পদযাত্রা নয়, বিএনপির মরণযাত্রা শুরু হয়েছে : ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বর্তমান সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবি আদায়ে বিএনপি যে পদযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে; তা পদযাত্রা নয়, বিএনপির মরণযাত্রা শুরু।

 

 

তিনি বলেন, বিএনপির গণজোয়ারে ভাটা পড়েছে। তাদের পদযাত্রা নয়, বিএনপির মরণযাত্রা শুরু হয়েছে। এভাবেই তারা পরাজিত হবে, আন্দোলনে হবে, আগামী নির্বাচনেও তাদের মরণ হবে, রাজনৈতিক মরণ।

ওবায়দুল কাদের আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরার আজমপুর এলাকায় আমিন মার্কেটের সামনে বিএনপির সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে সমাবেশ ও দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে এই শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এত লাফালাফি, এত ছোটাছুটি, এত লোটা-কম্বল, এত কাঁথা-বালিশ; সমাবেশ হলে সাতদিন ধরে সমাবেশস্থলে শুয়ে পড়ে; আর পাতিলের পর পাতিল খাবার তৈরি হয়; কোথায় গেল সে দিন? কোথায় গেল লালকার্ড? কোথায় গেল গণঅভ্যুত্থান? কোথায় গেল গণজোয়ার? গণজোয়ারে এখন ভাটার টান। তাই এটা পদযাত্রা নয়, পেছনযাত্রা। এটা পদযাত্রা নয়, মরণযাত্রা।

 

 

তিনি বলেন, ‘তারা পদযাত্রা করছে, আর আমরা শীতবস্ত্র বিতরণ করছি। আমরা পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি করছি না। তারা বাড্ডায় পদযাত্রা করছে, আমরা উত্তরায় শীতবস্ত্র বিতরণ করছি।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপিতো এখন কথার রাজা। মির্জা ফখরুল, কাজ নেই শুধু কথা আর কথা। শুধু কথার মালার চাতুরী। কাজ করছি, আর বাধ্য হয়ে তাদের কথার জবাব দিচ্ছি। তারা একতরফা মিথ্যাচার করবে। আমরা কী চুপচাপ বসে থাকব? আমাদের অবশ্যই জবাব দিতে হবে।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুল রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, কার্যনির্বাহী সদস্য সানজিদা খানম, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকী, ঢাকা ১৮ আসনের সংসদ সদস্য হাবিব হাসান প্রমুখ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজকে শান্তি সমাবেশ থেকে বলব, ডাক দিলে চলে আসবেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা লড়াই করছি। রাজপথে আছি, রাজপথে থাকব, আগামী নির্বাচন পর্যন্ত রাজপথ আমরা ছাড়ব না। আমরা মানুষের পাশে ছিলাম, এ শীতের কষ্টেও মানুষের পাশে আছি। মানুষের দুঃখে, মানুষের কষ্টে, দুর্যোগে, ঝড়ে, বন্যায় মানুষের পাশে ছিলাম।’

 

 

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের ৭০ বছরের ইতিহাস, মানুষের পাশে থাকা, মানুষের পাশে আছি। নির্বাচনে জিতলেও আছি, নির্বাচনে হেরে গেলেও আছি। হার-জিত আল্লাহ পাকের ইচ্ছা। জনগণের ইচ্ছা। জনগণ চাইলে আমরা নির্বাচিত হব। আর জনগণ না চাইলে ২০০১ সালের মতো আমরা বিদায় নেব। এটাই তো আওয়ামী লীগের রাজনীতি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, এ দলের শিকড় বাংলাদেশের মাটির অনেক গভীরে। অনেক গভীরে। তাই আওয়ামী লীগকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেবেন, এ দিবাস্বপ্ন দেখে লাভ নেই। আওয়ামী লীগ পালাবে না। আওয়ামী লীগ পালাবার দল নয়, এদেশেতে জন্ম আমার যেন এ দেশেতে মরি।

খেলা হবে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আন্দোলনে খেলা হবে, নির্বাচনে হবে বিএনপির বিরুদ্ধে, খেলা হবে; বলে ৫৪ দল, আবার বলে ১০ দফা, আবার বলে রাষ্ট্র মেরামতের ২৭ দফা! শুক্রবার দেখলাম ১৪ দফা। ৫১ দফার আন্দোলন চলছে, দল হচ্ছে ৫৪টা জগাখিচুড়ি, ঐক্যজোট জগাখিচুড়ি। কর্মসূচি কোনো দিনও এদেশে সফল হবে না।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, বিএনপি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবার রাস্তায় নেমেছে। আমরা বারবার বলেছি, আগামী সংসদ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে। আপনাদের (বিএনপি) যদি জনগণের ওপর আস্থা থাকে আসুন, নির্বাচনে অংশ নিন।

