আজ গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর জন্মবার্ষিকী : গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মহান নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ৮ই সেপ্টেম্বর ১৮৯২ সালে জন্মগ্রহণ করেন পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলায়। পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী জন্ম। তিনি ছিলেন বিচারপতি জাহিদ সোহরাওয়ার্দির ছোট পুত্র। জাহিদ সোহরাওয়ার্দি কলকাতা হাইকোর্টের একজন খ্যাতনামা বিচারক ছিলেন। মা ছিলেন নামকরা উর্দু সাহিত্যিক খুজাস্তা আখতার বানু। তার পরিবারের সদস্যবর্গ তৎকালীন ভারতবর্ষের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের প্রথা অনুসারে উর্দু ভাষা ব্যবহার করতেন। কিন্তু সোহরাওয়ার্দী নিজ উদ্যোগে বাংলা ভাষা শিখেন এবং বাংলার চর্চা করেন।

দেশ পরিচালনায় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছেন। তার মতো নেতার বর্তমানে আমাদের দেশে খুব প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সাধারণ মেহনতি মানুষের অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে গেছেন।
[ আজ গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর জন্মবার্ষিকী ]
১৯১৩ সালে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি বিজ্ঞান বিষয়ে সম্মানসহ স্নাতক অর্জন করেন। ১৯২০ সালে তিনি বেগম নেয়াজ ফাতেমাকে বিয়ে করেন।
রাজনীতিতে প্রবেশ করে প্রথমে তিনি যোগ দেন চিত্তরঞ্জন দাসের স্বরাজ পার্টিতে। এটি তখন মূলত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দলের অভ্যন্তরে একটি গ্রুপ ছিল। ১৯২৩ এর বেঙ্গল প্যাক্ট স্বাক্ষরে তার যথেষ্ট ভূমিকা ছিল। ১৯২৪ সালে তিনি কলকাতা পৌরসভার ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন। সোহরাওয়ার্দীর অখন্ড বাংলার ধারণার সাথে মুসলিম লীগের কেউ একমত ছিলেন না। ১৯৪৭ সালে তিনি স্বেচ্ছায় বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে যান।
১৯৫৩ সালে তিনি একে ফজলুল হক এবং মাওলানা ভাসানীর সাথে একত্রে যুক্তফ্রন্ট গঠন করেন। ১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিতব্য পূর্ববঙ্গ ব্যবস্থাপক সভার নির্বাচন উপলক্ষে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাভূত করার জন্য আওয়ামী মুসলিম লীগের উদ্যোগে এই যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। ১৯৫৪ সালের মার্চের আট থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান পরিষদের নির্বাচনে ২৩৭ টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩ টি আসন পায়। এর মধ্যে ১৪৩ টি পেয়েছিল আওয়ামী মুসলিম লীগ।
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মওলানা ভাসানী, আবুল কাশেম ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী কর্তৃক গঠিত যুক্তফ্রন্ট অভূতপূর্ব জয়লাভ করে। ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ সম্পূর্ণরূপে পরাভূত হয়। তারা শুধু ৯টি আসন লাভ করে। ১৯৫৫ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ ‘মুসলিম’ শব্দটি বর্জন করে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
পাকিস্তান নিরাপত্তা আইনে রাষ্ট্রবিরোধী কাজের অপরাধ দেখিয়ে তাকে জানুয়ারি ৩০, ১৯৬২ তে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং করাচি সেন্ট্রাল জেলে অন্তরীণ করা হয়। আগস্ট ১৯, ১৯৬২ সালে তিনি মুক্তি পান। ১৯৬২ সালের অক্টোবরে তিনি আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের জন্য ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এন. ডি. এফ.) গঠন করেন।
স্বাস্থ্যগত কারণে ১৯৬৩ সালে দেশের বাইরে যান এবং লেবাননের রাজধানী বৈরুতে অবস্থানকালে ৫ই ডিসেম্বর, ১৯৬৩ তে তিনি মারা যান। তার মৃত্যু অনেকের কাছে রহস্যমণ্ডিত।
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন বড় মাপের রাজনৈতিক নেতা। শহীদ সোহরাওয়ার্দী শুধু গণতন্ত্রকামীই ছিলেন না, মানবকল্যাণে ছিলেন নিবেদিত প্রাণ।
Comments are closed.