প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে ২০১২ সালে নড়াইল পৌরসভার মাছিমদিয়ায় ১.৫ একর জমির উপর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয় নড়াইল পিটিআই’র।চার বছর পরে ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ শুরুর মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় এ প্রতিষ্ঠানটির। পিটিআই চালু হওয়ায় জেলার প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন হয়েছে বলে বলছেন প্রাথমিক শিক্ষক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

শহর থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চল পর্যায়ের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার নড়াইল, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ী ও শরীয়তপুরসহ ১২টি নতুন পিটিআই চালু করার মধ্যদিয়ে শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছেন।
এরই ধারাবাহিকাতায় ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি প্রাথমিক শিক্ষকদেরকে প্রশিক্ষণ শুরুর মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে নড়াইল পিটিআই।প্রতি বছর দু’শ জন প্রাইমারি শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে এ পিটিআইতে।চলতি বছর এখানে শিক্ষক প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা ১৫১জন।
বর্তমানে কিছুটা লোকবল সংকট থাকলেও স্বপ্ন পূরণের প্রত্যয়ে এগিয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানটি। এখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কারিকুলাম অনুযায়ী বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ও শিখন বিজ্ঞান পদ্ধতি, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস, শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহারের পদ্ধতিসহ নানা বাস্তব ভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারায় শিক্ষক প্রশিক্ষণার্থীরা বেশ খুশি। নড়াইল পিটিআই এ রয়েছে তিন তলা বিশিষ্ট একটি প্রশাসনিক ভবন ও একাডেমিক ভবন, দুইতলা সুপারের বাস ভবন ও ২০০ জন প্রশিক্ষণার্থীর ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ছয় তলা একটি হোস্টেল ভবন।

হোস্টেলে ২ থেকে ৩ তলা পর্যন্ত পুরুষ ও ৪ থেকে ৬ তলা পর্যন্ত মহিলা হোস্টেল।প্রথম তলায় রয়েছে পুরুষ ও মহিলাদের পৃথক ডাইনিং রুম। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার পশ্চিম কুমড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: কায়সার উদ্দিন খান হারুন বলেন, নড়াইল পিটিআই চালু হওয়ার আগে জেলার অনেক শিক্ষকই আসন সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার সুযোগ পেতেন না। কিন্তু নড়াইল পিটিআইটি চালু হওয়ার পরে এখন আমাদের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ সংকট কেটে গেছে। এখান থেকে শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রতিফলন ঘটিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার মানকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন।
নড়াইল পিটিআই এর সুপারিনটেনডেন্ট সুভাষ কুমার বিশ্বাস বলেন, এ প্রতিষ্ঠানে ১৭ জন প্রশিক্ষক থাকার কথা থাকলেও মাত্র জন ৬ প্রশিক্ষক ও ২জন সহকারি সুপারিনটেনডেন্ট দিয়ে চলছে এখানকার কার্যক্রম।এখানে নড়াইল জেলার ৩উপজেলার এবং যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ১ বছরের প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন।মোট দেড় বছরের প্রশিক্ষণ কোর্সের মধ্যে শিক্ষক প্রশিক্ষণার্থীরা ৬মাসের ইর্ন্টানী করেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রশিক্ষক সংকট কেটে গেলে প্রশিক্ষণার্থীদের আরও কার্যকর ভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করা যাবে। যা প্রাথমিক শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি জানান।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: হুমায়ুন কবীর বলেন, নড়াইল পিটিআই চালু হওয়ার আগে জেলার প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের সুযোগ দেয়া সম্ভব ছিলনা। কিন্তু বর্তমান শিক্ষা বান্ধব সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপের ফলে জেলার শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের সুযোগ অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।