 

 

নির্বাচনে অংশ নিয়ে আপনাদের জনপ্রিয়তা যাচাই করুন। কিন্তু নির্বাচনে তারা (বিএনপি) যাবে না। বিএনপি-জামায়াত এই অশুভ শক্তি তারা আসলে নির্বাচন চায় না। তারা জানে, জনগণ কখনো তাদের ক্ষমতায় আনবে না।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এদেশের গণমানুষের দল, আওয়ামী লীগ এ দেশের মানুষের বিপদে-আপদে, দুর্যোগে, সুখে, দুঃখে সবসময় মানুষের পাশে থাকে, সেটা বারবার প্রমাণ করেছে। আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এ দেশকে উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে নিয়ে গেছেন। বাংলাদেশ একটা উন্নয়ন রাষ্ট্রের মাইলফলক করতে সক্ষম হয়েছে।

আরও দেখুনঃ

 

‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের প্রধান হাতিয়ার ডিজিটাল সংযোগ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশকে ‘স্মার্ট বাংলাদেশে’ পরিণত করার প্রধান হাতিয়ার ডিজিটাল সংযোগ।
তিনি বলেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার মূল চাবিকাটি হবে ডিজিটাল সংযোগ। স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সরকার এবং স্মার্ট সমাজের জন্যে ডিজিটাল সংযোগ মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।’

 

 

‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের প্রধান হাতিয়ার ডিজিটাল সংযোগ: প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা-২০২৩ এর উদ্বোধন উপলক্ষে এক ভিডিও বার্তায় এ কথা বলেন।

ভিডিও বার্তায় তিনি ডিজিটাল পণ্য বিনিয়োগ ও রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় তিন দিনের এই ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলার আয়োজন করে। দেশের আইটি ও আইটিইএস পণ্য ও সেবাসমূহ প্রদর্শনই এ মেলার লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন একটি বাস্তবতা। স্মার্ট বাংলাদেশ ও স্মার্ট জাতি গঠনই আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য পূরণে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কোন বিকল্প নেই।’

শেখ হাসিনা আরো বলেন, সরকারি বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট, ভার্চুয়াল বাস্তবতা, উদ্দীপিত বাস্তবতা, রোবোটিকস এন্ড বিগ-ডাটা সমন্বিত ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতের মাধ্যমে সরকার বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করতে চায়।

 

 

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শিল্পাঞ্চলে ফাইভ-জি সেবা নিশ্চিত করা হবে।’

ডিজিটালাইজেশনে বাংলাদেশে বিপ্লব ঘটে গেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণ প্রজন্ম এখন ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন দেখছে।

সরকার প্রধান বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন রাঙামাটি জেলার বেতবুনিয়ায় দেশের প্রথম স্যাটেলাইট আর্থ স্টেশন স্থাপন করেন। যার মাধ্যমে বাংলাদেশে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচনী অঙ্গীকারে রূপকল্প-২০২১ ঘোষণা করেছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশী জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, তাঁর সরকার ২০১৮ সালে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ কক্ষপথে উৎক্ষেপণ করেছে, যা সম্প্রচার ও টেলিযোগাযোগ খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত বছর সিত্রাং ঘুর্ণিঝড়ের সময়ে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলায় বিচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরায় চালু করতে সক্ষম হয়েছেন।

এছাড়া তিনি বলেন, স্যাটেলাইটের অব্যবহৃত ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে বাংলাদেশ প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশে^র স্যাটেলাইট পরিবারের ৫৭তম গর্বিত সদস্য।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যে বহুমুখী কার্যক্ষমতা সম্পন্ন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট -২ স্থাপনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

 

 

তিনি আরো বলেন, তাঁর সরকার ২০২৪ সালের মধ্যে তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন করতে যাচ্ছে। কারণ, ইতোমধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ৩৪০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ক্ষমতা অর্জন করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, এই বছরের মাঝামাঝি সময়ে ব্যান্ডউইথের সক্ষমতা ৭২০০ জিবিপিএসে উন্নীত করা হবে। তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের পর এটি ১৩,২০০ জিবিপিএসে উন্নীত হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, সৌদি আরব, ফ্রান্স, মালয়েশিয়া ও ভারতকে ব্যান্ডউইথ লিজ দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতি বছর ৪.৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে আর বিদেশি স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভর করতে হবে না।

