন্দী জীবনের অবসান হয়েছে। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমানার শান্তিপূর্ণ মীমাংসার মাধ্যমে বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরের ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার সামুদ্রিক এলাকার উপর সার্বভৌম অধিকার অর্জন করেছে। তাঁর সরকার ১১ লাখের মত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বিশে^ মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী আবারো আগামীতে সুখী ও সমৃদ্ধশালী স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলে জাতির পিতার কাঙ্খিত সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর দৃঢ় প্রত্যয় ও পুনর্ব্যক্ত ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পর আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য হলো স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের নানা অনুসঙ্গ ধারণ করে আমরা তরুণদের প্রশিক্ষিত করে তোলার উদ্যোগ নিয়েছি। স্মার্ট বাংলাদেশে, স্মার্ট গভর্মেন্ট, স্মার্ট জনগোষ্ঠী, স্মার্ট শিল্প কলকারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাণিজ্য, কৃষিসহ সকল ক্ষেত্রে রোবোটিকস, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ন্যানো টেকনোলজি, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, জৈব প্রযুক্তি অর্থাৎ ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। সকল ক্ষেত্রে গবেষণার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শোষণ-বঞ্চনামুক্ত একটি সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। আসুন, স্মার্ট দেশ গড়ার মাধ্যমে একটি সুখী-সমৃদ্ধ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলে আমরা তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করি। এদেশের সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটাই।
প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-জামাত জোট সরকারের শেষ অর্থবছরে আমরা কোথায় ছিলাম আর এখন আমাদের অবস্থান কোথায় সে বিষয়ে কয়েকটি আর্থ-সামাজিক সূচকের মাধ্যমে তাঁর ভাষণে দেশের অবস্থান তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, জোট সরকারের শেষ অর্থবছর ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল ৫৪৩ মার্কিন ডলার। বর্তমানে তা ২ হাজার ৮২৪ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
২০০৫-০৬ অর্থবছরে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ। বর্তমানে দারিদ্রের হার ২০ শতাংশ। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। করোনা মহামারির আগে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে তা ৮ দশমিক এক-পাঁচ শতাংশে দাঁড়িয়েছিল। ২০০৫-০৬ মেয়াদে জিডিপির আকার ছিল মাত্র ৬০ বিলিয়ন ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরে জিডিপি’র আকার হয়েছে ৪৬০ দশমিক সাত-পাঁচ বিলিয়ন ডলার।
তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটের আকার ছিল ৬১ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাজেটের আকার ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা।
বিএনপি-জামাতের শেষ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি খাতে আয় হয়েছিল ১০ দশমিক পাঁচ-দুই বিলিয়ন ডলার। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫২ দশমিক শূন্য-আট বিলিয়ন ডলারে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ৪ দশমিক আট-শূন্য বিলিয়ন ডলার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৫-০৬ সময়ে শিশুমৃত্যুর হার ছিল প্রতি হাজারে ৪৫ জন। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ২২ জনে। গড় আয়ু সাড়ে ৬৪ বছর থেকে ৭৩ বছরে উন্নীত হয়েছে। সাক্ষরতার হার ৪৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৫ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির হার ছিল ৭১ শতাংশ, তা হয়েছে ৯৯ শতাংশ।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৩৭৩ কোটি টাকা। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ১৩ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে কৃষি খাতে ভতুর্কি দেওয়া হয়েছিল ৫৯২ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে কৃষি খাতে মোট ভর্তুকির পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে দেশে চাল উৎপাদন হয়েছিল ১ কোটি ৭৯ লাখ মেট্রিক টন। ২০২১-২২ অর্থবছরে চাল, গম, ভুট্টা উৎপাদন হয়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ৮৮ হাজার মেট্রিক টন।
