আবারও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের টেস্ট অধিনায়ক হয়েছেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তার সহ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন দাস।

আজ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাধারণ সভা শেষে নতুন টেস্ট অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও সহ-অধিনায়ক লিটনের নাম ঘোষণা করেন সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
সদ্য টেস্ট অধি-নায়কের দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া মোমিনুল হকের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন সা-কিব।
গত মঙ্গলবার সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সাথে আলোচনার পর অধিনায়ক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্বান্ত নেন মোমিনুল।
এরপরই নতুন টেস্ট অধি-নায়ক কে হচ্ছেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। মোমিনুলের সরে যাবার সিদ্বান্তের ৪৮ ঘন্টা পার হবার আগেই জাতীয় দলের টেস্ট ফরম্যাটের অধিনায়ক হিসেবে সা-কিবের নাম ঘোষনা করে বিসিবি।
নাজমুল বলেন, ‘বোর্ডে তিনজনের নাম এসেছিল। এর মধ্যে থেকে একজনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রথমে আমাদের সিদ্ধান্ত হয়, এবার অধিনায়কের সাথে একজন সহ-অধি-নায়ক আমরা যোগ করবো।
ঐটা নিয়েই প্রথমে সিদ্ধান্ত হয় আমাদের। তারপর আসে, অধিনায়ক তাহলে কে হবে? আমরা আলাপ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সা-কিব আল হাসান টেস্ট অধি-নায়ক আর লি-টন দাস সহ-অধিনায়ক।’
এই নিয়ে তৃতীয়বার টেস্ট অধি-নায়ক হলেন সা-কিব। এর আগে ২০০৯ ও ২০১৭ সালে টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব করেছেন এই অলরাউন্ডার। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তৎকালীন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ইনজুরিতে পড়লে, অধিনায়ক হন সা-কিব।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনই ইনজুরিতে পড়েন মাশরাফি। পরে সা-কিবের নেতৃত্বে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতে বাংলাদেশ। যা বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে বিদেশের মাটিতে প্রথম সিরিজ জয়।
২০১১ সালে সা-কিবের অধীনে জিম্বাবুয়ের মাটিতে এক ম্যাচের সিরিজ হারে বাংলাদেশ। এতে অধিনায়কত্ব হারান সা-কিব। তার জায়গায় অধিনায়ক হন মুশফিকুর রহিম। তবে ২০১৮ সালে মুশফিকের জায়গায় দ্বিতীয়বারের মত টেস্ট অধি-নায়ক হন সা-কিব।
তবে ২০১৯ সাল পর্যন্ত টেস্ট অধিনায়ক থাকেন সা-কিব। জুয়াড়ির কাছ থেকে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব যথাযথ কর্তৃপক্ষকে না জানানোয় ২০১৯ সালে দুই বছরের জন্য ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হন সা-কিব। সা-কিবের জায়গায় টেস্ট অধি-নায়ক হন মোমিনুলকে।
দুই মেয়াদে, ১৪ ম্যাচে টেস্ট দলকে নেতৃত্ব দেন সা-কিব। জয় ৩টি ও ১১টি হার ছিলো।

টেস্ট ফরম্যাটে অনিয়মিত হওয়ায় সা-কিবকে অধিনায়ক করা নিয়ে দ্বিধায় ছিলো বোর্ড। তবে সা-কিব নিশ্চিত করেছেন, নিয়মিত টেস্ট খেলবেন।
বোর্ডের বেশিরভাগ সদস্য মনে করছেন নিয়মিত লংগার ভার্সনে খেললে টেস্ট ক্রিকেটে দলকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য সেরা বিকল্প সা-কিব।
মোমিনুলের অধীনে ১৭টি টেস্ট খেলে ৩টিতে জয়, ১২টিতে হার ও ২টিতে ড্র করে বাংলাদেশ। এরমধ্যে এই বছরের শুরুতে নিউজিল্যান্ডের মাঠে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ও আছে।
অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নেয়ার পর ব্যাটিং ফর্ম খারাপ হয় মোমিনুলের। অধিনায়ক হবার আগে, ৩৬ টেস্টে ৪১ দশমিক ৪৮ গড়ে ২৬১৩ রান করেছিলেন তিনি।
কিন্তু অধিনায়ক হবার পর, ১৭ টেস্টে গড় ৩১ দশমিক ৪৪-এ নেমে আসে। এই সময়ে মাত্র ৯১২ রান করেন তিনি। যার মধ্যে তিনটি সেঞ্চুরি এবং দুটি হাফ সেঞ্চুরি ছিল।
৫৩ ম্যাচে ১১টি সেঞ্চুরিসহ ৩৫২৫ রান করেছেন তিনি। অধিনায়ক হবার পর মাত্র তিনটি সেঞ্চুরি করেছেন মোমিনুল।
অধিনায়কত্ব নিয়ে মোমিনুল বলেন, ‘যখন আপনি ভালো খেলবেন, দল খারাপ সময় পার করলেও আপনি দলকে অনুপ্রাণিত করতে পারবেন। কিন্তু আমি ভালো করছি না, একই সাথে দল খারাপও করছে। তাই এই পরিস্থিতিতে দলকে নেতৃত্ব দেয়া সত্যিই কঠিন।’

প্রথম দু’বারই অধিনায়ক হিসেবে সা-কিব নিজের প্রথম ম্যাচ টেস্ট খেলেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। এবারও তৃতীয় মেয়াদে অধিনায়ক হিসেবে সাকিবের প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ।
আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে আগামী ১৬ জুন প্রথম টেস্ট খেলতে নামবে বাংলাদেশ।

Comments are closed.