সরকার প্রধান উল্লেখ করেন যে, সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত প্রায় ৯৫৬২৯৮ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপন করা হয়েছে। এদিকে প্রতিটি ইউনিয়নে ১০ গিগাবাইট ক্ষমতা নিশ্চিত করা হয়েছে যা জনগণ ও সরকারি অফিসগুলোতে উচ্চ গতির ইন্টারনেট সরবরাহ করতে সহায়তা করে।

তিনি বলেন, সারাদেশে মোট ৮৬০০টি পোস্ট অফিসকে ডিজিটালে পরিণত করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন,বর্তমানে ১৮ কোটি মোবাইল সিম ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২ কোটি।

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের মধ্যে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ডিজিটাল বৈষম্য এবং দামের পার্থক্য দূর করা হয়েছে।

প্রত্যন্ত এবং দুর্গম এলাকায় টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর সরকারের সাফল্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সারাদেশে ‘এক দেশ এক দরের’ একটি সাধারণ শুল্ক চালু করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে বৈষম্যহীন ‘এক দেশ এক দর’ শুল্ক ব্যবস্থা চালু করার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ অ্যাসোসিও (এএসওসিআইও)-২০২২ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে টেলিকম খাতে প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২২টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পর্যায়ে ১৪টি ক্যাটাগরিতে প্রথম প্রবর্তিত পোস্ট অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন অ্যাওয়ার্ড বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ মন্ত্রী  মুস্তাফা জব্বার, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি একেএম রহমতুল্লাহ এবং ডাক টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আবু হেনা মোর্শেদ জামান বক্তব্য রাখেন।

আরও দেখুনঃ

শিশুদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে স্কাউট আন্দোলন জোরদার করুন : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি শিক্ষার্থীকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে স্কাউট আন্দোলন জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও ‘স্মার্ট দেশের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য শিশুদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

 

 

তিনি বলেন, ‘আমি শিশুদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। স্কাউটদের নৈতিক ও জীবনমুখী শিক্ষা দিয়ে, সেবা দেওয়ার মানসিকতা সম্পন্ন করে দেশপ্রেমিক ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি চাই আমাদের দেশটা আরো চমৎকারভাবে গড়ে উঠুক যেখানে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কোন স্থান হবে না। দেশ সাম্প্রদায়িকতা ও সন্ত্রাসমুক্ত থাকবে। কাজেই বাংলাদেশে যে শিশুরা বড় হবে তারা উদার মন নিয়ে বড় হবে, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে এবং দেশকে সুন্দরভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তারা কাজ করবে।

তিনি আজ গাজীপুরের মৌচাকের জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৩২তম এশিয়া-প্যাসিফিক এবং ১১তম জাতীয় স্কাউট জাম্বুরী ২০২৩-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির  ভাষণে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্কাউটিং নতুন প্রজন্মকে নৈতিক ও জীবনধর্মী প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। এর মাধ্যমে তরুণদের মাঝে আধুনিক, প্রগতিশীল ও সৃজনশীল গুণাবলী বিকশিত হয়। ফলে স্কাউট সদস্যরা সেবার মন্ত্রে দীক্ষিত হচ্ছে এবং সচেতন দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে নিজেদেরকে গড়ে তুলছে।

 

 

পরোপকারি হিসেবে সমাজ সেবার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান ও প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা কোভিড-১৯ কালীন স্কাউট সদস্যদের সেই আন্তরিকতা আমরা দেখতে পেয়েছি। কাজেই আমি চাই আমাদের দেশে এই স্কাউট আন্দোলন আরো ব্যাপকভাবে গড়ে উঠুক।

দেশে স্কাউট আন্দোলন জোরদার করতে তাঁর সরকারের উদ্যোগের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, সরকার প্রতিটি উপজেলা ও জেলায় স্কাউট ভবন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করবে।

প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী ভবিষ্যতে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে এ লক্ষে প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কাব স্কাউটসদের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি ‘শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড’ বিতরণ করেন এবং তাঁর নিজের স্বাক্ষরিত সনদপত্র ১২ জনের হাতে তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ স্কাউটসের সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ এবং জাম্বুরী আয়োজক কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান জাতীয় কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান।

