বগুড়ার বিভিন্ন স্থানে বসেছে নবান্নের মাছের মেলা

বগুড়ার বিভিন্ন স্থানে বসেছে নবান্নের মাছের মেলা, “আবার জমবে মেলা বটতলা হাটখোলা, অগ্রহায়ণের ধানের ক্ষেতে…”। মহামারী করোনার কালো মেঘ কেটে যেতে শুরু করেছে। শীতের আগমনী বার্তার সাথে-সাথে আবারও বটতলায়, নদীর ধারে বাংলার ঐতিহ্যবাহী নবান্নের মাছের মেলা বসতে শুরু করেছে।

বগুড়ার বিভিন্ন স্থানে বসেছে নবান্নের মাছের মেলা

এখন মাঠে ঘাটে, বটতলায় শীতে মেলায় মানুষ আনন্দ উপভোগ করছে। নবান্নের পয়েস, পিঠা-পুলি গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য বহন করে। নতুন ধান কাটা মাড়াইয়ে খুবই ব্যস্ত কৃষক-কৃষাণী। পিঠা-পুলি পয়েসের মধ্যে থেমে নেই আনন্দ। বগুড়ার বিভিন্ন জায়গায় বসেছে মেলা। সেই মেলায় বিরাট-বিরাট মাছের দোকান স্থান পেয়েছে।

 

মেয়ের –জামাই ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের জন্য বড় মাছ কেনার প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে। এই মেলায় একদিনে প্রায় ২ কোটি টাকার মাছ ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থকে বলে জানান মাছ বিক্রেতারা।জানা গেছে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসবের পঞ্জিকা অনুসারে বৃহস্পতিবার অগ্রহায়ণের এইদিনে নবান্ন উৎসব পালন করে। প্রতিবছর এ উৎসবকে ঘিরে বগুড়ার উপজেলার ওমরপুর, রণবাঘায় মাছের মেলা বসে। আজ  নন্দীগ্রাম ও শিবগঞ্জ বসেছে মাছের মেলা। নন্দীগ্রাম উপজেলার নাগরকান্দি, হাটকড়ই, ধুন্দার ও নন্দীগ্রামে মাছের মেলা বসেছে। মাছ মেলায় অনেক জেলে, মাছ খামারি, মাছ ব্যবসায়ি তাদের মাছ এনেছেন। উপজেলাজুড়ে প্রতিটি বাড়িতেই মেয়ে-জামাইসহ স্বজনদের আগে থেকেই দাওয়াত দেয়া হয়। নবান্ন উৎসব বরণ উপলক্ষে মাছের বাজার ও নতুন বিভিন্ন ধরনের সবজির বাজর অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক।

বগুড়ার বিভিন্ন স্থানে বসেছে নবান্নের মাছের মেলা

মেলাতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে রুই, কাতলা, চিতল, বাঘাইড়, সিলভার কার্প, ব্লাডকার্প, বিগহেড, বাঘা আইড়, বোয়ালসহ হরেক রকমের মাছ। মেলা গুলোতে চলছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাছের দাম দরের হাঁক ডাক।
মাছ বিক্রেতা মিন্টু মিয়া বলেন, মেলায় ছোট-বড় মিলে প্রায় শতাধিক মাছের দোকান বসেছে। প্রত্যেক বিক্রেতা অন্তত ১০ থেকে ২০ মণ করে মাছ বিক্রি করেছেন। গুন্দইল গ্রামের মাছ বিক্রেতা মোস্তফা আলী বলেন, নবান্ন উৎসবকে ঘিরেই তারা মূলত বড়-বড় মাছ মেলায় বিক্রি করতে আনেন। তারা ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতাকে চিন্তা করে মাছের দাম কম রাখেন। এলাকা মানুষদের সঙ্গে দামের ক্ষেত্রে তেমন একটা আপত্তি করেন না।

উপজেলার কালিকাপুর গ্রাম থেকে অতিথি আপ্যায়নের জন্য মাছ কিনতে এসেছেন ধীরেন চন্দ্র। তিনি জানান, করোনায় দীর্ঘদিন মেলা বন্ধ থাকার পর এখন নবান্ন উৎসব উপলক্ষে মেলা বসে। দিনব্যাপী এই মেলায় নিত্যনতুন জিনিস পাওয়া যায়। প্রধান আকর্ষণ মাছ। অনেকে পুকুরের বড়-বড় মাছ মেলায় বিক্রি করতে আনেন।

বগুড়ার বিভিন্ন স্থানে বসেছে নবান্নের মাছের মেলা