এখন মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে নওগাঁ-বদলগাছী সড়ক

বছরজুড়েই চলতে থাকে মেরামত কাজ। এরপরও এতে মিলে না প্রতিকার। মালবাহী ট্রাক সড়কের গর্তে প্রায়ই আটকে দীর্ঘ সময় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ সারি্সমূহ। রাস্তার পিচ উঠে সড়কের অসংখ্য জায়গায় ভাঙাচোরা ও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। দেখে বোঝার উপায় নাই এটি নওগাঁ-বদলগাছীর উপজেলার প্রধান আঞ্চলিক সড়ক। সংস্কারের অভাবে জন্য
সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় মধ্যে পড়ে রয়েছে। এখন মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে নওগাঁ-বদলগাছী সড়ক । নওগাঁ-বদলগাছী সড়ক

নওগাঁ-বদলগাছী সড়ক সর্ম্পকে জানা গিয়েছে, জেলার পত্মীতলা, সাপাহার, পোরশা, ধামইরহাটের উপজেলা এবং ঐতিহাসিক পাহাড়পুরের বৌদ্ধবিহার ও জয়পুরহাট জেলায় যাওয়া যায় এই সড়ক দিয়ে। আন্ত:জেলা বাসস্ট্যান্ড হতে বদলগাছী উপজেলার সদর পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য জায়গা ১৬ কিলোমিটার। বদলগাছী উপজেলার বাসস্ট্যান্ড, হাসপাতাল, খাদ্যগুদাম, চাংলা এবং কীর্ত্তিপুর ও পাহাড়পুর বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ।

প্রতিদিন প্রায় সড়কটি দিয়ে ৬-৭ হাজার যানবাহন চলাচল করে। এ সড়কে ছয় চাকারও পণ্যবাহী ট্রাকের সর্বোচ্চ ধারণ ক্ষমতা (গাড়ির ওজনসহ) ১৫ টন পজন্ত এবং ১০ চাকার ট্রাকের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ধারণ ক্ষমতা ২২ টন চলাচল করে। কিন্তু ৩০-৩৫ টন ওজনের পণ্যবাহী যান চলাচল করছে এ রাস্তা দিয়ে। যার মধ্যে অধিকাংশই বালুবাহী ট্রাক।

নওগাঁ সড়ক এবং জনপথ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০১৫ সালের সড়কের সংস্কার এবং প্রসস্থকরণ কাজ শুরু হয়।
আঞ্চলিক এই সড়কে বালু, ইট ও পণ্যবাহী ভারি ট্রাক ও ট্রাক্টর চলাচলের কারণে বেশিরভাগ স্থান বসে গেছে। দীর্ঘদিন সংস্কার হওয়ায় নি,তাই পিচ ওঠে খোয়া বেরিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও খোয়া ওঠে মাটি ও গর্তের সৃষ্টিও হয়েছে। এসকল গর্তে বৃষ্টির পানি জমে পরিণত হয়েছে ছোট ছোট ডোবায়। এসব গর্তে প্রায় মালবাহী ট্রাক উল্টে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। আবার অনেক যানবাহন আটকে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। বড় বড় গর্তে ইটের সোলিং করে যানবাহন চলাচলের উপযোগীর চেষ্টা হলেও কিছুদিন পর পর আবারও সৃষ্টি হচ্ছে গর্তের। আবার সড়কের কিছু জায়গায় দুইপাশ নিচু হয়ে মাঝখানে উঁচু হয়েছে। ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

নওগাঁ-বদলগাছী সড়কবাস চালক শরিফুল ইসলাম বলেন, রাস্তা ভালো থাকলে নওগাঁ থেকে বদলগাছী যেতে প্রায় ৩০ মিনিটের মতো সময় লাগতো। এখন ৫০ মিনিটের মতো লাগে। রাস্তা ভাঙাচুরার কারণে ঝুঁকি নিয়ে চলার পাশাপাশি গাড়ি প্রচুর ঝাঁকুনি খায়। ফলে সব সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। আর রাস্তায় মালবাহী ট্রাক আটকে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।

নওগাঁ-বদলগাছী সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান বলেন, নওগাঁ-বদলগাছী সড়ক নষ্ট হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ ভারি পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল। যার অধিকাংশ ট্রাকই বালুবাহী। রাস্তা সংস্কারে প্রায় দুই বছর আগে প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই প্রকল্পটি পাশ হবে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে রাস্তার ভাঙা অংশে যানবাহন চলাচলে অফিসিয়ালভাবে ইট-খোয়া ফেলা হচ্ছে।

Leave a Comment