প্রধানমন্ত্রী আঞ্চলিক ও জাতীয় স্কাউটদের জাম্বুরী চিহ্নিত করে একটি স্মারক ডাক টিকিট ও অবমুক্ত করেন।

এ সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান ও ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হারুনুর রশীদ উপস্থিত ছিলেন।

নয়দিন ব্যাপী জাম্বুরীতে ভারত, নেপাল, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, স্কাউট চায়না (তাইওয়ান), থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি এবং কানাডা থেকে ৮ হাজার স্কাউট, ১ হাজার ইউনিট নেতা এবং আন্তর্জাতিক পরিষেবা দলের সদস্যসহ মোট ১১ হাজার অংশগ্রহণকারী অংশগ্রহণ করে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ। আমাদেরকে কেউ আর ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না বরং ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত, উন্নত সমৃদ্ধ এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে সামনের দিকে এগিয়ে যাবো।’
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আজকের শিশুরাই আগামীদিনের স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার সৈনিক হিসেবে পরিনত হবে।
দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন স্কাউট প্রশিক্ষণ পায়, সে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সরকার প্রধান।

তিনি বলেন, আমাদের স্কাউটের সঙ্গে যারা জড়িত, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন এই স্কাউট প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হয় সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। আমার বিশ্বাস তাহলেই আমাদের দেশকে সোনার বাংলা বা ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ হিসেবে গড়ার উপযুক্ত নাগরিক তৈরি হবে।

 

 

শেখ হাসিনা জানান, দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দ’ুটি করে স্কাউট দল বা রোভার স্কাউট গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ছেলেদের পাশাপাশি গার্ল স্কাউট বা মাদ্রাসাসমূহে স্কাউট যেন গঠন করা হয় সে বিষয়ে কাজ করতে হবে সকলকে।

সরকার প্রধান বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কিন্তু কাজ করে যাচ্ছি। আমি চাই আমাদের প্রত্যেক শিক্ষার্থী এখানে শুধু বাছা বাছা কয়েক জন নয়, প্রাইমারি স্কুল থেকে শুরু করে যে পর্যন্ত স্কাউটিং করা যায়, এখন যদিও আমাদের ২২ লাখ সদস্য আছে কিন্তু ২০৩০ সালের মধ্যে ত্রিশ লাখ স্কাউট করা হবে। আমার লক্ষ্য হবে প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন স্কাউট প্রশিক্ষণ পায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংঘাত, ক্ষমতা দখল, আগুন সন্ত্রাসসহ সব বাধা পেছনে ফেলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের প্রচেষ্টা হচ্ছে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

তিনি বলেন, আমরা মানুষকে সম্পূর্ণভাবে প্রযুক্তি শিক্ষা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। সেই ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ব্রডব্র্যান্ড লাইন আমরা সমস্ত বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিয়েছি। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করেছি।

প্রধানমন্ত্রী দেশের স্কাউট আন্দোলনকে শক্তিশালীকরণে তাঁর সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগসমূহ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ স্কাউটিং সম্প্রসারণ ও স্কাউট শতাব্দি ভবন নির্মাণ প্রকল্প, ৪৮ কোটি ২৩ লাখ ব্যয়ে সিলেট অঞ্চলে মৌলভীবাজার জেলায় স্কাউট ভবন নির্মাণ প্রকল্প, ৪৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে আঞ্চলিক স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র লালমাই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তা ছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৩৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে কাব স্কাউটিং সম্প্রসারণের ৪র্থ পর্যায়ের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র মৌচাক, গাজীপুরের আওতায় বনভূমি বিনাশ না করার শর্তে আরো ৯৫ একর ভূমি বরাদ্দ করা হয়েছে। বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলে স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষে জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের লক্ষ্য স্কাউট সম্প্রসারণের মাধ্যমে শিশু-কিশোর-যুবাদের আত্মনির্ভরশীল ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।

 

 

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি যখনই শিশুদের মাঝে আসেন তখন তাঁর ১০ বছরের ছোট ভাই শেখ রাসেলকে খঁজে পান। ‘৭৫ এর ১৫ আগষ্টের নৃশংস হত্যাকান্ডের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাবা, মা, ভাইদের, ভাতৃবধুদের সঙ্গে ঘাতকরা সেদিন তাঁকেও রেহাই দেয়নি।

