কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক গৃহবধূ। পাঁচ শিশুর মধ্যে চার মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে এই পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন প্রসূতি সাদিয়া বেগম (২৪)। গর্ভধারণের পাঁচ মাসের মাথায় জন্ম হওয়ায় শিশুদের ওজন কম হয়েছে। বর্তমানে মা সুস্থ থাকলেও শিশুরা ঝুঁকিতে রয়েছে। সাদিয়া খাতুন কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের পান্টি গ্রামের কলেজপাড়া এলাকার সোহেল রানার স্ত্রী।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫-৬ মাসের মাথায় সাদিয়া একসঙ্গে পাঁচ সন্তান প্রসব করেছেন। একসঙ্গে পাঁচ বাচ্চার প্রসবে অনেক ঝুঁকি ছিল। তবে মা সুস্থ থাকলেও ওজন কম হওয়ায় ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা। শিশুদের দেখতে হাসপাতালের রোগী ও রোগীর স্বজনরা ভিড় করছে।
শিশুদের ছোটফুপুু রাবেয়া বলেন, সোমবার রাত ১০টায় হাসপাতালে আসি। আমরা খুবই খুশি। নরমালে বাচ্চা জন্ম দিয়েছে। শিশুরমা সুস্থ আছে। শিশুদের বাবা সোহেল রানা জানান, ২০১৬ সালের ৩০ জুলাই কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের বহলবাড়িয়া গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে সাদিয়া খাতুনকে বিয়ে করেন তিনি। সোহেলরানা একই উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের পান্টি গ্রামের কলেজপাড়া এলাকার সামাদ আলীর ছেলে।

তিনি বলেন, খুবই ভালো লাগছে। অনুভূতি প্রকাশের ভাষা পাচ্ছি না। মা সুস্থ আছে। কিন্তু শিশুর ওজন কম হওয়ায় ঢাকায় নিয়ে যেতে বলছেন চিকিৎসক। শিশুদের অক্সিজেন চলছে। তারা শিশুওয়ার্ডের দুই নম্বর রুমে নবজাতক ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সরা বলেন, সকাল ১০টার দিকে ওই গৃহবধূ পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন। মা সুস্থ রয়েছে কিন্তু শিশুরা ঝুঁকিতে আছে।জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আফরাফুল আলম জানান, বাচ্চাদের সুস্থ করে তোলার জন্য চিকিৎসা চলছে। তবে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। তাদের ওজন কম হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশুবিভাগে অথবা শিশুহাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাচ্চাগুলোর ওজন ৫০০-৬০০ গ্রাম। তবে মা সুস্থ রয়েছেন।
