আগস্টে মাসে আক্রান্ত ডেঙ্গুতে সাড়ে ৭ হাজার

আগস্টে মাসে আক্রান্ত ডেঙ্গুতে সাড়ে ৭ হাজার ,চলমান এই বছরের আগস্ট মাসের ৩০ দিনেই ডেঙ্গু এ আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৭ হাজার ৪৩২ জন এবং ১ জানুয়ারি থেকে সোমবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সরকারি আর বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তির রোগীদের সংখ্যা ১০ হাজার ৯০ জন। তাদের মধ্যে এখন পজন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮ হাজার ৮৯৫ জন। ডেঙ্গুতেআক্রান্ত হয়ে মোট মারা গেছেন ৪২ জন। এর মধ্যে ৩০ জনই মারা গেছেন চলমান আগস্টে।

 

ডেঙ্গু

 

আগস্টে মাসে আক্রান্ত ডেঙ্গুতে সাড়ে ৭ হাজার

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের মধ্যে আরো বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ২৩৩ জন ডে-ঙ্গু এর রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ২১৩ জন ঢাকায় আর ২০ জন ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে। এই নিয়ে সারা দেশের হাসপাতালে ভর্তি মোট রোগীর সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৫০ জনে। তাদের মধ্যে ঢাকার হাসপাতালে ১ হাজার চার জন এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন বিভাগের হাসপাতালে ১৪৬ জন ভর্তি আছেন। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের পরিসংখ্যানের একটি সূত্রে মাধ্যেমে এ তথ্য জানা জায়।

সূত্রটি জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ২৩৩ জনের মধ্যে ঢাকার সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতালে ৫২ জন এবং বেসরকারি হাসপাতাল আর ক্লিনিকে ১৬১ জন রয়েছেন। এছাড়া ঢাকার বাইরে বিভিন্ন বিভাগে ২০ জন ভর্তি হন। চলতি বছর এ এডিস মশাবাহিত ডেংগু আক্রান্ত হয়ে সর্বমোট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলো ১০ হাজার ৯০ জনের মধ্যে জানুয়ারিতে ৩২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৯ জন, মার্চে ১৩ জন, এপ্রিলে তিন জন, মে’তে ৪৩ জন, জুনে ২৭২ জন, জুলাই এ ২ হাজার ২৮৬ জন এবং ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ৭ হাজার ৪৩২ জন রোগী ভর্তি হয়েছিলো। মোট ভর্তি রোগীর মধ্যে ৪২ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে ১২ জন জুলাইয়ে ও আগস্টের ২৭ দিনে ৩০ জন এই রোগে মারা যান।ডেঙ্গু

এদিকে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) একটি গবেষণা শেষে জানিয়েছে, বাংলাদেশের রোগীদের মধ্যে তারা ডেঙ্গুর নতুন সেরোটাইপ বা একটি ধরন শনাক্ত করেছেন। ডেনভি-৩ নামের এই ধরনে ঢাকা এর বাসিন্দারা এই রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। এই ধরনের রোগের কারণে রক্তের কণিকা প্লাটিলেট দ্রুত কমে যায়। কারণ এর আক্রান্ত ব্যক্তিরা খুব দ্রুতভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এর ভাইরোলজি বিভাগটির প্রধান অধ্যাপক ডা. সাইফুল্লাহ মুন্সী বলেছেন, দেশে এই ডেনভি-৩ ধরনের ডেঙ্গু-ধরন আমরা প্রথম দেখতে পাই ২০১৭ সালের দিকে। তার আগে ডেঙ্গুর আরও দুইটি ধরন, ডেনভি-১ আর ২) শনাক্ত হয়েছিল। ডেনভি-১ এবং ২ এর বিরুদ্ধে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু নতুন এই ধরনটি আগের থেকে আরো অনেক বেশি ভয়ঙ্কর।