সেই প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তিনি বলেন, আমি চাই আমাদের দেশের শিশু-কিশোরদের জীবন নিরাপদ হোক, সুন্দর হোক, অর্থবহ হোক। কারণ, আজকের শিশু-কিশোররাই আগামীর বাংলাদেশের কর্ণধার হবে। আমাদের সকল শিশুরা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক আমি তা-ই চাই।

অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে তাঁর সরকার বাংলাদেশকে আজকের অবস্থানে টেনে এনেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে বাংলাদেশ ২০২২ সালে আমরা দেখেছি এই বাংলাদেশ কিন্তু এমন ছিল না।

প্রতিনিয়ত সংঘাত, খুনোখুনি, অগ্নিসন্ত্রাস, দুর্নীতি, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পালা, নির্বাচন নিয়ে খেলা-নানা ধরনের ঘাত-প্রতিঘাত আমাদের অতিক্রম করতে হয়েছে। তবে, ২০০৯ সালে সরকারে আসার পর টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে পারায় বাংলাদেশকে আমরা উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি।

জাতির পিতা কন্যা মানবতার সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার আহ্বান জানিয়ে  বলেন, মানবতার সেবা সবচেয়ে বড় সেবা। মানুষের জন্য কাজ করতে পারলেই সবচেয়ে বেশি আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায়।

পরে, স্কাউটদের পরিবেশনায় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও দেখুনঃ

শুধু প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করুন : ডিসিদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ২৫ নির্দেশনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলা প্রশাসকদের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর জোর দেয়ার এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের ব্যবস্থা গ্রহণসহ ২৫টি নির্দেশনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি শুধু মাত্র প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করতে বলেছেন।

 

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে যেটা শুধু আমাদের এখনি প্রয়োজনীয় প্রকল্প সেগুলো গ্রহণ করতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোভিড-১৯ কালীন এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দায় সারাবিশ^ এখন হিমসিম খাচ্ছে। অনেক উন্নত দেশও অর্থনৈতিক মন্দার দেশ হিসেবে নিজেদের ঘোষণা দিয়েছে। কাজেই আমাদের যেন সেটা করতে না হয় সেজন্যই আমরা কৃচ্ছতা সাধনের ঘোষণা দিয়েছি, অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে ফেলেছি এবং এই ব্যাপারেও আপনারা সচেতন থাকবেন।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে তাঁর কার্যালয়ের (পিএমও) শাপলা হলে তিন দিনব্যাপী বার্ষিক জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৩ উদ্বোধনকালে একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ডিসিদের বিবেচনা করতে হবে যখনই কোন প্রকল্প নেয়া হয় সেটা ঐ এলাকার জন্য কতটুকু কার্যকর। এতে মানুষ কতটুকু লাভবান হবে এবং অপচয় কতটুকু বন্ধ করা যায়, সেদিকে আপনাদের নজরদারি থাকা উচিত। যেহেতু একটা জেলার দায়িত্ব আপনাদের ওপর। স্বাভাবিকভাবে এগুলো আপনারা দেখবেন। কারণ, যত্রতত্র শুধু পয়সা খরচের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা আমি পছন্দ করি না।

সারাদেশে ইভিএম কার্যকরী করতে ৮ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হওয়ায় পরিকল্পনা কমিশন থেকে সেটা বাদ দেয়ায় বিরোধী দলের ব্যঙ্গোক্তি ‘ও, বাংলাদেশের আর্থিক সংকট’ এর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আর্থিক সংকট অবশ্যই সারা বিশ^ব্যাপী আছে। আমাদেরও আছে। কিন্তু এমন পর্যায়ে নাই যে আমরা চলতে পারবো না। আমাদের অগ্রাধিকার আমাদেরই বিবেচনা করতে হবে। মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা এবং চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের অগ্রাধিকার।

 

 

সরকার প্রধান বলেন, ‘মানুষের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে আমাদের কৃষি উৎপাদন যাতে বাড়ে সেজন্য যা খরচ লাগে আমরা করবো। অন্য দেশ যা করেনি আমরা বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেয়ার জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাবলেন, আমি আমাদের জেলা প্রশাসকবৃন্দকে একটা কথাই বলবো আমি আসার (ক্ষমতায়) পর আমাদের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মাঝে এই যে জনমুখী বা জনগণের পাশে দাঁড়ানোর বা জনগণকে সেবা দেয়ার যে একটা আন্তরিকতা থাকা উচিত সে আন্তরিকতা সৃষ্টি হয়েছে, এই পরিবর্তন আমি দেখেছি আপনাদের মাঝে। আর সেটা যদি না হতো বাংলাদেশের উন্নয়নের যতটুকু কাজ আমরা করতে পেরেছি বা সফলতা পেয়েছি সেটা সম্ভব হতো না। কারণ, আমরা জনপ্রতিনিধিরা একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্যই ক্ষমতায় আসি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাবলেন, ’৭৫ এর পর থেকে উর্দি পরে অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণার মত দুঃসহ অবস্থা দেশে বিরাজমান ছিল, যদিও ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর থেকে ২০২২ পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু প্রচেষ্টা চলেছে সেখানেও এবং মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগ, অগ্নিসন্ত্রাস বা গাছকাটা মোকাবিলায় মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছে।

