১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর সেই ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ের পরপরই লক্ষ্মীপুরের উপকূলে ছুটে এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু

১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর সেই ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ের পরপরই লক্ষ্মীপুরের উপকূলে ছুটে এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু, ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর মহাপ্রলয়ংকরী এক ঘূর্ণিঝড়ে লন্ডভন্ড হয়েছিল লক্ষ্মীপুরের মেঘনা উপকূল। তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ভয়াল এই দুর্যোগ ও মানুষের ক্ষয়ক্ষতিকে অস্বীকার করলেও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঠিকই গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি ত্রাণ-সামগ্রী নিয়ে ছুটে এসেছিলেন উপকূলবাসীর কাছে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, সেদিন রেডিওতে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের খবর প্রচার করা হয়েছিল। কিন্তু উপকূলে পর্যাপ্ত রেডিও না থাকায় অধিকাংশ মানুষই খবরটি জানতে পারেনি। ওই দিন সকাল থেকেই গুঁড়ি-গুঁড়ি বৃষ্টি ছিল। সন্ধ্যায় হালকা বাতাস শুরু হয়। উপকূলবাসী বুঝতে পারেনি কি হতে যাচ্ছে। এরপর আর বুঝতেও পারলো না। গভীর রাতে ভয়াল থাবায় সব লন্ডভন্ড করে দেয় ‘ভোলা সাইক্লোন’।

১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর সেই ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ের পরপরই লক্ষ্মীপুরের উপকূলে ছুটে এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু

সেই রাতে ‘ভোলা সাইক্লোন’ নামক মহাপ্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়টি ঘণ্টায় প্রায় ২২২ কিলোমিটার গতিবেগে লক্ষ্মীপুরসহ উপকূলীয় জেলা গুলোতে আঘাত হানে। ঝড় আর পাহাড়সম ¯্রােতে লন্ডভন্ড হয়ে যায় উপকূল। ভয়াল ঘূর্ণিঝড় স্মৃতি উপকূলবাসীকে আজও কাঁদায়।

জানা গেছে, ভোলা সাইক্লোনের তান্ডবে লক্ষ্মীপুরের মেঘনা উপকূলীয় রামগতি ও কমলনগর এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। মেঘনা ও ভুলুয়া নদীর উপকূলীয় চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা ৮ থেকে ১০ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। ¯্রােতে ভেসে যায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ অসংখ্য মানুষ।দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় আর জলোচ্ছ্বাসে লক্ষ্মীপুরের রামগতির মেঘনা উপকূলীয় চরআবদুল্লাহ, কমলনগরের ভুলুয়া নদী উপকূলীয় চরকাদিরাসহ নোয়াখালীর হাতিয়া, ভোলা, বরগুনা,পটুয়াখালী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় এটি হানা দেয়। চারিদিকে লাশ আর লাশ। লাশের গন্ধে মানুষ কাছে যেতে পারেনি।

১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর সেই ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ের পরপরই লক্ষ্মীপুরের উপকূলে ছুটে এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু

 

জলোচ্ছ্বাসের কারণে মাটি দেয়া যায়নি মৃত মানুষগুলোকে। সেদিনের ঘটনায় প্রায় ১০ লাখের মতো মানুষ মারা গেলেও ঝড়ের ৩দিন পর তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বিশ্বের দরবারে ঘূর্ণিঝড়টিকে তুচ্ছ প্রমাণের জন্য ৫ লাখ মৃত বলে প্রচার করেছিল।তবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঠিকই গুরুত্ব দিয়েছেন ভয়াল সেই ঘূর্ণিঝড় ও মানুষের ক্ষয়ক্ষতিকে। তাই তো ঘূর্ণিঝড়ের পরপরই তিনি ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে ছুটে এসেছিলেন লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদী উপকূলবাসীর কাছে। তখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুু শেখ মুজিবুর রহমান লক্ষ্মীপুরের ভবানীগঞ্জে তৎকালীন থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী ডা. আবুল বাশারের বাড়িতে বিশ্রাম করেছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শাহজাহান কামাল।

এদিকে ১২ নভেম্বর এলেই নির্দিষ্ট কিছু সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটিকে পালন করে। মিলাদ মাহফিল, কোরআনখানী ও নিহতদের স্মরণে স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। কিন্তু এত বড় একটি ঘটনা রাষ্ট্রীয়ভাবে স্মরণ করা হয় না। যে কারণে এই দিনটিকে ‘উপকূল দিবস’ করার দাবি উঠেছে ।

১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর সেই ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ের পরপরই লক্ষ্মীপুরের উপকূলে ছুটে এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু

 

ঘূর্ণিঝড়