প্রবাসী আয় এবং দেশের রিজার্ভের খতিয়ানও তুলে ধরেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রেমিট্যান্সে ২০২১-২০২২ অর্থবছরে বিদেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশীরা পাঠিয়েছেন ২২ দশমিক শূন্য-সাত বিলিয়ন ডলার। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার। ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে তা ৪৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা ও মূল্যস্ফীতির কারণে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ বিলিয়ন ডলারে। বর্তমানে ৫ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো রিজার্ভ রয়েছে।
দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার চিত্র তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, বিএনপি-জামাত জোটের শেষ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল মাত্র ৩ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ২৫ হাজার ৮২৬ মেগাওয়াট। সে সময় বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠির হার ছিল মাত্র ৪৫ শতাংশ। ২০২২ সালে শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধা দিয়েছি। সব ঘর আলোকিত করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ দেশের শতভাগ মানুষ বিদ্যুতের আওতায়। নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি বর্ধিত চাহিদা মেটানোর জন্য আমরা এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করে এলএনজি আমদানির ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত আজ মধ্যবিত্ত-নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে গ্যাসের চুলায় রান্না হয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের ৪১তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে সামিল হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। জেন্ডার সমতা এবং নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষে।
শেখ হাসিনা বলেন, বিগত ১৪ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু, তিস্তা সেতু, পায়রা সেতু, ২য় কাঁচপুর সেতু, ২য় মেঘনা, ২য় গোমতী সেতুসহ শত শত সেতু, সড়ক, মহাসড়ক নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ করেছে।
এছাড়া, ঢাকায় হানিফ ফ্লাইওভার, তেজগাঁও-মগবাজার-মালিবাগ ফ্লাইওয়ার, কমলাপুর-শাহজাহানপুর ফ্লাইওভার, বনানী ফ্লাইওভার, টঙ্গীতে আহসানউল্লাহ মাস্টার ফ্লাইওভার, চট্টগামে আক্তারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভার ও বদ্দারহাট ফ্লাইওভারসহ বহুসংখ্যক ছোটবড় ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরাই প্রথম ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ, নবীনগর-ডিইপিজেড-চন্দ্রা, ঢাকা-এলেঙ্গা মহাসড়ক চার বা তদুর্ধ্ব লেনে উন্নীত করি। ঢাকা-মাওয়া-জাজিরা এক্সপ্রেসওয়ে দেশের প্রথম এ ধরনের মহাসড়ক। এলেঙ্গা-রংপুর মহাসড়ক, আরিচা মহাসড়ক এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
এয়ারপোর্ট থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে আগামি বছর যানবাহনের জন্য খুলে দেওয়া হবে। ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে খুলনা পর্যন্ত এবং চট্টগ্রাম হতে কক্সবাজার পর্যন্ত রেল যোগাযোগ স্থাপনের কাজ চলছে। যমুনা নদীর উপর রেলসেতু নির্মাণ কাজও এগিয়ে যাচ্ছে। গত নভেম্বরে একদিন ১০০ সেতু এবং ডিসেম্বরে ১০০ সড়ক উদ্বোধন করা হয়ে। দেশের উন্নয়নের ইতিহাসে এ এক অনন্য অর্জন।
২০০৯ থেকে ২০২২ পর্যন্ত প্রায় ৭১৮ কিলোমিটার মহাসড়ক ৪ বা তদূর্ধ্ব লেনে উন্নীত করা হয়েছে। ১ লাখ ১৩ হাজার ৩০৩ মিটার সেতু নির্মাণ বা পুনঃনির্মাণ, ২১ হাজার ২৬৭ মিটার কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে।
সরকার প্রধান বলেন, ২০০৯ সাল থেকে একটানা ১৪ বছর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। এই ১৪ বছরে আমরা দেশ ও দেশের জনগণকে কি দিতে পেরেছি- তার বিচার-বিশ্লেষণ আপনারা করবেন। বর্ষপূর্তিতে আমি শুধু কয়েকটি বিষয়ে আলোকপাত করে আপনাদের স্মৃতিকে নাড়া দিতে চাই।