তবে, কোভিড-১৯ এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ না হলে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারতাম। এ কারণে আমদানী নির্ভর পণ্য মূল্য এবং পরিবহন ব্যয় উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। সেক্ষেত্রে আমি সর্বক্ষেত্রে কৃচ্ছতা সাধনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, কৃচ্ছতা সাধন করতে হবে, অপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কেনাকাটা পরিহার করতে হবে-আর এভাবে যদি আমরা চলতে পারি তাহলে একটু ধীরগতিতে হলেও উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত রাখতে পারবো।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল  হোসেন মিয়া। স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন। রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার জিএসএম জাফরুল্লাহ বিভাগীয় কমিশনারদের পক্ষে এবং নরসিংদীর জেলা প্রশাসক আবু নাঈম মোহাম্মদ মারুফ খান ও বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াসমিন পারভিন তিবরিজি জেলা প্রশাসকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের সার্বিক উন্নয়নের উপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।

 

 

তিনি আরও বলেন, করোনায় চিকিৎসা, টিকাসহ সুরক্ষার জন্য পানির মতো টাকা খরচ হয়েছে। সেটা আমরা করেছি। আমাদের এখন যেটা জরুরি, সেটাকেই অগ্রাধিকার দেবো। আমরা কতকাল আমদানি নির্ভর থাকবো? আমরা নিজেদের চাহিদা পূরণ করতে নিজেরাই উৎপাদন করবো। এক সময় তো ভারতীয় গরু ছাড়া আমাদের কোরবানিই হতো না। এখন হচ্ছে না? হচ্ছে। আমরা এখন নিজেদের উৎপাদনে ওপর নির্ভর।

এসময় কার্গো বিমান কেনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেদের জন্য কার্গো বিমান কেনার পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। কিন্তু অর্থনৈতিক এ অবস্থায় কিনতে পারছি না। ভবিষ্যতে কিনবো পরিকল্পনা আছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় জাতির পিতার ভাষণের উদ্বৃতি তুলে ধরে কর্তব্য পালনে সরকারি কর্মচারীদের আরো আন্তরিক হবার আহবান জানান।

জাতির পিতা ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ সালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে এক ভাষণে বলেছিলেন, ‘সরকারি কর্মচারী ভাইয়েরা, আপনাদের জনগণের সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করতে হবে এবং জাতীয় স্বার্থকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে। এখন থেকে অতীতের আমলাতান্ত্রিক মনোভাব পরিবর্তন করে নিজেদের জনগণের খাদেম বলে বিবেচনা করতে হবে,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এটাই বাস্তব কথা যে, আপনাদের জনগনের সেবক হতে হবে। আমরাও যে জনপ্রতিনিধি হিসেবে যতটুকু সুযোগ-সুবিধা পাই বা আপনারা সরকারি আমলা হিসেবে যে সুযোগ-সুবিধা পান এগুলোর অবদান কিন্তু জনগনের। কারণ, জনগণের অর্থ এবং জনগণের ট্যাক্সের টাকাতেই সবকিছু চলে। এর জন্য আমরা একেবারে তৃণমূল থেকে জনগণকে শক্তিশালী করে আনতে চাই। ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ প্রক্েল্পর মাধ্যমে প্রত্যেকটি গ্রামের মানুষকে আমরা শহরের সুবিধা দিয়ে দিতে চাই। এতে শহরমুখি প্রবণতা কমার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামে অর্থনৈতিক প্রাণ চাঞ্চল্য বৃদ্ধি পাবে।

শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করেছে। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে প্রমাণ করেছে যে, সে প্রকল্পে কোন দুর্নীতি হয় নাই।

