চট্টগ্রাম সিটি মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, রাজনৈতিক, সামাজিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেসব ব্যক্তিগণ কৃতিত্ব রেখে মহান হয়েছেন, তাদের অবদানের ইতিহাস নিয়ে মিউজিয়াম ও স্থাপনা বা সড়কের নামফলকে লিপিবদ্ধ করার উদ্যেগ গ্রহণ করা হবে। এতে আগামী প্রজন্ম তাদের অবদানের কথা জানতে পারবে। মেয়র আজ শনিবার সকালে আন্দরকিল্লাস্থ চসিকের পুরাতন ভবনের কেবি আবদুস সাত্তার মিলনায়তনে চট্টগ্রাম পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যন মৌলভী নূর আহমদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

চট্টগ্রাম সিটি মেয়র বলেন, ইতিহাস সৃষ্টিতে চট্টগ্রামের ভূমিকা উপমহাদেশে অন্যতম। যেমন ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল ১৯০৫ সালে স্বদেশি আন্দোলনের সূচনা করে এবং ১৯২১ সালে প্রথম অসহযোগ আন্দলন শুরু করে চট্টগ্রাম।
যে কারণে মহত্মা গান্ধি নাগপুরের কংগ্রেস সম্মেলনে চট্টগ্রামের প্রসংশা করে বলেছিলেন চট্টগ্রাম সবার আগে। মরহুম নূর আহমদ চেয়ারম্যানও ছিলেন তিনি প্রশংসার দাবিদার। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে ও কনকন দাশের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন মরহুমের দৌহিত্র অধ্যাপক সেলিম জাহাঙ্গীর, ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, আবদুস সালাম মাসুম, জহর লাল হাজারী, অধ্যাপক মাসুম চৌধুরী, মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, বাগমনিরাম স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সাবিনা বেগম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক আবু তালেব বেলাল। সভার শুরুতে কোরআন তেলোয়াত করেন চসিক মাদ্রসা পরিদর্শক মাওলানা মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ চৌধুরী।

মেয়র আরও বলেন, অগ্নিযুগের মহান বিপ্লবী মাস্টার দা সূর্য সেনের নেতৃত্বে বৃটিশ উপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তির জন্য অস্ত্রাগার লুণ্ঠন ও জালালাবাদ যুদ্ধ এবং চট্টগ্রামকে কয়েকদিন স্বাধীন রেখে ইন্ডিয়ান রেভুলেশনারি আর্মির পতাকা তোলার সাহস দেখিয়েছেন বীর চট্টগ্রামের বিপ্লবীরা। বঙ্গবন্ধু প্রাদেশিক রাজধানী ঢাকাকে বাদ দিয়ে চট্টগ্রামকে গুরুত্ব দিয়ে এবং চট্টগ্রামের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে ৬ দফা ঘোষণা করেছিলেন চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দান থেকে। শুধু তা নয় মহান মুক্তিযুদ্ধে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ সূচিত হয় চট্টগ্রাম থেকেই। তাই বাঙালির ইতিহাস ঐতিহ্যে চট্টগ্রামের ভূমিকা উজ্জ্বল হয়ে আছে এবং থাকবে।
তিনি বলেন, মরহুম নূর আহমদ চেয়ারম্যান ১৯২৭ সালে চট্টগ্রামের পৌর এলাকায় বাধ্যতামূলক অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তণের মাধ্যমে দুঃসাহসী ও যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন। তা সমগ্র দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ক্ষেত্রে পথিকৃত হয়ে আছে। তারই ধারাবাহিকতায় শিক্ষা ক্ষেত্রে চসিক আজও অব্যাহত রেখেছে।
