ইতিহাস-ঐতিহ্য সমৃদ্ধ রতনপুর জমিদার বাড়ি

ইতিহাস-ঐতিহ্যসমৃদ্ধ জেলার বিরামপুর উপজেলার জমিদার বাড়িটি যুগ-যুগ ধরে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দূরদূরান্ত থেকে এটি দেখতে আসেন বহু পর্যটক। অনেকে ভবনের ভেতরে-বাইরে ছবি তোলেন। সংষ্কার করলে এটি একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ইতিহাস-ঐতিহ্য সমৃদ্ধ রতনপুর জমিদার বাড়ি

বিরামপুর উপজেলার প্রবীন রাজনীতিবিদ জেলা ন্যাপের সহ-সভাপতি আব্দুল আজিজ সরকার জানান, তিনি ৮৭ বছর বয়সে পদার্পন করেছেন। তিনি বলেন, অষ্টাদশ শতাব্দীতে বিরামপুরসহ আশপাশের অঞ্চলগুলোতে প্রজাদের কাছ থেকে খাজনা আদায় করার জন্য ব্রিটিশরা ফুলবাড়ী জমিদারের পক্ষে রাজকুমার সরকারকে রতনপুর কাচারিতে পাঠায়। কিন্তু রাজকুমারের মেধা আর কৌশল তার ভাগ্যের চাকা বদলে দিয়েছিল। রাজকুমারের খাজনা আদায়ে পারদর্শিতা ও নৈপুণ্যে জমিদার সাড়ে ছয় শ’ বিঘা জমি উপহারসহ তার নিজের বোনের সঙ্গে রাজকুমারের বিয়ে দেন। সৌভাগ্যক্রমে সাধারণ খাজনা আদায়কারী থেকে তিনি জমিদার বনে যান।

ইতিহাস-ঐতিহ্য সমৃদ্ধ রতনপুর জমিদার বাড়ি

বিরামপুর উপজেলার রতনপুর জমিদারবাড়ির পরবর্তী অধ্যায়ে উত্তরাধিকারী হিসেবে পিতার মৃত্যুর পর ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে একমাত্র পুত্র রখুনী কান্ত বাবুই পৈতৃকসূত্রে জমিদারি লাভ করেন।
রখুনী কান্ত বাবু জমিদার থাকাকালীন তার বাড়িতে ১০০টি বিড়াল পুষেছিলেন, যে বিড়ালগুলোর দুধের বাটি দিলেও দুধ পান করত না যতক্ষণ পর্যন্ত মনিবের হুকুম না হতো। জমিদার রখুনী কান্তর দরবারে প্রতিবেশী কেউ গেলে প্রস্থানের পর উক্ত স্থান ধুয়েমুছে পরিষ্কার করা হতো। জমিদারের কোনো সন্তান ছিল না। ১৯৭১ সালে এ দেশে স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু হলে জমিদার রখুনী কান্ত বাবু স্ত্রীকে নিয়ে একটি মহিষের গাড়িতে করে রাতের আঁধারে ভারতের কলকাতায় তার বংশধরদের কাছে চলে যান।

বর্তমানে জমিদার বাড়ি  টিতে ভূমি অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হলেও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় উত্তর পাশে একটি নতুন ভবন তৈরি করা হয়েছে। যেটি বিরামপুর উপজেলার বর্তমান ৩ নং খানপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ইতিহাস-ঐতিহ্য সমৃদ্ধ রতনপুর জমিদার বাড়ি

 

বর্তমানে জমিদারবাড়ির পাশে রয়েছে ইসলামিক মিশন, মাদ্রাসা, মসজিদ, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানসহ বিশাল একটি পুকুর। বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিমল কুমার সরকার বলেন, ‘প্রাচীন জমিদার বাড়িটির বয়স প্রায় ২০০ বছর। তিনি বলেন, সংষ্কারের অভাবে বাড়িটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

এটি সংস্কার করে হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নিতে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ আজিজুল ইমাম চৌধুরীসহ তার পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের জানানো হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেন এই পুরাতন জমিদার বাাড়ির যুগোপযোগী ও মানসম্মত ভাবে সংষ্কার করা হলে এর নান্দনিকতা ফিরে পাবে। সেই সাথে দেশী-বিদেশী পর্যটকেরাও জমিদার বাড়িটি পরিদর্শনে এসে তৃপ্তি পাবে। সে কারনেই জমাদার বাড়িটি সংষ্কারের পর জেলা পরিষদ ডাকবাংলো হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। বাড়িটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। ফলে বিরামপুরের এই অংশে পর্যটক সমাগম বাড়বে।