তিনি বলেন, ‘সকলের মাঝে এমন একটা মানসিকতা ছিল যে, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের টাকা ছাড়া আমরা কিছুই করতে পারবো না। তাদের কথা শুনেই আমাদের সব করতে হবে হবে কেন? তারা আমাদের দেশ সম্পর্কে কতটুকুই বা জানে। কাজেই আমাদের নিজেদের চিন্তা নিজেদেরই করতে হবে। আর এই একটা সিদ্ধান্তে পদ্মা সেতু সম্পন্ন করার পর বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক মহলে বৃদ্ধি পেয়েছে।’

 

 

প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার ঐতিহামিক ৭ মার্চের ভাষণের মূল মন্ত্র কেউ দাবায়ে রাখতে পারবানা’ এর উদ্ধৃতি তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশকে যে এখন আন্তর্জাতিক বিশে^র কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবেনা, এটা সকলে বুঝে গেছে।

ডিসিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ২৫ দফা নির্দেশনা:

১.খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে। পতিত জমিতে  ফসল ফলাতে হবে। কোনো জমি যেন অনাবাদি না থাকে সে লক্ষে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে;

২.নিজেরা বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে এবং জনগণকে এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

৩.সরকারি অফিসসমূহে সাধারণ মানুষ যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বিঘেœ যথাযথ সেবা পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। সেবা প্রত্যাশীদের সন্তুষ্টি অর্জনই যেন হয় সরকারি কর্মচারীদের ব্রত;

৪.সরকারি তহবিল ব্যবহারে কৃচ্ছতা সাধন করতে হবে;

৫.এসডিজি স্থানীয়করণের আওতায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাসমূহ অর্জনে তৎপরতা জোরদার করতে হবে;

৬.দেশে একজনও ভূমিহীন ও গৃহহীন থাকবে না। গৃহহীনদের জন্য গৃহনির্মাণ, ভূমিহীনদের কৃষি খাসজমি বন্দোবস্তসহ সকল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে যেন প্রকৃত অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ সুযোগ পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। জমি ও ঘর প্রদানের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে;

৭.শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের পাঠদান কার্যক্রমের মানোন্নয়নে উদ্যোগী হতে হবে। অপেক্ষাকৃত দুর্গম এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে;

৮.কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রসমূহ যেন কার্যকর থাকে তা প্রতিনিয়ত তত্ত্বাবধান করতে হবে;

৯.শিশু-কিশোরদের শারীরিক-মানসিক বিকাশের লক্ষে তাদের জন্য প্রত্যেক এলাকায় সৃজনশীল চর্চা, সাংস্কৃতিক কর্মকা- ও ক্রীড়া সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে;

১০.    নাগরিকদের সুস্থ জীবনাচারের জন্য জেলা ও উপজেলায় পার্ক, খেলার মাঠ প্রভৃতির সংরক্ষণ এবং নতুন পার্ক ও খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে;

১১.    পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে উচ্চ প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ে তুলতে কাজ করতে হবে;

১২.    সরকারি দপ্তরসমূহের ওয়েবসাইট নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে। নিজ নিজ জেলার সরকারের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সাফল্য ওয়েবসাইটে তুলে ধরতে হবে;

 

 

১৩.    জনসাধারণের মধ্যে তথ্য-প্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিতকরণে কাজ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার, গুজব ইত্যাদি রোধে উদ্যোগ নিতে হবে;

১৪.    আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেন কোনোভাবেই অবনতি না হয়, সেদিকে নজরদারি জোরদার করতে হবে;

১৫.    মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে কেউ যেন সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে;

১৬.    মাদক, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দূর করতে হবে। নিরীহ ধর্মপ্রাণ মানুষ যাতে জঙ্গিবাদে জড়িত না হয় সে জন্য সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। যুব সমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে মুক্ত রাখতে হবে;

১৭.    বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, খাদ্যে ভেজাল, নকল পণ্য তৈরি ইত্যাদি অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে;

১৮.    বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে, কৃত্রিম সঙ্কট রোধকল্পে ও পণ্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করতে হবে;

১৯    সরকারি জমি, নদী, বনভূমি, পাহাড়, প্রাকৃতিক জলাশয় প্রভৃতি রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণের উদ্দেশে নতুন সরকারি প্রতিষ্ঠান স্থাপনে ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণকে প্রাধান্য দিতে হবে;

২০.    নিয়মিত নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা বৃদ্ধি করতে হবে। স্লুইচগেট বা অন্য কোনো কারণে যেন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। বিশেষ করে জলাবদ্ধতার জন্য যেন উৎপাদন ব্যাহত না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে;