তিনি বলেন, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাসহ এ দেশের মহৎ ও বৃহৎ অর্জনসমূহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগ সরকারের হাত ধরেই অর্জিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নানা প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ সম্পন্ন করেছি। এই সেতু দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলাকে সড়ক পথে ঢাকা ও অন্যান্য জেলার সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করেছে। গত ২৮-এ ডিসেম্বর মেট্রোরেল উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আমরা যোগাযোগের ক্ষেত্রে আরেকটি মাইলফলক স্পর্শ করেছি।
কিছুদিনের মধ্যেই শুধু বাংলাদেশেই নয়, চট্টগ্রামে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম পাতাল সড়কপথ- বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধনের মাধ্যমে আরেকটি মাইলফলক স্থাপিত হবে। পাবনার ঈশ^রদীর রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আমরা ২০১৮ সালের মে মাসে মহাকাশে নিজস্ব স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপন করেছি।
তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৯ সালে আমরা যখন সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখনও বিশ^ব্যাপী মন্দাবস্থা চলছিল। চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম ছিল আকাশচুম্বী। অন্যদিকে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ছিল নি¤œমুখী। বিদ্যুতের অভাবে দিনের পর দিন লোডশেডিং চলতো। গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানার মালিকেরা যেমন হাহাকার করতো, তেমনি চুলা জ¦লতো না মানুষের বাড়িতে। সারসহ কৃষি উপকরণের উচ্চমূল্য এবং জ¦ালানি তেলের অভাবে কৃষকের নাভিশ^াস উঠেছিল।
তিনি বলেন, এমনি এক অর্থনৈতিক দূরবস্থার মধ্যে আমরা সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেই। নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে আমরা রূপকল্প-২০২১ প্রণয়ন করি এবং জনগণের সামনে তুলে ধরি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠনের পর সেই ইশতেহারের আলোকে আমরা আশু করণীয়, স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন করে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করি।
পাশাপাশি স্থবির অর্থনীতিকে সচল করতে শুরুতেই কৃষি, জ¦ালানি, বিদ্যুৎসহ কয়েকটি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা কাজ শুরু করি। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বেশ কয়েকটি ছোট বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য আমরা মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই রাসায়নিক সারের দাম কমিয়ে দেই। এরপর আরও দু-দফায় সারের দাম হ্রাস করে কৃষকের ক্রয় ক্ষমতার আওতায় আনা হয়। এমনিভাবে প্রতিটি খাতে আমরা পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেই।
রূপকল্প ২০২১-এর পর আমরা রূপকল্প ২০৪১ এবং বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ প্রণয়ন করেছি। রূপকল্প ২০২১-এ আমরা অন্যান্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলাম। আজকে সন্তুষ্টচিত্তে বলতে পারি, আমরা সে প্রতিশ্রুতি পূরণে সক্ষম হয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২০২০ সালের শুরুতে বিশ^ব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারি ছড়িয়ে পড়ার পর অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশও এক গভীর অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়েছিল। কিন্তু আপনাদের সহায়তায় এবং আমাদের সরকারের সময়মত উদ্যোগ গ্রহণের ফলে আমরা খুব ভালোভাবেই সেই মহামারি মোকাবিলা করতে পেরেছি। টিকা পাওয়ার যোগ্য শতভাগ মানুষকে বিনামূল্যে টিকা প্রদান করা হয়েছে।
তিনি বলেন, তাঁর সরকার অর্থনীতিতে মহামারির প্রভাব মোকাবিলায় ২৮টি প্যাকেজের আওতায় ২ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দিয়েছে এবং গার্মেন্টসসহ অন্যান্য শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বেতনভাতা নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি ৫০ লাখ প্রান্তিক মানুষকে দুই দফায় আড়াই হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারির সময় প্রায় ৭ কোটি ৫৮ লাখ ৩৬ হাজার মানুষ নানাভাবে উপকৃত হয়েছেন এবং প্রতিষ্ঠান উপকৃত হয়েছে প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৬৭টি।
তবে করোনাভাইরাস মহামারির ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে না উঠতেই শুরু হয়েছে রাশিয়া-উইক্রেন যুদ্ধ। পশ্চিমা দেশগুলোর এবং রাশিয়ার পাল্টাপাল্টি অবরোধের ফলে খাদ্য, জ¦ালানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পরিবহন খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ফলে আমাদের দেশেও জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। আমরা কয়েকটি পণ্য বেশি দামে কিনে স্বল্পদামে সীমিত আয়ের মানুষের মধ্যে বিতরণ করছি।
১ কোটি পরিবার টিসিবি’র ফেয়ার প্রাইজ কার্ডের মাধ্যমে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল ও সাশ্রয়ী মূল্যে ভোজ্য তেল, ডাল ও চিনি ক্রয় করতে পারছেন। ৫০ লাখ পরিবার ১৫ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি চাল কিনতে পারছেন। অসহায় মানুষদের ভিজিডি ও ভিজিএফ-এর মাধ্যমে ৩০ কেজি করে চাল প্রতিমাসে বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে।
তাঁর সরকার একইসঙ্গে হিজড়া, বেদে, মান্তা, দলিত, হরিজন, কুষ্ঠরোগীসহ সকল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মানুষের জন্য পুর্নবাসন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ মাছ, মাংস ও ডিম উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বে প্রথম। বর্তমানে বিশে^ বাংলাদেশ ধান উৎপাদনে ৩য়, পাট উৎপাদনে ২য়, স্বাদু পানির মাছ উৎপাদনে ২য়। প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ কৃষককে কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড প্রদান করা হয়েছে। ১ কোটি কৃষক ১০ টাকা দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট খুলেছেন। ভর্তুকির টাকা সরাসরি ব্যাংকে জমা হয়। সেচের জন্য সুলভমূল্যে বিদ্যুৎ এবং কৃষিযন্ত্র ক্রয়ে ৭০ শতাংশ ভর্তুকি পাচ্ছেন।
১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই অনেকগুলি অঞ্চলে দেশী-বিদেশী কোম্পানি বিনিয়োগ শুরু করেছে। কৃষি পণ্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষি উৎপাদন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে কোল্ডস্টোরেজ স্থাপন ও ফসল প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‘আমার গ্রাম-আমার শহর’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রামের জনগণকে শহরের সকল নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। গ্রামেও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে গেছে। এ পর্যন্ত ৩৫ লাখেরও বেশি মানুষকে বিনামূল্যে জমিসহ ঘর প্রদান করা হয়েছে। ২ কোটি ৫৩ লাখ শিক্ষার্র্থীকে বৃত্তি-উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ দেশ পরিচালনার সুযোগ পায়। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ – এই ৫ বছরে দেশের প্রতিটি খাতে অভাবনীয় উন্নয়ন সাধিত হয়। বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়।
দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে পাহাড়ে শান্তি স্থাপন করে। ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তির স্বাক্ষরিত হয়। ২১-এ ফেব্রুয়ারি ইউনেসকো কর্তৃক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা পায়। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চারনেতা হত্যার বিচার শুরু করে।
বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ২৩ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে আমরা অর্জন করি মহান স্বাধীনতা। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা যখন যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের মাধ্যমে অর্থনীতিকে মজবুত ভিত্তির উপর দ্বার করানোর দ্বারপ্রান্তে, তখনই ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি তাঁকে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ হত্যা করে। স্তব্ধ হয় বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা।
সরকার প্রধান বিএনপি-জামাতের দু;সাশনের উল্লেখ করে বলেন, ২০০১ সালের প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে জামায়াত-বিএনপি জোট আবার ক্ষমতায় আসে। বিএনপি-জামাতে সরকারের ঐ ৫ বছর ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, হত্যা-গুম, ধর্ষণ, লুটপাট, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়ানো এবং জঙ্গিবাদের লালন-পালনসহ অপশাসন-কুশাসনে জোট সরকার যে মাইলফলক স্থাপন করেছিল, এদেশের মানুষ আগে কখনও তা দেখেনি। শুধু আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয় ওই সময়। অর্থনীতির চাকা স্থবির হয়ে পড়ে। মূল্যস্ফীতি, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস, সাক্ষরতা হ্রাস জনজীবন দুর্বিসহ করে তোলে।
তিনি বলেন, মেয়াদ শেষে নানা কুটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে স্বাভাবিক ক্ষমতা হস্তান্তরে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ভোটার তালিকায় ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার অন্তর্ভুক্ত করে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার ষড়যন্ত্র করে। দলীয় রাষ্ট্রপতিকেই প্রধান উপদেষ্টার পদ দিয়ে সরকার গঠন করে ৬ জানুয়ারি নির্বাচনের নামে প্রহসনের উদ্যোগ নেয়। জনগণ তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
এমনি এক অরাজক পরিস্থিতির মুখে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। তারাও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে শুধু ব্যর্থই হয়নি, নানা বিতর্কিত কর্মকা-ে জড়িয়ে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কালিমালিপ্ত করে।
তবে, শেষ পর্যন্ত সেই সরকার ছবিসহ একটি সুষ্ঠু ভোটার তালিকা তৈরি এবং স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনী সংস্কার সম্পন্ন করে। ২০০৮ সালের ২৯-এ ডিসেম্বর একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন হয়। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে।
তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা সহ ’৭৫ এর ১৫ আগস্টের শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং কারা অভ্যন্তরে হত্যাকান্ডের শিকার জাতীয় চার নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ৩০-লাখ শহীদ এবং ২-লাখ নির্যাতিত মা বোনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
২০০৪ সালের ২১-এ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহত আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভী রহমানসহ ২২ নেতা-কর্মীকে এবং ২০০১ সালের পর নির্মম হত্যাকা-ের শিকার সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ.এম.এস কিবরিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টার, মঞ্জুরুল ইমাম, মমতাজ উদ্দিনসহ ২১ হাজার নেতাকর্মীকেও স্মরণ করেন।
তিনি ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামাত জোটের অগ্নি সন্ত্রাস এবং পেট্রোল বোমা হামলায় যাঁরা নিহত হয়েছেন তাঁদের স্মরণ করে আহত ও স্বজনহারা পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের চার বছরপূর্তি উপলক্ষে আমি দেশবাসী এবং দেশের বাইরে অবস্থানরত প্রবাসী ভাইবোনদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। একইসঙ্গে আপনাদের খ্রিষ্টীয় নতুন বছর ২০২৩-এর শুভেচ্ছা জানাই।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রূপকল্প-২০৪১ লক্ষ্য হচ্ছে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশে^র মানচিত্রে প্রতিষ্ঠিত করা। বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০-এর লক্ষ্য হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা করে বাংলাদেশকে একটি টেকসই উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে হিসেবে টিকিয়ে রাখা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার সুফল জনগণ আজ পেতে শুরু করেছে।
“যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ/প্রাণপণে সরাব জঞ্জাল,/এ বিশ^কে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি/
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।/”- কবি সুকান্তের ‘ছাড়পত্র’ কবিতার চারটি চরন তুলে ধরে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী।
চারদিন ব্যাপী ঢাকা লিট ফেস্ট ২০২৩ আজ শুরু হয়েছে। আগামী ০৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই সাহিত্য আসর। কোভিড মহামারির কারণে তিন বছর বিরতির পর এবার পুনরায় শুরু হলো লিট ফেস্টের আয়োজন। লিট ফেস্টের এটি দশম আয়োজন।
ঢাকা লিট ফেস্টের প্রথম সকালেই দেশি-বিদেশি কবি, সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ ও লেখকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ।
নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক তানজানিয়ান-ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক আবদুলরাজাক গুরনাহ, বাংলাদেশের সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, ভারতীয় লেখক ও সাহিত্য সমালোচক অমিতাভ ঘোষ এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা আজ সকালে ঢাকা লিট ফেস্ট ২০২৩-এর উদ্বোধন করেন।
বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে মনিপুরী, ক্লাসিক্যাল, রবীন্দ্র সংগীতের সুরে ও নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয় দশম উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা লিট ফেস্টের তিন পরিচালক যথাক্রমে ড. কাজী আনিস আহমেদ, সাদাফ সায ও আহসান আকবার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আবদুলরাজাক গুরনাহ বলেন, ‘আমি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এসেছি। আমি ধারণা করছি এই আয়োজনের মাধ্যমে এমন কিছু দেখবো যা আমি জীবনেও দেখিনি। আমি মনে করি, এই আয়োজনের শুরুটা বেশ চমকপ্রদ ছিল।’
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, ঢাকা লিট ফেস্ট এর সাফল্য কামনা করে বলেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এই আয়োজনের সাথে নানাভাবে সম্পৃক্ত। ভবিষ্যতে এই সম্পৃক্ততা আরো বাড়বে।
ভারতীয় লেখক ও সাহিত্য সমালোচক অমিতাভ ঘোষ বলেন, ‘এরকম একটা আয়োজনে এসে আমি সম্মানিত বোধ করছি। অমিতাভ ঘোষ জন্মসূত্রে বাংলাদেশী। তার মায়ের বাড়ি গোপালগঞ্জ এবং বাবার বাড়ি বিক্রমপুর। তিনি বাংলাদেশেই বড় হয়েছেন। শৈশবের স্মৃতিচারণ করে অমিতাভ ঘোষ বলেন, আমি সবসময় বাংলাদেশের কথা বলি।
বাংলাদেশের ভাষা খুব চমৎকার। বাংলাদেশ এবং বাংলা ভাষা দিন দিন আমার জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।’
আয়োজকরা জানান, এবারের চার দিনের এই আয়োজনে থাকবে কথোপকথনের একটি বৈচিত্র্যময় মিশ্রণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সেশন, শিশু ও তরুণদের জন্য আকর্ষণীয় আয়োজন, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, নাট্য, সংগীত এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এবারের আয়োজন সাজানো হয়েছে ভিন্ন আঙ্গিকে। প্রতিদিন সকাল ১০.০০ টা থেকে রাত ০৮.০০ টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলবে।
ঢাকা লিট ফেস্টের টাইটেল স্পন্সর হিসেবে আছে বাংলা ট্রিবিউন ও ঢাকা ট্রিবিউন। সেই সাথে প্লাটিনাম স্পন্সর হিসেবে আছে দ্য সিটি ব্যাংক লিমিটেড এবং স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার ব্রিটিশ কাউন্সিল। অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ও সরাসরি টিকিটের লোকেশন জানতে লগইন করতে হবে িি.িফযধশধষরঃভবংঃ.পড়স -এ। এবারের আয়োজনে প্রবেশের জন্য টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
২০০ এবং ৫০০ টাকায় টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। অনলাইনে এবং সশরীরে টিকিট কেনার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া বাংলা একাডেমির মূল প্রবেশমুখে আছে স্পট রেজিস্ট্রেশনের সুবিধা। ১২ বছরের কম বয়সী ও শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিরা বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারবেন। অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে টিকিট কেনার ব্যবস্থা রয়েছে।
পাশাপাশি যেসব স্থানে টিকিট পাওয়া যাবে,– ঢাকা লিট ফেস্ট অফিস (নিকেতন, ঢাকা), মীনা সুইটস (বনানী এক্সপেরিয়েন্স জোন এবং পান্থপথ শাখা), মীনা বাজার (ধানমন্ডি ২৭, উত্তরা আউটলেট, ইসিবি চত্বর আউটলেট, শান্তিনগর আউটলেট, বনশ্রী এবং মগবাজার আউটলেট), বাংলার মিষ্টি (বনানী ও গুলশান আউটলেট), আড়ং (মিরপুর, গুলশান ও উত্তরা আউটলেট) এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়।
ঢাকা লিট ফেস্টের অফিস সুত্র জানায়, টিকিটের মূল্য দৈনিক জনপ্রতি ৫০০ টাকা। তবে একসঙ্গে চার দিনের টিকিট নিতে চাইলে ৫০০ টাকা ছাড়। এক্ষেত্রে একেক জন দর্শনার্থী ১৫০০ টাকায় চারদিনের টিকিট পেয়ে যাবেন।
এদিকে শিক্ষার্থীরা প্রতিজন ২০০ টাকায় টিকিট কিনতে পারবেন। শিক্ষার্থীদের বেলায় একসঙ্গে চার দিনের টিকিট কিনলে লাগবে ৫০০ টাকা, অর্থাৎ তাদের জন্য থাকছে ৩০০ টাকা ছাড়।