শেরপুরে মুজিববর্ষে তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী গুচ্ছগ্রামে আশ্রয় পেয়েছেন

মুজিববর্ষে গুচ্ছগ্রামে বাসস্থানের সুযোগ পেয়ে ভিক্ষাবৃত্তি, চাঁদাবাজি ছেড়ে আয়বর্ধন মূলক কর্মকান্ডের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করছেন শেরপুরের তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী। তারা কেউ হাঁস-মুরগী লালন পালন করছেন, কেউ চা-পানের দোকান দিয়েছেন, কেউবা আবার কাপড় সেলাইয়ের কাজ করছেন।

শেরপুরে মুজিববর্ষে তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী গুচ্ছগ্রামে আশ্রয় পেয়েছেন

 

কেউ কেউ গুচ্ছগ্রামের পুকুরে মাছের চাষ, খোলা জমিতে সবজি চাষ, পশুপালন করার চিন্তাভাবনা করছেন। এভাবেই  নিজেদেরকে আয়বর্ধন মূলক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করনের মাধ্যমে উন্নত জীবনযাপনের স্বপ্ন দেখছেন শেরপুর সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত আন্ধারিয়া সুতিরপার তৃতীয়লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা। পরিবারে ঠাঁই না পাওয়া এসব তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী মুজিববর্ষে সরকারের দেওয়া গুচ্ছগ্রামে আশ্রয় পেয়ে নতুনভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন।

শেরপুরে মুজিববর্ষে তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী গুচ্ছগ্রামে আশ্রয় পেয়েছেন

 

আজ মঙ্গলবার সকালে আন্ধারিয়া সুতিরপার তৃতীয়লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর গুচ্ছগ্রামে পরিদর্শনকালে তাদের সাথে কথা বলে এমন চিত্রই পাওয়া যায়। সেখানে বর্তমানে ৩৪ জন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ বসবাস করছেন। আরো কয়েকজন সেই গুচ্ছগ্রামে উঠার অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানালেন শেরপুর জেলা তৃতীয় লিঙ্গ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি নিশি সরকার ও সাধারন সম্পাদক মুর্শেদা হিজড়া। শেরপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফিরোজ আল-মামুন জানান, আমি সম্প্রতি গুচ্ছগ্রামটি পরিদর্শনে যাই।

সে সময় গুচ্ছগ্রামের পুরো এলাকাটি আমরা পরিদর্শন করি এবং কি কি সমস্যা রয়েছে, কারা কি করছেন, কীভাবে জীবন চালাচ্ছেন, সে সম্পর্কে হিজড়াদের নিকট জানতে চাই। গুচ্ছগ্রামের মাল্টিপারপাস কক্ষের সামনে হিজড়াদের অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হিজড়ারা নিজেদের জীবন সংগ্রামের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। হিজড়ারা গুচ্ছগ্রামের ঘরগুলোর ভিটি পাকা করা, বৃষ্টি হলে ঘরের সামনে পানি জমে যাওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যার কথাও জানান। পরে তিনি গুচ্ছগ্রামের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের আশা ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর মধ্যে কিছু শিক্ষিত লোকজন রয়েছে। তাদেরকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দিয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে আয় করার যোগ্য করে গড়ে তোলা হবে।

নাগরিক সংগঠন জনউদ্যোগের সভাপতি অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ জানান, তৃতীয় লিঙ্গের লোকজন  নিজ নিজ বসতঘরে বসবাস করতে থাকায় এবং আত্মকর্মে নিয়োজিত আছেন। এর ফলে শহরে তৃতীয় লিঙ্গের লোকদের চাঁদাবাজি হ্রাস পেয়েছে। কামারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বারী চাঁন জানান, যারা এ গুচ্ছগ্রামে বসবাস করবে তাদের আত্মকর্মসংস্থান ও জীবনমান উন্নয়ন প্রয়োজনে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। ইতিমধ্যে  জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল থেকে ২ মাসের জন্য তেল, ডালসহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে।

শেরপুরে মুজিববর্ষে তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী গুচ্ছগ্রামে আশ্রয় পেয়েছেন

শেরপুর উপজেলা প্রাণি সম্পদক কর্মকর্তা  ডা. পলাশ কান্তি দত্ত বাসসকে বলেন, আমরা ইতিমধ্যে মুজিববর্ষের উপহার স্বরূপ তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর জন্য গুচ্ছগ্রামটি পরিদর্শন করি। গুচ্ছগ্রামটি বিলের পাড়ে হওয়ায় হাস মুরগি ও গবাদি পশু পালন করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণি সম্পদ একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে।