ইভ্যালির কর্মীরা এখন নতুন করে ‘ভালো’ চাকরি খুঁজছেন!
যাত্রা শুরু পর থেকেই নানারকম লোভনীয় অফারের মাধ্যমে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করেছে ইকমার্স প্রতিষ্ঠান-ইভ্যালি। শুরুতে অনেকে ব্যাপক সমালোচনা করলেও পরে গ্রাহকরা তাদের দিকেই ঝুঁকে পড়ে।
বিদ্যুৎ গতিতে তাদের ব্যবসার পরিধি বাড়তে থাকে। বাইক, ফ্রিজ, ফার্নিচারসহ প্রায় সব ধরণের পণ্যেই তারা দিয়েছে বিশাল মূল্য ছাড়। এমন ছাড়কে পূঁজি করেই ইভ্যালির কর্মীরা রমরমা বাণিজ্য বুয়াআপকতা লাভ করে অতিদ্রুত।

ইভ্যালির কর্মীরা এখন নতুন করে ‘ভালো’ চাকরি খুঁজছেন!
শুরুতে অগ্রীম টাকা নিয়ে ডেলিভারি পেতে গ্রাহকদের কোনও অভিযোগ না থাকলেও পরবর্তীতে নির্ধারিত সময়ে পণ্য বুঝে না পাওয়ায় অভিযোগের তীরে বিদ্ধ হতে থাকে । এর মাত্রা বাড়তেই থাকে।
গ্রাহকদের এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাদের কার্যক্রম অনুসন্ধানে নামে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েক মাস আগে ইভ্যালির বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দিলে কোম্পানির গোজামিলের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপরই মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করে।
মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যেও তারা-তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু মহামারির কারণে জুলাইয়ের শুরুতে সরকার লকডাউন দিলে এটির অফিস বন্ধ রাখা হয়। এরপরই প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন সমস্যা একের পর এক প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে।
লোক ঠকানোর অভিযোগ আর বিপুল দেনায় ডুবতে বসা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইভ্যালি-এখন পেছনের সারির কর্মীদের বেতন বকেয়া রেখেই ‘বিদায় করতে’ শুরু করেছে। অর্থ সঙ্কটের কথা বলে তাদের ‘ভালো চাকরি খুঁজে নেওয়ার পরামর্শ’ দেওয়া হচ্ছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন সাবেক ও বর্তমান কর্মীদের কয়েকজন।
তারা অভিযোগ করে বলেন, ভোক্তাদের অব্যাহতভাবে ‘মিথ্যা আশ্বাস দিতে বাধ্য করা’, নিয়োগপত্র না দেওয়া এবং ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।
এসব বিষয়ে ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। ফোনে বক্তব্য জানতে তাকে কয়েকবার ফোন করা হলেও ধরেননি। ইভ্যালির একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে খবর পাঠানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।
ক্ষুব্ধ এসকল গ্রাহকদের দিনের পর অনেক দিন আশ্বাস দিয়ে যাওয়া কতটা কঠিন, সে কথা বললেন সম্প্রতি ইভ্যালির কল সেন্টারের কাজ ছেড়ে আসা একজন, যিনি আগে গ্রামীণ ফোন, পাঠাওসহ আরো বিভিন্ন কোম্পানির কাস্টমার কেয়ারে চাকরি করেছেন।
তিনি বলেন, কাস্টমার কেয়ার হল ভোক্তাদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করার জায়গা। কিন্তু ইভ্যালিতে দিনের পর দিন ক্রেতাদের অভিযোগ আর হাহুতাশ শুনতে শুনতে কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের ‘ট্রমার’ সৃষ্টি হয়েছে। এখানে কেউ ২ থেকে ৩ মাসের বেশি সময় কাজ করতে পারে না। কিন্তু যারা কাস্টমার কেয়ার এক্সিকিউটিভ, অর্থাৎ যাদেরকে সরাসরি ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলতে হয় না, তারা ভালো থাকেন। তাদের দায়িত্ব হচ্ছে কর্মীদের দ্বারা জোর করে মিথ্যা আশ্বাস দেওয়ানো।
নিজের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে তিনি জানান, প্রতিদিন ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা কল ধরে গেছি। দিনে দেড়শ কল ধরলে ১৪০টা কলেই গ্রাহকের কান্নাকাটি শুনতে হয়েছে। আমরা তাদেরকে উত্তর দিয়ে গেছি- আপনার পণ্যটি নিয়ে কাজ হচ্ছে, অচিরেই পেয়ে যাবেন। কিন্তু আসলে কিছু হচ্ছে কিনা, তাও আমাদের জানা থাকত না।
চলতি বছরের জুলাই থেকে যখন করোনা বাড়তে থাকে তখন সরকার লকডাউন দিলে ইভ্যালির অফিস বন্ধ রাখা হয়েছিল। কর্মীদের অনেকে তখন ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ বাসায় নিয়ে হোম অফিস করছিলেন। অফিস চালু হওয়ার কথা বলে গত সপ্তাহে তাদের কাছ থেকে মালামাল বুঝে নিয়েছে ইভ্যালি। এখন তাদের অন্যত্র চাকরি খুঁজতে বলা হচ্ছে।
এসব ব্যাপারে রাকিব নামে একজন বলেন, ইভ্যালির কাস্টমার সার্ভিস বিভাগে ১৮০ জনের মত কর্মী ছিল। তাদেরকে আর কর্মস্থলে না যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে রিজাইন দিয়ে অন্য জবে সুইচ করার জন্য। আগামী দুই মাসের মধ্যে বেতন পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও সেটা বিশ্বাসযোগ্য না।