ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি আর নেই। গুলিবিদ্ধ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৯টা ৪৫ মিনিটে তিনি মারা যান। তাঁর মৃত্যুতে দেশজুড়ে সমর্থক ও অনুসারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা, যিনি সিঙ্গাপুরে ওসমান হাদির চিকিৎসা সমন্বয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, রাত ১০টার দিকে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর কিছুক্ষণ পর ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুসংবাদ জানানো হয়।
এর আগে বুধবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’। ওই ঘোষণার পর থেকেই তাঁর জীবন নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহু মানুষ তাঁর সুস্থতার জন্য দোয়া ও সমবেদনা জানান। রাজনৈতিকভাবে সচেতন মহলেও বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সাম্প্রতিক সময়ে শরিফ ওসমান হাদি একজন সরব ও আলোচিত রাজনৈতিক কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে তিনি আওয়ামী লীগ ও ভারতের রাজনৈতিক প্রভাবের বিরুদ্ধে কঠোর ও বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় ছিলেন। তাঁর সমর্থকদের কাছে তিনি ছিলেন সার্বভৌমত্ব ও প্রতিবাদের সাহসী কণ্ঠস্বর, আর সমালোচকদের দৃষ্টিতে তাঁর বক্তব্য ছিল উসকানিমূলক।
তাঁকে গুলি করার ঘটনা নিয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে এ ঘটনার পর রাজনৈতিক সহিংসতা ও জনপরিচিত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকেই ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি তুলেছেন।
শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু ইনকিলাব মঞ্চের জন্য একটি বড় ধাক্কা। সংগঠনটি এখন এমন এক সময়ে নেতৃত্ব ও প্রতিনিধিত্বের শূন্যতার মুখোমুখি, যখন রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তাঁর প্রয়াণ কেবল একটি সংগঠনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—এটি চলমান রাজনৈতিক বিতর্ক ও জনমতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
দেশজুড়ে শোকের আবহে অনেকেই তাঁর জীবন ও মৃত্যুর মাধ্যমে উঠে আসা বৃহত্তর প্রশ্নগুলোর দিকে দৃষ্টি দিচ্ছেন—মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা এবং সরব কর্মীদের নিরাপত্তা। তাঁর দাফন ও আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে বিস্তারিত ঘোষণা শিগগিরই আসতে পারে।