২১.    বজ্রপাত প্রবণ এলাকায় তালগাছ রোপণ করতে হবে;

২২.    পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং রক্ষণাবেক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। নতুন নতুন পর্যটন স্পট গড়ে তুলতে হবে;

২৩.    জেলার নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষা এবং জেলাভিত্তিক বিখ্যাত পণ্যসমূহের প্রচার, বিপণন এবং ব্রান্ডিং করতে হবে;

২৪    জনস্বার্থকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রেখে সেবার মনোভাব নিয়ে যেন সরকারি দপ্তরগুলো পরিচালিত হয়, সে লক্ষে মনিটরিং জোরদার করতে হবে;

২৫.    জেলার সকল সরকারি দপ্তরের কার্যক্রমসমূহ যথাযথ সমন্বয়ের মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত, সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ তথা ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে আপনাদের ব্রতী হতে হবে।

আরও দেখুনঃ

উন্নয়নশীল দেশগুলোর সংকট কাটিয়ে উঠতে বৃহত্তর বৈশ্বিক সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোভিড-১৯ মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে উদ্ভূত উন্নয়নশীল দেশগুলোর সংকট উঠতে বাংলাদেশের দেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তা করার জন্য বিশ্বব্যাংক এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোভিড-১৯ মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিদ্যমান সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তা করুন।’

 

 

উন্নয়নশীল দেশগুলোর সংকট কাটিয়ে উঠতে বৃহত্তর বৈশ্বিক সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীরঃ বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যাক্সেল ভ্যান ট্রটসেনবাগ আজ সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে (পিএমও) সৌজন্য সাক্ষাত করতে এলে তিনি একথা বলেন।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য লেখক মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

বিশ্বব্যাংকের এমডি বাংলাদেশের উন্নয়নকে ‘অবিশ্বাস্য’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং উন্নয়নের ধারায় ঢাকার পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

বিশ্বব্যাংকের এমডি বলেন, ‘আমরা ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশের পাশে আছি এবং দেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় আমাদের সমর্থন অব্যাহত রাখব।’

বিশ্ব ব্যাংকের এমডি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে তাঁর সফরে প্রধান উদ্দেশ্য হলো বিশ্ব ব্যাংক ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক আরো জোরদার করা।

 

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের মাথাপিছু আয় ছিল মাত্র ৫০ মার্কিন ডলার, কিন্তু তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮২৪ মার্কিন ডলারে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, উন্নত দেশগুলো মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের জন্য দায়ী এবং জলবায়ু তহবিলে অর্থ প্রদানে তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন’ ‘কিন্তু উন্নত দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে পালন করছে না।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে তাঁর সরকার কী করছে তা সংক্ষেপে বর্ণনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, তাঁর সরকার ব্যাপক বনায়ন, গ্রিন বেল্ট নির্মাণ এবং দুর্বল মানুষের জন্য টেকসই আবাসন ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মকে উন্নত জীবন দিতে ‘ডেল্টা প্ল্যান-২১০০’ বাস্তবায়নের পাশাপাশি নিজস্ব অর্থায়নে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছে।

সরকার প্রধান বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকার কারনে তাঁর সরকার বিগত ১৪ বছরে বাংলাদেশের দ্রুত উন্নয়ন করতে পেরেছেন এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন অনুযায়ী দেশবাসীকে একটি সুন্দর ও উন্নত জীবন দিতে অক্লান্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির আগে বাংলাদেশ জিডিপিতে ক্রমাগত ৮ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন অব্যাহত ছিল।

 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল, খাদ্যসামগ্রী ও পরিবহন ব্যয় আকাশচুম্বী হওয়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলো সমস্যায় পড়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কিন্তু মহামারি থেকে বেরিয়ে আসার পর, জিডিপি প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেয়েছে এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করেছে যা এখন পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে।

বিশ্ব ব্যাংকের এমডি ট্রোটসেনবার্গ বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে বাংলাদেশের দেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর উচিত নতুন প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

বিশ্বব্যাংকের এমডি তিন দিনের সরকারি সফরে শনিবার প্রথম বাংলাদেশে এসেছেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এম. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এবং অর্থ সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন উপস্থিত ছিলেন।

আরও দেখুনঃ

বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের বাংলা নিউজ পড়তে ভিজিট করুন

Exit mobile version