’সীমান্তে হত্যা ভারতের জন্য লজ্জার’:পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বিএসএফ-এর গুলিতে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সীমান্তে হত্যা বাংলাদেশের জন্য দুঃখের, ভারতের জন্য লজ্জার। ভারত একটি বড় দেশ, ভারত  আমাদের অঙ্গীকার করেছিলো, সিমান্তে কোনো প্রাণঘাতি অস্ত্র ব্যবহার করা হবে না; সিমান্তে একটা লোকও মারা যাবে না। তারপরও হয়।’

গত বছরও সীমান্তে হত্যা য় ৫১ জন বিএসএফ-এর গুলিতে মারা গেছে। এটা আগের কয়েক বছরের তুলনায় বেশি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটি সত্য যে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে মাঝেমধ্যে সীমান্তে হত্যা য় বাংলাদেশিরা মারা যায়। এই সীমান্তে হত্যা নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত।’

সীমান্তে হত্যা র সর্ম্পকে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমরা ভারতের সর্বোচ্চ পর্যায়ে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছেও বিষয়টি আমাদের প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন। নীতিগতভাবে দুই দেশে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, একটি লোকও মারা যাবে না।’

তালেবানকে স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়ে আব্দুল মোমেন বলেন, তালেবানের নীতি এবং আচরণের ওপর নির্ভর করবে বাংলাদেশ তাদের স্বীকৃতি দেবে কিনা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার বিশ্বাস করে, জনগণের সরকার হওয়া উচিৎ। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে সরকারই আসে, বাংলাদেশ তাদের সমর্থন দেই।’

তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানে যদি জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে, তাহলে আমরা তাদের সমসীমান্তে হত্যার্থন দেবো। কিন্তু এই মুহূর্তে আমরা সঠিক জানি না এবং বুঝতেও পারছি না। তাই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছি।’ তিনি বলেন, ‘তাদের কর্ম ও নীতি দেখেই আমরা সিদ্ধান্ত নেবো।’ বাংলাদেশে কোনো সন্ত্রাসী নেই বলেও সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। লন্ডনে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। 

আফগানিস্তানে ভারত ও পাকিস্তানের ছায়াযুদ্ধ চলছে দীর্ঘদিন ধরে। এটা বলা হচ্ছে, আপাতত সে যুদ্ধে পাকিস্তান জিতেছে। আফগানিস্তানের ভবিষ্যত সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের কী সম্পর্ক হবে সে ব্যাপারে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়টির বিবেচনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতি নিজেই স্বাধীনভাবে নির্ধারণ করে। ”বাংলাদেশ কারও লেজুড় নয়”।

এছাড়াও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে স্থবিরতা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের খোলামেলা উত্তর দেন তিনি। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ব্যর্থতা স্বীকার করে আব্দুল মোমেন বলেন, এটা সত্যি যে গত চার বছরে একজন রোহিঙ্গাও ফিরে যায়নি।মিয়ানমারের উপর আন্তর্জাতিক মহলের কোনো প্রকার চাপ না থাকাকেই প্রধানত দায়ী করেন মন্ত্রী।

কোভিড ভ্রমণ সংক্রান্ত বৃটেনের লাল তালিকায় এখনও বাংলাদেশের নাম থাকা প্রসঙ্গে ড. মোমেন বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে বৃটেনের সরকারের কাছে উদ্বেগ জানিয়েছে। তিনি বলেন, গতকালও কিছু বৃটিশ এমপির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি তাদের বলেছি, বৃটেনের লজ্জা হওয়া উচিত তাদের প্রায় চার-পাঁচ হাজার নাগরিক বাংলাদেশে গিয়ে আসতে পারছে না। তারা আটকা পড়ে আছে। বৃটেনের উচিত তার নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া।

বাংলাদেশে টিকা কম দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা ভ্যাকসিন খুব কম দেইনি। ১৮ ভাগ লোক এক ডোজ এবং ৯ ভাগের মতো লোক দুই ডোজ টিকা পেয়েছেন।