বিভিন্ন অজুহাতে থুতনিতে মাস্ক নিয়ে চলাচল করছে যাত্রীরা

শতভাগ যাত্রী নিয়ে শতভাগ গণপরিবহন চলাচল করছে ঠিকই কিন্তু যে শর্তে চালু করা হয়েছিল সেটি বাসচালক, হেলপার ও যাত্রীরা অনেকেই মানছেন না। দেখে যেন মনে হয় স্বাস্থ্যবিধি মানার চেয়ে নিয়ম ভাঙার প্রতিযোগতায় সবাই ব্যস্ত। দাঁড়িয়ে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। অধিকাংশ যাত্রীই থুতনিতে মাস্ক নিয়ে চলাচল করছে , কেউ কেউ নাক বাদ দিয়ে শুধু মুখ ঢেকে রাখছেন। আবার কেউ কেউ মাস্ক ছাড়াই চলাচল করছেন। থুতনিতে মাস্ক

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জীবিকার প্রয়োজনে সব কিছু খুললেও স্বাস্থ্যবিধি শতভাগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সরকারকে স্বাস্থ্যবিধির ওপর কঠোর হতে হবে। বাসচালক বা হেলপারের পাশাপাশি যাত্রীদেরও সচেতন হতে হবে থুতনিতে মাস্ক বা অন্য কোথাও পরা যাবে না ।
কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করে গত ১১ আগস্ট থেকে শতভাগ যাত্রী নিয়ে শুরু হয়েছে শতভাগ গণপরিবহন চলাচল। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কিছু শর্ত দিয়েছিল। এর মধ্যে দাঁড়িয়ে কোনো যাত্রী বহন করা যাবে না। যাত্রী, চালক, সুপারভাইজার বা কন্ডাক্টর, হেলপার-কাম ক্লিনার এবং টিকিট বিক্রয়কেন্দ্রের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে হবে। যাত্রার শুরু ও শেষে যানবাহন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নসহ জীবাণুনাশক দিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি-সংক্রান্ত অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় মেনে চলতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কিন্তু রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার চিত্র অনেকটাই উল্টো। দেখা যায়, অনেক গণপরিবহনের বাসচালক মাস্ক ব্যবহার করলেও তার সহকারীর মাস্ক নেই। তারা থুতনিতে মাস্ক পরছেন,  যাত্রীদের অনেকেই মাস্ক পরলেও সেগুলো রেখেছেন শুধু থুতনিতে মাস্ক। ট্রাফিক সিগন্যালে পুলিশ দেখে মাস্ক পরতে দেখা গেলেও পরক্ষণে মাস্ক খুলে রাখেন অনেকেই। মাস্কসহ স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনীহা দেখাচ্ছেন অনেক যাত্রীও। অধিকাংশ গণপরিবহনে দাঁড়িয়ে যাত্রী নিতে দেখা গেছে। এ ছাড়া মাস্ক ছাড়াই নিয়মিত যাত্রী তুলছেন তারা।

থুতনিতে মাস্কআজ সোমবার বেলা সকালে রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায়, মাস্ক ছাড়া যাত্রী উঠছে বিভিন্ন ধরনের পরিবহনে। এসব বাসের চালক ও সহকারীদের থুঁতনিতে ঝুলছে মাস্ক। প্রায় প্রতিটি বাসের ভেতরে যাত্রীদের মধ্যে অনেকই মাস্ক ছাড়া বসে আছেন। অনেকে দাঁড়িয়ে আছেন।

কথা হয়, বাগানবাড়ি এলাকার বাসিন্দা সাজ্জাদের সঙ্গে। তিনি যমুনা ফিউচার পার্কে যাবেন। বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। সাজ্জাদ বলেন, এখন যাত্রীদের মধ্যে আর আগের মতো করোনার ভয় দেখা জাচ্ছে না। অনেকে মাস্ক ছাড়াই বাসে উঠছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে চাইলেও অনেকেই পারছেন না। কেমনে পারবে? ছিট আছে কি নাই সেটা দেখছে না; মানুষ তো জোর করেই বাসেই উঠছে।

এদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ গণমাধ্যমকে বলেছেন, আমরা রাজধানীর প্রতিটি বাসসমূহ বিভিন্ন টার্মিনালে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটর করছি।

Leave a Comment